হারারেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

একমাত্র টেস্টে হারের পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও স্বাগতিকদের কাছে পরাস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেটি রূপ নিয়েছিল বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না টাইগারদের সামনে। তবে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের সেই চেনা বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না মেহেদী হাসান মিরাজের দল। হারারেতে তীব্র লড়াইয়ের পর ১৩ রানে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে শুরুতে বোলারদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। তবে স্বাগতিক ব্যাটারদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের সেই পরিকল্পনা সফল হতে পারেনি।

বেন কুরানের সেঞ্চুরি ও জিম্বাবুয়ের পুঁজি

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা বেশ গোছানো ছিল। স্বাগতিক ওপেনার বেন কুরানের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে। কুরান শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেন। ১৩৫ বল খেলে ৯টি চারের সাহায্যে ১১১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

মাঝের ওভারে সিকান্দার রাজা দলের হাল ধরেন। তিনি ৫৩ বলে ৩৩ রান করে আউট হলেও শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান ব্রাড এভান্স। মাত্র ৩৮ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৫৮ রানের একটি ঝড়ো ও অপরাজিত ইনিংস খেলেন এভান্স। তাঁর এই ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করেই আড়াইশর কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্বাগতিকদের স্কোর। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে পেসার তাসকিন আহমেদ ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

ভালো শুরুর পর বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বরাবরের মতোই শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৩৮ রানের মাথায় ওপেনার সৌম্য সরকার ও ওয়ানডাউনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত বিদায় নেন। সৌম্য ১০ বলে ৫ রান এবং শান্ত ১৬ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে দল যখন কাঁপছিল, তখন ক্রিজে এসে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তাওহিদ হৃদয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

দলওভাররান/উইকেটমূল পারফর্মার
জিম্বাবুয়ে৫০.০২৪৭/৬বেন কুরান ১১১ (১৩৫), ব্রাড এভান্স ৫৮* (৩৮)
বাংলাদেশ৪৮.১২৩৪/১০তাওহিদ হৃদয় ৬০ (৮৩), তানজিদ তামিম ৫৭ (৭২)
বোলিং (জিম্বাবুয়ে)রিচার্ড নাগারাভা ৩/৩৮
বোলিং (বাংলাদেশ)তাসকিন আহমেদ ২/৪৫, মেহেদী মিরাজ ২/৪৫

ম্যাচের ফলাফল: জিম্বাবুয়ে ১৩ রানে জয়ী এবং এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল।

তৃতীয় উইকেটে তানজিদ ও হৃদয় মিলে ৮৪ রানের একটি চমৎকার পার্টনারশিপ গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন। দুজনেই তুলে নেন নিজ নিজ হাফসেঞ্চুরি। তানজিদ তামিম ৫৭ রান এবং তাওহিদ হৃদয় ৬০ রান করে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। এই দুই সেট ব্যাটার বিদায় নিতেই আবার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার।

শেষ দিকে উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ৩৮ ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭ রান করে দলের জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে লোয়ার অর্ডারের অন্য কোনো ব্যাটার তাঁদের যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। ফলস্বরূপ, ৪৮ ওভার ১ বলে ২৩৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিচার্ড নাগারাভা, তিনি একাই তুলে নেন ৩টি উইকেট। এই হারের ফলে শেষ ম্যাচটি এখন বাংলাদেশের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর আনুষ্ঠানিকতার লড়াইয়ে পরিণত হলো।

মন্তব্য করুন