নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা

নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা !!!

এ যেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপে , নর্দ্যাম্পটনে  ছেলেদের পাকিস্তান বধের পুনরাবৃত্তি। সেদিন ওয়াসিম আকরাম, সাইদ আনওয়ার, ইনজামাম উল হকের মতো তারকাদের হারিয়েছিল বাংলাদেশের অনভিজ্ঞ ব্যাটিং এবং বোলিং লাইন আপ। সে ম্যাচে, পাকিস্তানকে ২২ রানে হারায় বাংলাদেশ। সেদিন এক অনন্য ইতিহাস গড়েছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। হ্যা, বলছি ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ছেলেদের প্রথম বিজয়গাথার কথা।

ঠিক তেমনি, আজ এক স্মরণীয় দিন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের জন্য। নিজের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপেই পাকিস্তানকে ৯ রানে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম জয় পেলো বাংলাদশ।

 

নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা
ব্যাট করছেন নিগার সুলতানা এবং ফারজানা হক

 

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয় এসেছে পাকিস্তানের নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে। গত বছর ,হারারেতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে জয় পায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বাছাই থেকে মূল পর্বে এসেও ফলের পরিবর্তন হয়নি।

[ নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা ]

হ্যামিল্টনে, টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা, বেশ ভালোই হয় বাংলাদেশের নারীদের। ফারজানা হকের ৭১ আর উদ্বোধনী ব্যাটার শারমিন আক্তার (৪৪) ও অধিনায়ক নিগার সুলতানার (৪৬) দুটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংসে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের নারীরা। তাই এ স্কোরের মাধ্যমে, নিজেদের জয়ের স্বপ্ন দেখছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন ফারজানা হক। ওপেনার সিদরা আমিনের ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল , ম্যাচটি বেশ কিছু বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নিবেন পাকিস্তানি মেয়েরা। তবে, বিধি বাম। বাংলাদেশী নারীদের হার না মানা উদ্যমে পাকিস্তানের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলার বাঘিনীরা।

২৩৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ হয় পাকিস্তানেরও। উদ্বোধনী জুটিতেই নাহিদা খাতুনের (৪৩) সঙ্গে মিলে সিদরা আমিন যোগ করেন ৯১ রান।

 

নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা
উইকেট পাওয়ার পর বাংলাদেশ দল

 

২৪তম ওভারে রুমানার বলে বোল্ড হয়ে নাহিদা ফিরলেও অধিনায়ক বিসমাহ মারুফের (৩১ রান) সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে আবার ৬৪ রানের জুটি করেন সিদরা। এর মধ্যে অর্ধশতক হয়ে যায় তাঁর, ৮৫ বলে। ৩৮তম ওভারে, ১৫০ পেরিয়ে যায় পাকিস্তানের।

৩৮তম ওভারে, পেসার জাহানারা আলমের বলে শারমিন আক্তারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বিসমাহ । এরপর, ওমাইমা সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে আবার জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সিদরা। ৪২তম ওভারের প্রথম বলে পাকিস্তান ১৮০ পেরিয়ে গেলে হারের শঙ্কা জেঁকে বসে বাংলাদেশ শিবিরে। বাংলাদেশের জয় বুঝি আর পাওয়া হলো না, এমনটাই মনে হচ্ছিল তখন। তবে, সে ওভারের শেষ ফাহিমার বলে দারুণ ক্যাচে ওমাইমাকে (১০) সাজঘরে ফেরালেন ফারজানা সেখান থেকেই ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাড়ানোর শুরু বাংলাদেশের।

পরের ওভারের তৃতীয় বলে রুমানার বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন নিদা দার। তার পরের ওভারে দ্বিতীয় ও তৃতীয়—পরপর দুই বলে দুটি এলবিডব্লুতে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাই জাগিয়ে তুললেন লেগস্পিনার ফাহিমা। নিদা দারের মতো দুই ব্যাটার আলিয়া রিয়াজ ও ফাতিমা সানা ,ফিরলেন প্রথম বলে ০ রানে।

 

নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা
উইকেট পাওয়ার পর ফাহিমার বাঁধভাঙা উল্লাস

 

তবে, হ্যাট্ট্রিক করতে পারেননি ফাহিমা। ওভারের শেষ বলে আবার আঘাত বাংলাদেশের। এবার রানআউট সিদরা। তবে ততক্ষণে ৯৬ রানে ব্যাট করতে থাকা সিদ্রা আমিন নন, নতুন ব্যাটার সিদরা নাওয়াজ ফিরলেন রানআউটে কাটা পড়ে।ততক্ষণে বোলারদের নাটকীয় কামব্যাকে জয়ের স্বপ্নে আবারো বিভর পুরো বাংলাদেশ দল ।

তবে ক্রিজে তখনও, সিদরা আমিন ছিলেন বলেই একটু অস্বস্তি ছিল বাংলাদেশের। ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বলে রুমানাকে কাভারে ঠেলে ১ রান নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পেলেন সিদরা। তাঁর শতকটি মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারেরই প্রথম। শতকটি হাকাতে তিনি ১৩৬ বল খরচ করেন। অষ্টম উইকেটে ডায়ানা বেগকে (১২) নিয়ে ২১ রানের জুটিতে আবারো পাকিস্তানের দিকে ম্যাচটা টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিদরা। কিন্তু এরপরের ৭ বলের মধ্যে পাকিস্তানের স্বপ্ন শেষ!

৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে দলকে ২০৯ রানে রেখে আউট হন ডায়না। তার ছয় বল পরেই রানআউট হয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন সিদরা।  এরপর শুধুই আনুষ্ঠানিকতা! তাতে পাকিস্তান অলআউট না হলেও, ২২৫ রানের বেশি করতেও পারেনি। দিন শেষে বাংলার বাঘিনীরা ৯ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

এ জয় নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন টাইগ্রেস কাপ্তান নিগার সুলতানা জোতি। তিনি বলেন,”‘আমি এ জয়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এটি বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম জয়। আমরা ইতিহাস গড়েছি। এই জয়ের ধারাবাহিকতা আমরা সামনের ম্যাচগুলোতেও টেনে নিয়ে যেতে চাই।পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ওয়ানডে বাছাইপর্বের জয়টি আজকের ম্যাচে দারুণ কাজে লেগেছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক নিগার, ‘আমরা পাকিস্তান দলকে খুব ভালো করেই চিনি, জানি। আমরা একে অন্যের বিপক্ষে অনেকবার খেলেছি। বাছাইপর্বেও আমরা পাকিস্তানকে শেষ ওভারে হারিয়েছিলাম।”

১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলার ছেলেরা যেভাবে পাকিস্তানকে হারিয়ে নিজের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছিলেন, ঠিক একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের জয়ও তুলে নিলেন বাংলার মেয়েরা।

 

নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা

“নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা”-এ 2-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন