সিলেটকে ২ উইকেটে হারালো কুমিল্লা !

সিলেটকে ২ উইকেটে হারালো কুমিল্লা : বিপিএল ২০২২ এর তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় সিলেট-সানরাইজার্স এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখেই বুঝা যাচ্ছিল যে, বোলারদের জন্য এ পিচ এক বোলিং স্বর্গের মতো কাজ করবে। হয়েছেও তাই। টস জিতে সিলেট-সানরাইজার্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক ইমরুল কায়েস।সিলেটকে ২ উইকেটে হারালো কুমিল্লা, সিলেটের দুই ওপেনার

ম্যাচের শুরু থেকেই সিলেট-সানরাইজার্স ব্যাটারদের চাপে রাখে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বোলাররা। সিলেট-সানরাইজার্সের ইনিংসের প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান খরচ করেন অফস্পিনার নাহিদুল ইসলাম অপু। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেও মাত্র ৩ রান দেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে নিজেদের প্রথম উইকেট হারায় সিলেট-সানরাইজার্স।

[ সিলেটকে ২ উইকেটে হারালো কুমিল্লা ]

নাহিদুল ইসলামের করা অফ স্ট্যাম্পের বাহিরের বল কাট করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হন ওপেনার আনামুল হক বিজয়। ৯ বলে মাত্র ৩ রান করে এক প্রকার হতাশাজনক ভাবেই এবারের বিপিএল শুরু করেন আনামুল হক বিজয়। এই ওভারে মাত্র ২ রান খরচ করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অফস্পিনার নাহিদুল ইসলাম।

কুমিল্লা এবং সিলেটের মধ্যকার ম্যাচের এক চিত্র
কুমিল্লা এবং সিলেটের মধ্যকার ম্যাচের এক চিত্র

তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে নিজেদের ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি হাকান সিলেট-সানরাইজার্স ওপেনার কলিন ইংগ্রাম। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম এবং শেষ বলে একটি ছক্কা এবং একটা বাউন্ডারি হাকান ওপেনার কলিং ইংগ্রাম বা কলিন ইনগ্রাম 

পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে শহিদুল ইসলামের অফ স্টাম্পের বাহিরের বলে কাট করে একটি ৪ আদায় করে নেন ইংগ্রাম। তবে এর পরের বলেই শহিদুল ইসলামের করা ব্যাক অব দ্যা লেন্থের বল পুল করতে গিয়ে আউট হন সিলেট-সানরাইজার্স ওপেনার কলিন ইংগ্রাম।২১ বলে ২০ রান করেন কলিন ইংগ্রাম।

কুমিল্লার উদযাপন
উইকেট পাওয়ার পর কুমিল্লা

উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ঘরোয়া ক্রিকেটে চরম ফর্মে থাকা মোহাম্মদ মিথুনও। ডাউন দ্যা ট্র্যাকে লং অন অঞ্চল দিয়ে ছক্কা হাকানোর চেষ্টায় নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি।৭ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। বাহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামের স্পিন ঘুর্ণিতে নিজের উইকেট হারান সিলেট-সানরাইজার্স অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন। ৬ বলে মাত্র ৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মোসাদ্দেক।

এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন সিলেটের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার অলক কাপালি এবং রবি ভোপারা। তবে মুমিনুল হকের বলে ডীপ এক্সট্রা কাভার অঞ্চল দিয়ে ছক্কা হাকানোর চেষ্টায় ফাফ ডু প্লেসিসের দুর্দান্ত ক্যাচে নিজের উইকেট হারান তিনি। ১৯ বলে ১৭ রান করে আউট হন রবি ভোপারা। রান আউটের ফাদে কাটা পড়েন আরেক ব্যাটার অলক কাপালি।১৪ বলে ৬ রান করে আউট হন তিনি।

চাপে সিলেট ব্যাটাররা
উচ্ছ্বসিত কুমিল্লা বোলাররা

সোহাগ গাজী এবং কেসরিক উইলিয়ামস বোর্ডে কিছু রান যোগ করলেও কেউই উইকেটে থেকে থেতো হতে পারেননি। সোহাগ গাজী করেন ১৯ বলে ১২ রান যেটিতে ছিলো ১ টি চারের মার। দিনশেষে, ৯৬ রানেই অল আউট হয় সিলেট-সানরাইজার্স।

সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন ওপেনার কলিন ইংগ্রাম।কুমিল্লার পক্ষে নাহিদুল , মোস্তাফিজ এবং শহীদুল নেন ২ টি করে উইকেট। ৯৭ রানের, সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফাফ ডু প্লেসিসের উইকেট হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ৭ বলে ২ রান করেন ফাফ ডু প্লেসিস।

কুমিল্লা বনাম সিলেট
উইকেট পাওয়ার পর কুমিল্লা

ক্যামেরুন ডেলপোর্ট। দলীয় ৩৭ রানে সোহাগ গাজীর বলে এলবিডাব্লিউ এর ফাদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান আরেক ওপেনার কামেরুন ডেলপোর্ট।১৯ বলে ১৬ রানের ইনিংসে খেলেন তিনি। অষ্টম ওভারেই বল হাতে নেন সিলেট-সানরাইজার্স অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন। একই ওভারে ব্যাটার মুমিনুল হক এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের উইকেট তুলে নেন তিনি।

মুমিনুল হক ১৫ এবং ইমরুল কায়েস ফিরে যান ব্যাক্তিগত ১০ রানে। দশম ওভারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ব্যাটার আরিফুল হকের উইকেট তুলে নিয়ে খেলা জমিয়ে তুলেন সিলেট-সানরাইজার্সের বাহাতি অফস্পিনার নাজমুল হাসান অপু। এরপরেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ব্যাটার নাহিদুল ইসলাম অপু এবং কারিম জান্নাত দ্রুত গতিতে রান তোলা শুরু করেন।ত্রয়োদশ ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৮২ রানে তাসকিন আহমেদের বলে কেসরিক উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ব্যাটার কারিম জান্নাত।

চতুর্দশ ওভারের দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফিরেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ব্যাটার নাহিদুল ইসলাম।ষোড়শ ওভারের তৃতীয় বলে নাজমুল ইসলামের বলে শহীদুল ইসলাম নিজের উইকেট বিলিয়ে দিলে ,জয়ের আশা জেগে উঠে সিলেট শিবিরে। তবে শেষের দিকে সিলেট-সানরাইজার্স উইকেটকিপার মাহিসুল হাসান অংকন এবং তানভির ইসলামের ধীর গতির ব্যাটিং আর কোনো অঘটন ঘটতে দেয়নি।কুমিল্লার পক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন কারিম জান্নাত।

সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট নেন নাজমুল ইসলাম অপু। এছাড়াও, সোহাগ গাজী এবং মোসাদ্দেক হোসেন নেন ২ টি করে উইকেট। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অলরাউন্ডার নাহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন