মুস্তাফিজের দ্য হান্ড্রেড অভিষেকে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ খেলতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাঁকে পুরো আসরে অংশ নেওয়ার জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটিতে মাঠে নামতে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা থাকছে না। এর মধ্য দিয়ে দ্য হান্ড্রেডে অংশ নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়তে চলেছেন তিনি।

ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ-এর তথ্য অনুযায়ী, বিসিবি মুস্তাফিজকে ২০ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত এনওসি দিয়েছে। ফলে ২১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া দ্য হান্ড্রেডের ষষ্ঠ আসরের পুরো মৌসুমেই তিনি বার্মিংহাম ফিনিক্সের হয়ে খেলতে পারবেন। আন্তর্জাতিক ব্যস্ত সূচির মধ্যেও বিসিবির এই অনুমতি তাঁর জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

এর আগে অনুষ্ঠিত দ্য হান্ড্রেডের ড্রাফটে এক লাখ পাউন্ড ভিত্তিমূল্যে মুস্তাফিজকে দলে ভেড়ায় বার্মিংহাম ফিনিক্স। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া দেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে ডেথ ওভারের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বোলার হিসেবে পরিচিত মুস্তাফিজ এবার তাঁর বৈচিত্র্যময় কাটার, স্লোয়ার ডেলিভারি এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থের দক্ষতা ইংল্যান্ডের আরেকটি বড় মঞ্চে প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিবেশ অবশ্য তাঁর কাছে একেবারেই নতুন নয়। ২০১৬ সালে সাসেক্সের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে অভিষেকের মাধ্যমে ইংলিশ ঘরোয়া ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। এরপর বিভিন্ন সময়ে কাউন্টি ক্রিকেটেও অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের উইকেট ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে অন্য অনেক বিদেশি পেসারের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। সেই অভিজ্ঞতাই এবার বার্মিংহাম ফিনিক্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে সফরে রয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুই দলের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই বুলাওয়েতে। সিরিজ শেষ করেই তিনি সরাসরি ইংল্যান্ডে উড়ে গিয়ে নতুন দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। ফলে মূল প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগে অনুশীলন ও দলের পরিকল্পনার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্যও কিছুটা সময় হাতে পাবেন তিনি।

বার্মিংহাম ফিনিক্সের জন্যও মুস্তাফিজের অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে শেষ দিকে রান নিয়ন্ত্রণে তাঁর দক্ষতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করতে কাটারভিত্তিক বোলিং এবং চাপের মুহূর্তে উইকেট তুলে নেওয়ার সামর্থ্যের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে চাহিদাসম্পন্ন একজন পেসার।

এদিকে শুধু মুস্তাফিজই নন, আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারও বিদেশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। জাতীয় দলের ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করে গ্লোবাল সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলবেন। আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এই সুযোগ তাঁর অভিজ্ঞতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদও ইংল্যান্ডে নিজের দারুণ ছন্দ ধরে রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি কাউন্টি ক্লাব কেন্ট স্পিটফায়ার্সের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের গ্রুপ পর্বের শেষ তিনটি ম্যাচ খেলবেন। এর আগে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচে ১২টি উইকেট নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। নতুন বলে সুইং এবং ধারাবাহিক গতির মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই ইংল্যান্ডের ক্রিকেট অঙ্গনে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন খেলোয়াড়রা ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, অন্যদিকে বিশ্ব ক্রিকেটেও বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় দ্য হান্ড্রেডে মুস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা, নতুন এই মঞ্চেও নিজের স্বকীয় বোলিং দিয়ে তিনি সাফল্যের নতুন গল্প লিখবেন।

মন্তব্য করুন