শাস্তির মুখে নিগার সুলতানা জ্যোতি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের হতাশা কাটার আগেই নতুন করে শাস্তির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে লেভেল-১ অপরাধে তিরস্কার জারি করেছে এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের ইনিংস চলাকালে আউট হওয়ার পর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জ্যোতি। মাঠ ছাড়ার সময় তিনি রাগের বশে ব্যাট মাটিতে ছুঁড়ে মারেন। আইসিসি এই আচরণকে ক্রিকেট সরঞ্জামের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য।

আইসিসির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ মাসে এটি নিগার সুলতানা জ্যোতির প্রথম শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা। ফলে তাকে কেবল তিরস্কার ও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানী দাসের দেওয়া শাস্তি জ্যোতি স্বীকার করে নেওয়ায় এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

এই ঘটনার অভিযোগ উত্থাপন করেন ম্যাচের দায়িত্বপ্রাপ্ত আম্পায়াররা। মাঠের আম্পায়ার এলোইস শেরিডান ও সাথিরা জাকির জেসি, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার চম্পা চাকমা সম্মিলিতভাবে বিষয়টি রিপোর্ট করেন। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই আইসিসি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আইসিসির আচরণবিধি অনুযায়ী, লেভেল-১ অপরাধ তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর হলেও এটি খেলোয়াড়দের আচরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অপরাধের জন্য সাধারণত তিরস্কারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা এবং ১ থেকে ২টি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে। ডিমেরিট পয়েন্ট ভবিষ্যতে জমা হলে তা বড় ধরনের শাস্তিতে রূপ নিতে পারে, যেমন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা।

নিম্নে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিবরণ
খেলোয়াড়নিগার সুলতানা জ্যোতি
প্রতিপক্ষশ্রীলঙ্কা
ম্যাচতৃতীয় টি-টোয়েন্টি
তারিখ২ মে
ভেন্যুসিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম
অপরাধের ধরনক্রিকেট সরঞ্জামের অপব্যবহার
শাস্তিতিরস্কার ও ১ ডিমেরিট পয়েন্ট
ম্যাচ রেফারিসুপ্রিয়া রানী দাস
রিপোর্টকারী আম্পায়ারএলোইস শেরিডান, সাথিরা জাকির জেসি, রোকেয়া সুলতানা, চম্পা চাকমা

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আচরণবিধি মেনে চলা খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক। মাঠে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা রোধে আইসিসি নিয়মিতভাবে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

Leave a Comment