সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আম্পায়ার ফ্র্যাঙ্ক চেষ্টার

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আম্পায়ার ফ্র্যাঙ্ক চেষ্টার।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আম্পায়ার ফ্র্যাঙ্ক চেষ্টার

 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আম্পায়ার ফ্র্যাঙ্ক চেষ্টার

 

ডন ব্র্যাডম্যান তাঁর ‘ফেয়ারওয়েল টু ক্রিকেট’ বইতে আম্পায়ার চেষ্টার সম্বন্ধে লিখেছেন, “আমি যাদের দেখেছি তাঁদের মধ্যে ফ্র্যাঙ্ক চেষ্টারকে নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ আম্পায়ার বলে মনে করি।” এই প্রসঙ্গে ব্র্যাডম্যানকে আউট দেবার এক অদ্ভুত সিদ্ধান্তের কথা সব্যসাচীর লেখা থেকে তুলে দিচ্ছি।

“১৯৩৮ সালে ট্রেন্ট ব্রিজের প্রথম টেষ্ট ম্যাচে ডন ব্র্যাডম্যান ব্যাট করছেন। ব্যক্তিগত ৫১ রাণের মাথায় রেগ সিনফিল্ডের বোলিংয়ের বিপক্ষে ডন পা বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন। বলটি ব্র্যাডম্যানের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেট-রক্ষক লেসলি এসের হাতে চলে যায়, কিন্তু এমন প্রকৃত ঘটনা নিজেও বোধ করি ভাল করে বুঝতে পারেন নি । তিনি ততোক্ষণে উইকেট ভেঙ্গে দিয়ে স্কোয়ার লেগ আম্পায়ারের কাছে স্টাম্প আউটের আবেদন জানিয়েছেন । কিন্তু স্কোয়ার লেগ আম্পায়ার রবিন্সন এসের আবেদন অগ্রাহ্য করে দিলেন।

 

cricketgoln.com Google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

লেসলি এস এবার বোলারের প্রান্তে চেষ্টারের কাছে আবেদন করতেই চেষ্টার বাঁ হাত তুলে বল্লেন, “আউট, কট্ এট্‌ দি উইকেট”, বোলার সিনফিল্ড পর্যন্ত বুঝতে পারেন নি যে, বল ব্র্যাডম্যানের ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছে, কতকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তিনি এবার চেষ্টারকে বল্লেন, “আর কোন আম্পায়ার এই আউটের নির্দেশ দিতো কিনা সন্দেহ।” বলটি যে ব্যাট ছুঁয়েছিল তা চেষ্টার ছাড়া আর জানতেন ডন ব্র্যাডম্যান। উইকেট ছেড়ে যাবার সময় তিনি চেষ্টারকে অভিনন্দিত করে জানালেন যে, এই জাতীয় নির্ভুল সিদ্ধান্তের নিদর্শন তিনি নিজে খুব কমই দেখেছেন।”

কিন্তু এই আম্পায়ার চেষ্টারই এক সময় ছিলেন নামকরা প্রতিশ্রুতিবান খেলোয়াড়। প্রথম মহাযুদ্ধের আগে ইংলণ্ডের অন্যতম প্রধান উদীয়মান খেলোয়াড় তালিকায় নাম ছিল চেষ্টারের। মা ষোল বছয় বয়েসে তিনি উরষ্টার কাউন্টি ক্লাবের পেশাদার খেলোয়াড় নির্বাচিত হন! একবছর পরে সামারসেটের বিরুদ্ধে ১০৮ রান তাঁর জীবনের প্রথম সেঞ্চুরী।

এসেক্সের বিরুদ্ধে ১৭৮ রানই তাঁর জীবনের সর্ব্বোচ্চ স্কোর । শুধু ব্যাটিং নয় ভালো অফ স্পিন বোলায় হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল। মাত্র তিন বছরের (১৯১২-১৪ ) খেলোয়াড়ী জীবনে চেষ্টার ইংলণ্ডের জনগনের মনে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করেছিলেন। ইংলণ্ডের ভবিষ্যৎ টেষ্ট ক্রিকেটার হিসেবে তাঁকে যে দেখা যাবে সে বিষয়ে ইংলগুবাসী এবং তদানীন্তন খেলোয়াড়রা ছিলেন নিশ্চিত। কিন্তু ১৯১৪ সালের মহাযুদ্ধ সব ভেস্তে দিল । আঠার বছরের চেষ্টারকে যোগদান করতে হল যুদ্ধে।

 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আম্পায়ার ফ্র্যাঙ্ক চেষ্টার

 

১৯১৭ সালে গ্রীসে যুদ্ধে আহত হাওয়ায় তাঁর ডান হাতটি কনুইয়ের নীচে থেকে বাদ দিতে হয়। অবসান হল ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল ক্রিকেট তারকার খেলোয়াড় জীবন। কিন্তু ক্রিকেটের আকর্ষণ চেষ্টার ছাড়তে পারলেন না। তাই আবার তাঁকে মাঠে নামতে হল, খেলোয়াড় হয়ে নয়, এবার আম্পায়ার রূপে। ক’বছর আগে চেষ্টার মারা গেছেন। কিন্তু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আম্পায়াররূপে চিরকাল তিনি বিচরণ করবেন বিশ্বের ক্রিকেট-রসিক খেলোয়াড় এবং আম্পায়ারদের মনে ।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment