মুশফিকুর রহিমের যত কীর্তি… [ Mushfiqur Rahim ]

মুশফিকুর রহিমের যত কীর্তি… [ Mushfiqur Rahim ]

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার কে?

সবার জবাব একই রকম আসবে। নাম মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারের শুরুতে বিশ, বাইশ গড়ের এক সাধারণ ব্যাটসম্যান থেকে ছত্রিশ গড়ের ভালো ব্যাটসম্যান হওয়ার পেছনে মুশফিকুর রহিম যে পরিমাণ কষ্ট আর শ্রম দিয়েছেন সেটিকে অবশ্যই সবার সম্মান করা উচিৎ। যে পড়া অন্য অনেকের একবার পড়ে মুখস্থ হয়ে যায় সেটা মুশফিক দিনের পর দিন পড়ে মুখস্থ করেছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ক্লাসরুমের সবচেয়ে পরিশ্রমী ছাত্রের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রেকর্ডবুক একটু উল্টানো যাক!

মুশফিকুর রহিম
মুশফিকুর রহিম

লর্ডসে ‘বেবি ফেস’ দিয়ে শুরু মুশফিকুর-রহিমের৷ লর্ডস দিয়েই অভিষেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। সহজ করে বললে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে৷ সেখানেই রেকর্ড এর শুরু। লর্ডস ইতিহাসে সবচাইতে কম বয়সে টেস্ট অভিষেকের রেকর্ড। যা এখনো বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি বল না করা ক্রিকেটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিকুর। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকুর ৫ম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ইতিহাসে মুশফিকুর-রহিম এরমধ্যে ১০ম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ইতিহাসে মুশফিকুর রহিম ৫ম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকুর রহিম ৬ষ্ঠ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। মুশফিকুর দেড়শত বছরের ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান যার টেস্টে দুটো ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। মুশফিকুর-রহিম একমাত্র উইকেটরক্ষক অধিনায়ক যার বিদেশের মাটিতে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। আর একমাত্র বাংলাদেশী যার রয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি, যেখানে দুটিও নেই কারো। বাংলাদেশের ডাবল সেঞ্চুরি যেখানে পাঁচ, মুশির একাই সেখানে তিন।

মুশফিকুর রহিম
মুশফিকুর

বাংলাদেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ জয় পাওয়া ক্রিকেটারের নামও মুশফিকুর। তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিকুর। ওয়েলিংটনে সাকিব আল হাসানের ৩১ বাউন্ডারিতে ২৭৪ বলে ২১৭ রানের অনবদ্য ইনিংস ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি সঙ্গে ছিল মুশফিকুরের ১৫৯ রানের ইনিংস। দুজন মিলে সেদিন পঞ্চম উইকেটে গড়েছিলেন আমাদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৫৯ রানের জুটি। তা টিকে আছে এখনো।

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই, সবমিলিয়ে ৬১তম, ৪০ তম ডানহাতি ও তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬০০০ ওয়ানডে রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিকুর-রহিম। ৬০০০ ওয়ানডে রান করতে মুশফিকুর বল খেলেছিলেন ৭৬১৩ টি। মুশফিকুর রহিম ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬০০০ রান করেছেন তিলেকারত্নে দিলশান, মাহেলা  জয়াবর্ধনে, আজহারউদ্দীন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, স্টিভেন ফ্লেমিং, সনাথ জয়সুরিয়া, শোয়েব মালিক, ইউনুস খান, অ্যালন বোর্ডার, স্টিভ ওয়াহদের মতো কিংবদন্তীদের চেয়েও কম ইনিংসে।

মুশফিকুর রহিমের যত কীর্তি… [ Mushfiqur Rahim ]

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মুশফিকুর পেরিয়েছেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শততম জয়। অর্জনটা বাংলাদেশের জন্য অনেক। আমরা যে কম পরিমাণ ওয়ানডে ম্যাচ খেলতাম একটা সময়, ভাবাই যেতো না কেউ স্পর্শ করবে এই কীর্তি। ছোট্ট মুশি জয়ের হিমালয় চূড়ায় বসেছিলেন। ওয়ানডে ইতিহাসের ৮ম সর্বোচ্চ ডিসমিসাল করা উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি  ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০০০ রান ও ২০০ ডিসমিসাল করা চারজন উইকেটরক্ষকের একজন মুশফিকুর।

টেস্ট ইতিহাসে ৩৫০০ রান ও ১০০ ডিসমিসাল করা দশ উইকেটরক্ষকের একজন মুশফিকুর । ক্রিকেট বিশ্বকাপে শতক আছে ১১ জন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। যার একজন মুশফিকুর, তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপে অজিদের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন। ক্রিকেট বিশ্বকাপে ৮০০ রান ও ২০ ডিসমিসাল করা তিনজন উইকেটরক্ষকের একজন রহিম। আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি  বিশ্বকাপে ২০০ রান ও ১০ ডিসমিসাল করা পাঁচজন উইকেটরক্ষকের একজন মুশফিকুর।

মুশফিকুর রহিম
মুশফিকুর

বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে, আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড মুশফিকুর রহিমের। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে তিন ডাবল সেঞ্চুরি মিস্টার ডিপেন্ডেবলের। বাংলাদেশের টেস্টের সর্বোচ্চ, ওয়ানডের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই উইকেটকিপার ব্যাটার। দেশের ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি এসেছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৯ রানে আউট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ২০১৮ তে আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৯ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ৩৮০৪ আন্তর্জাতিক রান করেছেন মুশফিকুর-রহিম।

ক্রিকেট বিশ্বকাপে একইসঙ্গে ৮০০ এর অধিক রান ও ২৫ এর অধিক ডিসমিসালের রেকর্ড আছে মাত্র তিনজন উইকেটরক্ষকের; এরমধ্যে আমাদের মুশফিকুর একজন। বাকী দুজন কুমার সাঙ্গাকারা আর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর  আইসিসির প্লেয়ার অব দ্যা মান্থ নির্বাচিত হোন। ২০৩২ সালের মে মাসে মুশি জিতেন এই পুরষ্কার। একই মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ম্যান অব দ্যা সিরিজ জিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।

অধিনায়ক মুশফিক বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৭ টি ওয়ানডে ম্যাচ, জয় পেয়েছেন ১১ ম্যাচে, পরাজয় ২৪ ম্যাচে, বাকী দুই ম্যাচ পরিত্যক্ত। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন শুরু করেন এই ব্যাটার। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে নিজেদের সেরা সাফল্যে রানার্সআপ হয় ২০১২ সালে।

টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে এবং সিরিজ ভাগাভাগি করে। বিদেশের মাটিতে আছে কিছু দাপুটে জয় এবং ম্যাচ ড্র এর অর্জন। ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ অ-১৯ দলকে। সেবার প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সালে মুশফিকুর রহিমের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেন। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পেরিয়েছেন ৪০০ ডিসমিসাল। স্বীকৃত ক্রিকেটে ২০০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বগুড়ার এই ক্রিকেটার।

আরও পড়ুন:

 

মন্তব্য করুন