ফুরিয়ে গেছেন ভিরাট কোহলি [ Virat Kohli ]?

ফুরিয়ে গেছেন ভিরাট কোহলি [ Virat Kohli ]? এটা আজকের প্রশ্ন। কারণ ভিরাট কোহলি [ Virat Kohli ] মানেই ,সুদর্শন কাভার ড্রাইভ। ভিরাট কোহলি মানেই, উইকেটের চারপাশে বাহারি শটের ফুলঝুড়ি। ভিরাট কোহলি মানেই, দলের কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট উচিয়ে ধরা এক ক্রিকেট রাজা। ভিরাট-কোহলি মানেই, রানের শিকার করতে থাকা এক ক্ষুধার্ত বাঘ। ভিরাট-কোহলি মানেই , সমালোচকদের দাত ভাঙা জবাব দেয়া এক দেয়া এক প্রতিবাদি নায়ক।

ফুরিয়ে গেছেন ভিরাট কোহলি?
২০২১ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভিরাট কোহলি [ Virat Kohli ]
ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে, একের পর এক অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ভিরাট-কোহলি। প্রতিপক্ষে শিবিরে চির ধরিয়ে দেয়ার মতো ব্যাটিং কিংবা আক্রমণাত্মক শরীরি ভাষা , সবকিছুই ভিরাট-কোহলিকে বিশ্ব ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে তৈরি করেছেন ।

ফুরিয়ে গেছেন ভিরাট কোহলি [ Virat Kohli ]?

কিন্তু, সম্প্রতি ব্যাট হাতে সময়টা তেমন ভালো যাচ্ছে না ভিরাট কোহলির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময়  সেঞ্চুরিবিহীন রয়েছেন ভিরাট-কোহলি। সর্বশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে ডে নাইট টেস্টে নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ৭০তম  সেঞ্চুরি করেন । কিন্তু, সে ম্যাচের পর এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ৭১ তম সেঞ্চুরির দেখা পাননি ভিরাট।

ক্রিকেটাঙ্গনে , ভিরাট-কোহলির প্রত্যাবর্তন ঘটে অনেকটা রাজকীয় ভাবে। তার অধিনায়কত্বে ভারত ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে খেলার সময় থেকেই ভিরাট-কোহলি অসাধারণ ধারাবাহিকতায় রান করতে থাকেন। অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে ২৮ ম্যাচে ৪৬.৫৭ এর ঈর্ষণীয় গড়ে ৯৭৮ রান করেন তিনি। ২০০৮ অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি জেতার পরই ভারতীয় নির্বাচকদের নজরে পড়েন।

২০০৮ আইপিএলের অভিষেক আসরেই , রয়াল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলে অভিষেক হয় তার। তবে, নিজের অভিষেক আইপিএল সিজনে তেমন চমক দেখাতে পারেননি ভিরাট। ১২ ইনিংসে মাত্র ১০৫.০০ গড়ে ১৬৫ রান করেন যেখানে আছে মাত্র ১ টি ফিফটি করেছেন তিনি।

২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ভিরাট-কোহলির। সে সিরিজে দুই ওপেনার শচীন টেন্ডুলকার এবং বীরেন্দর শেবাগ ইঞ্জুরিতে থাকার কারণে , ডাক পড়ে ভিরাট-কোহলির।  অভিষেক ম্যাচে ২২ বলে মাত্র ১২ রান করেন তিনি। কিন্তু, সে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিং পিচে ৩৭ রান করেন ভিরাট যা ভারতকে ম্যাচটি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলো। সে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের প্রথম অর্ধশত রান করেন ভিরাট-কোহলি।

ফুরিয়ে গেছেন ভিরাট কোহলি?
অভিষেক ওয়ানডে সিরিজে ভিরাট কোহলি [ Virat Kohli ]
২০১০ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে ভিরাট-কোহলি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। সে সিরিজে ধারাবাহিক পারফর্মেন্সের কারণে ভারতীয় দলের তিনি এক নিয়মিত সদস্য হয়ে পড়েন। এরপর, বছরের পর বছর ধারাবাহিকতার মাধ্যমে ভিরাট  নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায় ।.২০১৩ সালে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থানে পৌছে যান ভিরাট- কোহলি। এরপর ২০১৪ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দুইবার টুর্নামেন্ট সেরা হন ভিরাট-কোহলি। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজের মাঝামাঝি সময়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট থেকে অবসর নিলে ভারতীয় নতুন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে যুক্ত হন ভিরাট-কোহলি।

এরপর, ২০১৭ সালে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনি সরে দাড়ালে সব ফরমেটেই ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হন কোহলি। ভিরাট-কোহলির অধিনায়কত্বে আইসিসির কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট না জিতলেও তার অধীনে ভারত বিশ্বের ১ নম্বর টেস্ট দল হওয়ার মর্যাদা অর্জন করে।

ভারতের সর্বকালের সেরা টেস্ট অধিনায়ক হলেন ভিরাট-কোহলি। তার অধীনে ভারতীয় দল মোট ৬৮ ম্যাচ খেলে ৪০ টি ম্যাচ জয় করার গৌরব অর্জন করে। তার অধীনে ভারত প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয় করার গৌরব অর্জন করে।

ফুরিয়ে গেছেন ভিরাট কোহলি?
সেঞ্চুরির পর ভিরাট কোহলি [ Virat Kohli ]
তবে, সম্প্রতি সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না ভিরাট-কোহলির। ব্যাট হাতে যেমন আগের ভিরাট-কোহলিকে খুঁজে পাচ্ছেন না ভক্তরা। ঠিক তেমনি ২০২১ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের অসহায় আত্মসমর্পন। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই, ভিরাট ভারতের টি টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব পদ ছেড়ে দেয়ার ইঙ্গিত দেন, করেছেন ও তাই।

কিন্তু, টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যার্থতার দরুণ ভিরাটের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সম্প্রতি, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে  মাঝারি মানের দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারার কারণে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সড়ে দাড়ান ভিরাট-কোহলি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরমেট মিলিয়ে ভিরাট-কোহলি এখন পর্যন্ত  ৪৫৪ ম্যাচে ৫৩.৫০ গড়ে ২৩৫০০ রান করেন যেখানে রয়েছে ৭০ সেঞ্চুরি এবং ১২১ ফিফটি।

তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এতো অর্জনের পরও গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো সেঞ্চুরির দেখা পাননি ভিরাট যা, একজন ভিরাট ভক্তের মাথায় চিন্তার ভাজ ফেলতেই পারে।

গত ২ বছরে ভিরাট-কোহলির সেট হয়ে ইনিংস বড় করতে না পারার অন্যতম কারণ হচ্ছে অফ স্ট্যাম্পের বাহিরের বল ঠিকমতো বিচার না করে কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার কিংবা স্লিপ করিডরে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়া।
২০১৪ সালে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে বারবার আউট হচ্ছিলেন। এর পেছনে, মূল কারণ ব্যাটিং করার সময় নিজ অফস্ট্যাম্প সম্পর্কে অবগত না থাকা। যার কারণে, পরবর্তীতে কোচ সঞ্জয় বাংগারকে সাথে নিয়ে এক বিশেষ পদ্ধতিতে তিনি তার এই অফস্ট্যাম্প সমস্যার সমাধান করেন।

ঠিক একই সমস্যা দেখা গেছে সম্প্রতি সময়েও। দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজেও তিনি অফ স্ট্যাম্পের বাহিরের বল বেশি বেশি করে লিভ করলেও আউট হয়েছে অফ স্ট্যাম্পের বাহিরের বল খেলতে গিয়েই।

ভিরাট কোহলি ফিরবেন, আবারো ব্যাট উচিয়ে ধরবেন, মাঠের মধ্যে রচনা করবেন নিজের কাব্যগাথা এটাই যেনো তার ভক্তদের চাওয়া।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন