কোহলির টি-টোয়েন্টি জুটির বিশ্বরেকর্ড

ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন ভারতীয় ব্যাটার বিরাট কোহলি। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি—দুই ধরনের ক্রিকেটেই নিয়মিত নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছেন তিনি। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে খেলতে নেমে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরেকটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

ম্যাচটিতে ব্যক্তিগতভাবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কোহলি। ওপেনিংয়ে নেমে মাত্র ১১ বল মোকাবিলা করে ১৫ রান করেন তিনি। তবে স্বল্প রান করলেও ভেনকাটেশ আইয়ারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি জুটি গড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান। দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ৬০ রান যোগ করেন।

এই জুটির মাধ্যমেই টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৫০ বা তার বেশি রানের পার্টনারশিপে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন কোহলি। পুরুষদের টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি ছিল তার ২১১তম ৫০–এর বেশি রানের জুটি। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের ব্যাটার অ্যালেক্স হেলস–এর দখলে। তার ক্যারিয়ারে ৫০ বা তার বেশি রানের জুটির সংখ্যা ২১০।

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ব্যাটিং করার কারণে এই তালিকায় শীর্ষস্থানীয় ব্যাটারদের মধ্যেই অবস্থান কোহলির। তালিকায় তার পরেই রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, পাকিস্তানের বাবর আজম এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নেওয়ার ফলে এসব ব্যাটারের নাম টি–টোয়েন্টির পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।

নিচে পুরুষদের টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৫০ বা তার বেশি রানের জুটিতে অংশ নেওয়ার শীর্ষ কয়েকজন ব্যাটারের তালিকা দেওয়া হলো—

ব্যাটার৫০+ রানের জুটির সংখ্যা
বিরাট কোহলি২১১
অ্যালেক্স হেলস২১০
ডেভিড ওয়ার্নারপরবর্তী অবস্থানে
বাবর আজমপরবর্তী অবস্থানে
ক্রিস গেইলপরবর্তী অবস্থানে

তবে ব্যক্তিগত অর্জনের দিনটি দলীয়ভাবে সুখকর হয়নি কোহলির জন্য। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। শক্তিশালী লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেঙ্গালুরুর ব্যাটাররা শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ২০০ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।

উচ্চ স্কোরের এই ম্যাচে দুই দলের ব্যাটাররাই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেন। তবে হায়দরাবাদের বড় সংগ্রহের চাপ শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারেনি বেঙ্গালুরু। ফলে কোহলির ব্যক্তিগত বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচটি দলের পরাজয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয়।

আইপিএলে ধারাবাহিকভাবে রান করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলার কারণে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের নানা পরিসংখ্যানে কোহলির অবস্থান আগেই শক্তিশালী ছিল। নতুন এই রেকর্ড তার দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল।

Leave a Comment