মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে জিতলো কুমিল্লা; ফ্লেচার-সৌম্য ঝড়ে জয়ের ধারায় খুলনা

মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে জিতলো কুমিল্লা; ফ্লেচার-সৌম্য ঝড়ে জয়ের ধারায় খুলনা !

মোস্তাফিজের ৫ উইকেটে , চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়ে বিপিএল ২০২২ এ আবারো জয়ের ধারায় ফিরলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবারের বিপিএলের প্রথম ৫ উইকেট নিলেন মোস্তাফিজ। শুরুটা ভালোই হয়েছিল চট্টগ্রামের ।

দুই ব্যাটার শামীম হোসেন এবং উইল জ্যাকস যখন বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম ডেরায় আঘাত হানেন মোস্তাফিজ।

মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে জিতলো কুমিল্লা; ফ্লেচার-সৌম্য ঝড়ে জয়ের ধারায় খুলনা
৫ উইকেট নেয়ার পর মোস্তাফিজ

চট্টগ্রামের দলীয় ১০৯ এবং ১১৫ রানে , ব্যাটার শামীম হোসেন এবং উইল জ্যাকসের উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের রান তোলার গতি মন্থর করে দেন মোস্তাফিজ।  এরপর, এক এক করে বেনি হাওয়েল, নাইম ইসলাম , মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট তুলে পুরো চট্টগ্রাম ব্যাটিং লাইনআপকে পঙ্গু করে দেন মোস্তাফিজ। একে একে করে তুলে নেন ৫টি উইকেট এবং এবারের বিপিএলে সেরা বোলিং ফিগার এটিই।

এর আগে টস হেরে  ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চট্টগ্রাম ওপেনার চ্যাডউইক ওয়ালটনের উইকেটে তুলে নেন অফস্পিনার নাহিদুল ইসলাম। এরপর  দলীয় ৬২ রানে আফিফ হোসেন প্যাভিলিয়নে ফিরলে উইল জ্যাকস এবং শামীম হোসেন দলের হাল ধরেন।

চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন উইল জ্যাকস।  কুমিল্লার হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান রহমান ৫ উইকেট এবং অফস্পিনার নাহিদুল ইসলাম ও বাহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম ১টি করে উইকেট  নেন।

ডাকওার্থ লুইস মেথডের কারণে, ১৮ ওভারে কুমিল্লা ভিক্টরিয়ান্সের টার্গেট দাড়ায় ১৪৪ রান। বিপিএল ২০২২ এ প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। অধিনায়ক শুরুটা বেশ ভালোভাবেই রাঙ্গিয়ে তোলেন আরেক ওপেনার লিটন দাসের সঙ্গে। শুরু  থেকেই বেশ দায়িত্বের সঙ্গে ব্যাট করতে থাকেন অধিনায়ক ইমরুল এবং ব্যাটার লিটন।

 

মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে জিতলো কুমিল্লা; ফ্লেচার-সৌম্য ঝড়ে জয়ের ধারায় খুলনা

 

[ মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে জিতলো কুমিল্লা; ফ্লেচার-সৌম্য ঝড়ে জয়ের ধারায় খুলনা ]

পাওয়ারপ্লেতে  ৭.৬৬ রেটে তারা ৪৬ রান যোগ করেন। উইকেটে যত সময় অতিবাহিত করতে থাকেন , ঠিক ততই সেট হতে থাকেন সুই ব্যাটার। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই বেনি হাওয়েলের বলে ডিপ এক্সট্রা কাভার রিজিওন থেকে দিনের প্রথম ছক্কা  হাকান অধিনায়ক ইমরুল।

এরপর থেকে রানের গতি আর মন্থর হতে দেননি। ক্রিজের অপর প্রান্ত থেকে অধিনায়কে ভালোই সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছিলেন লিটন। ইমরুল এবং লিটন উভয়েই করেছেন অর্ধশত। তবে ষোড়শ ওভারের প্রথম বলেই মৃত্যুঞ্জয়ের বলে নিজের উইকেট হারান লিটন।

তবে, ৬২ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থেকেছেন কুমিল্লা অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। নিজের ৫ উইকেটের কারণে , ম্যাচ সেরা হন মোস্তাফিজুর রহমান।

দিনের প্রথম ম্যাচ , সিলেট সানরাইজার্সকে ৯ উইকেটে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরলো মুশফিকের খুলনা টাইগার্স।

মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে জিতলো কুমিল্লা; ফ্লেচার-সৌম্য ঝড়ে জয়ের ধারায় খুলনা
সৌম্য এবং ফ্লেচার

মিরপুরে দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় খুলনা। ইনিংসের শুরুতেই ইনফর্ম ব্যাটার আনামুল হক বিজয়কে হারায় সিলেট। দলীয় ২৪ রানে আরেক ইনফর্ম ব্যাটার লেন্ডল সিমন্সকে হারায় তারা।

দলীয় ৩৪ রানে ব্যাটার কলিন ইনগ্রামকে হারিয়ে বিপদে পড়ে সিলেট। খুলনা বোলার নাবিল সামাদের ৪ ওভারের ইকোনোমিকাল স্পেলে ইনিংসের রান রেটও সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল সিলেট।

তবে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং ব্যাটার মোহাম্মদ মিথুন, সাময়িক চাপ সামাল দেন। এ দুই ব্যাটার মিলে করেন ৬৮ রানের এক জুটি। দলীয় ১০২ রানে খালেদ আহমেদের বলে জাকের আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সিলেট অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

তবে থেমে থাকেননি ব্যাটার মোহাম্মদ মিথুন। উইকেটের এক প্রান্ত থেকে একাই লড়াই করে যাচ্ছিলেন তিনি। ৫১ বলে ৭২ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ মিথুন, যেখানে ছিলো ৬টি চার এবং ৪টি ছয়ের মার।

শেষ বলে ব্যাটার নাদিফ চৌধুরীর ছক্কায় ১৪৩ রানের লড়াকু টোটাল পায় সিলেট সানরাইজার্স।খুলনার পক্ষে সর্বোচ্চ ২ টি উইকেট নিয়েছেন পেসার খালেদ আহমেদ। এছাড়াও, ১ টি করে উইকেট নেন নাবিল, রাব্বি এবং সৌম্য।

মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে জিতলো কুমিল্লা; ফ্লেচার-সৌম্য ঝড়ে জয়ের ধারায় খুলনা
সৌম্য সরকার

১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন খুলনার দুই ওপেনার, অ্যান্ড্রি ফ্লেচার এবং সৌম্য সরকার।ইনিংসের প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান দিলেও এর পরের ওভার থেকে পুরোদমে অ্যাটাকিং ব্যাটিং করতে থাকে ফ্লেচার এবং সৌম্য।

সে ওভারে সোহাগ প্রথম তিন বলেই ২টি চার এবং ১টি ছয় মারেন ফ্লেচার। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ এবং পঞ্চম বলে পরপর দুটি চার হাকিয়ে ফ্লেচারের পাশাপাশি নিজেরও উপস্থিতির বার্তা দেন খুলনা ওপেনার সৌম্য সরকার।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সিলেটের অন ফর্ম বোলার নাজমুল ইসলাম অপুর প্রথম ওভারেই ১টি ছয় এবং ২ টি চারের মার। দলীয় ৯৯ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে।

ব্যাক্তিগত ৪৩ রানে নাজমুল ইসলাম অপুর বলে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান সৌম্য। তবে ৪৭ বলে ৭১ রান করে অপরাজিত ছিলেন, স্পাইসম্যান অ্যান্ড্রে ফ্লেচার।যার কারণে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন অ্যান্ড্রে ফ্লেচার।

আরও পড়ুন:

“মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে জিতলো কুমিল্লা; ফ্লেচার-সৌম্য ঝড়ে জয়ের ধারায় খুলনা”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন