বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে জিম্বাবুয়ে। একমাত্র টেস্টে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটানো স্বাগতিকরা এবার সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে চায়। ঘোষিত দলে ফিরেছেন চার ক্রিকেটার—ইনোসেন্ট কাইয়া, রায়ান বার্ল, তাদিওয়ানাশে মারুমানি এবং ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে দল সাজিয়ে সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের লক্ষ্য নিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
ফিরে আসা ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আবারও নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার দুটি টেস্ট সেঞ্চুরিই এসেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে, যা এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তার আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ বহন করে। শুধু জাতীয় দলেই নয়, বাংলাদেশ সফরে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়ে ওয়ানডে ম্যাচেও শতক করেছিলেন কাইয়া। ফলে সীমিত ওভারের সিরিজে তার ওপর বাড়তি নজর থাকবে।
অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রায়ান বার্লও আবার ওয়ানডে দলে ফিরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়ে তিনি ৫০ ও ২০ রানের দুটি কার্যকর ইনিংস খেলেছিলেন। এর আগে মার্চ মাসে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুটি শতক করে নিজের ব্যাটিং সক্ষমতারও প্রমাণ দেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই জাতীয় দলের স্কোয়াডে আবার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ব্যাটের পাশাপাশি তার কার্যকর স্পিন বোলিংও দলের ভারসাম্য বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া উইকেটকিপার-ব্যাটার তাদিওয়ানাশে মারুমানি এবং বাঁহাতি স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজার প্রত্যাবর্তনও জিম্বাবুয়ের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই দুই ক্রিকেটারের উপস্থিতি দলে বিকল্প বাড়িয়েছে এবং একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও টিম ম্যানেজমেন্টকে বাড়তি সুযোগ দেবে।
ওয়ানডে দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তিনি খেলেননি। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের অন্যতম ভরসার নাম হওয়ায় তাকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই ধারাবাহিক অবদান রেখে আসছেন তিনি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে, আগের ওয়ানডে সিরিজে থাকা কয়েকজন পরিচিত মুখ এবার স্কোয়াডে জায়গা পাননি। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন ব্রেন্ডন টেলর, শন উইলিয়ামস, জনাথন ক্যাম্পবেল, টনি মুনিয়োঙ্গা এবং ট্রেভর গওয়ান্ডু। পুনর্বাসন কর্মসূচিতে থাকায় শন উইলিয়ামসকে এই সিরিজের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। ফলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি কিছুটা থাকলেও নতুন ও প্রত্যাবর্তন করা ক্রিকেটারদের ওপরই বেশি আস্থা রেখেছে নির্বাচকরা।
বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৬ জুলাই। হারারে স্পোর্টস ক্লাবেই অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ম্যাচ। একই মাঠে ৯ জুলাই দ্বিতীয় এবং ১১ জুলাই তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি ম্যাচই দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সিরিজের মাধ্যমে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ থাকবে উভয় পক্ষের সামনে।
একমাত্র টেস্টে জয় দিয়ে সিরিজের শুরুটা স্মরণীয় করেছে জিম্বাবুয়ে। সেই সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, টেস্টের হতাশা পেছনে ফেলে ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের। ফলে দুই দলের মধ্যকার এই লড়াই যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে যথেষ্ট প্রত্যাশা রয়েছে।
জিম্বাবুয়ের ঘোষিত স্কোয়াডের নেতৃত্বে থাকছেন রিচার্ড এনগারাভা। তার সঙ্গে রয়েছেন সিকান্দার রাজা, ক্রেইগ আরভিন, ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, ইনোসেন্ট কাইয়া, বেন কারান, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাদান্দে, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজাসহ আরও কয়েকজন ক্রিকেটার। চারজনের প্রত্যাবর্তনে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গঠন করেছে জিম্বাবুয়ে। টেস্টে পাওয়া আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এবার ওয়ানডে সিরিজেও সাফল্যের ধারা ধরে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
![চার প্রত্যাবর্তনে শক্তিশালী জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে দল 1 চার প্রত্যাবর্তনে শক্তিশালী জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে দল 2 Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/07/চার-প্রত্যাবর্তনে-শক্তিশালী-জিম্বাবুয়ে-ওয়ানডে-দল-2.png)