কলপ্যাক চুক্তির কারণেই নিজ দেশ ত্যাগ করেছেন একাধিক ক্রিকেটার

ক্রিকেট বিশ্বের বহু দেশের কাছেই কলপ্যাক চুক্তি একটি আক্ষেপের নাম। এই কলপ্যাক চুক্তিতে একজন খেলোয়াড় আর্থিকভাবে লাভবান হলেও, সেই দেশের ক্রিকেট কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইইউভুক্ত (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন) যেকোনো দেশের নাগরিকরা অন্য ইইউ যেকোনো দেশে গিয়ে খেলতে পারে। এই কলপ্যাক চুক্তিতে ইইউ দেশের নাগরিকরা আরেক ইইউ দেশে গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য বা সবক্ষেত্রে একজন নাগরিকের সমান সুযোগ সুবিধা পান।

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং ক্যারিবিয়ান কিছু দেশ ‘কতনু’ নামক এক চুক্তির মাধ্যমে ইইউর সাথে সম্পর্কযুক্ত। যার কারণে,  এ দেশগুলো কলপ্যাক চুক্তির সুবিধা নিতে পারেদক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা একাধিক খেলোয়াড় এই কলপ্যাক চুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে শুধু ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন।

 

কলপ্যাক চুক্তির কারণেই নিজ দেশ ত্যাগ করেছেন একাধিক ক্রিকেটার

 

রিলে রুশো

দক্ষিণ আফ্রিকার এক সময়ের প্রতিভাবান ক্রিকেটার রিলে রুশো। ২০১৫ সালে, কলপ্যাক চুক্তির জন্যব দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা বিসর্জন দিয়েছিলেন তিনি। তবে, বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ দাপিয়ে বেড়িয়েছিলেন তিনি।

কলপ্যাক চুক্তির কারণেই নিজ দেশ ত্যাগ করেছেন একাধিক ক্রিকেটার
রিলে রুশো

আগস্ট, ২০১৪ সালে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। ৫ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে অস্ট্রেলিয়া সফরে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে অভিষিক্ত হন রুশো। সেই ম্যাচে তিনি ৫০ বলে ৭৮ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

২৮ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত ৫ম ওডিআইয়ে হাশিম আমলা’র (১৩৩) সাথে ২৪৭ রান করে ৩য় উইকেট জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে নতুন রেকর্ড গড়েন। খেলায় তিনি ৮৩ বলে শতরানসহ ১৩২ রান করেন।

তার দল ১৩১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়সহ ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। ২০১৫ বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন রুশো। এরপর, কলপ্যাক চুক্তির কারণে ২০১৬ সালের পর ২০২২ সালে আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেন রুশো।

ব্রেন্ডন টেইলর

জিম্বাবুয়ের এক সময়ের কিংবদন্তী ব্যাটার, ব্রেন্ডন টেইলর। বিভিন্ন সময়ে জিম্বাবুয়েকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক জয় উপহার দিয়েছেন এই ব্রেন্ডন টেইলর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০০ রান করা চতুর্থ জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার তিনি।

কলপ্যাক চুক্তির কারণেই নিজ দেশ ত্যাগ করেছেন একাধিক ক্রিকেটার
ব্রেন্ডন টেইলর

এক সময় তিনিও কলপ্যাক চুক্তির কারণে জিম্বাবুয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ছেড়েছিলেন। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর আবার ফেরেন ২০১৯ সালে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে।

কাইল এবট

এক সময়ের দক্ষিণ আফ্রিকার তাক লাগানো ফাস্ট বোলার, কাইল এবট। তিনি ছিলেন দক্ষিণ  আফ্রিকা দলের উঠতি তরুণ প্রতিভান পেস বোলার যাকে পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকান জাতীয় দলের পেস বিভাগের নেতা হিসাবে মনে করা হচ্ছিলো।

কলপ্যাক চুক্তির কারণেই নিজ দেশ ত্যাগ করেছেন একাধিক ক্রিকেটার
কাইল এবট

কিন্তু তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার এই চুক্তিতে সহমত হতে না পাড়ায় কলপ্যাক চুক্তির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবার কথা ঘোষণা করেন।  বর্তমানে এবট কাউন্টি ক্রিকেটে নিজের অসাধারণ পারফর্মেন্স দেখিয়ে চলেছেন, তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ফেরার আশা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট প্রেমীরা করতেই পারে।

কাইল জার্ভিস

এক সময়ের জিম্বাবুয়ের প্রধান বোলারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাইল জার্ভিস। তার বোলিংয়ে মুভমেন্টের পাশাপাশি ছিলো অসাধারণ গতি। তার সময়ে তিনি জিম্বাবুয়ের গতিশীল বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিতে বোলিং করতেন। জিম্বাবুয়েরর বোলিংয়ে আক্রমনের এক সময়ের অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন তিনি।

২০০৯ সালে, কেনিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে জার্ভিসের। এরপর, ২০১৩ সালে বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৩ সালে কলপ্যাক চুক্তির সুবাদে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে।

প্রথম মৌসুমে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে তেমন সফলতা পাননি। কিন্তু পরবর্তী মৌসুমে ৬২ উইকেট নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের চ্যাম্পিয়নশীপে উত্তরণ ঘটান। তবে, হাত ভেঙ্গে গেলে আকস্মিকভাবে তার ঐ মৌসুম শেষ হয়ে যায়। প্রথম বিভাগেও বেশ ভালো খেলা উপহার দেন। ২০১৬ সালে ৫১ উইকেট নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের শীর্ষ বোলারে পরিণত হন ও কোচ অ্যাশলে জাইলসের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ান।

কলপ্যাক চুক্তির কারণেই নিজ দেশ ত্যাগ করেছেন একাধিক ক্রিকেটার
কাইল জার্ভিস

সারের বিপক্ষে ছয় উইকেট নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে পৌঁছে দেন। সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার থেকে চলে আসেন ও জিম্বাবুয়ে ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পুনরায় অংশ নেন।

অক্টোবর, ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবার জন্যে তাকে জিম্বাবুয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খেলায় তিনি ১/৪০ পান। এরপর, ২০১৮-১৯ মৌসুমে বাংলাদেশ গমন করেন। ৫/৭১ ও ২/২৭ লাভ করেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার অ্যান্ড্রে নেলও কলপ্যাক চুক্তির কারণে খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার ডুয়ান অলিভিয়ার এবং অফ স্পিনার সায়মন হার্মারও কলপ্যাক চুক্তিতে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

আরো পড়ুনঃ 

 

মন্তব্য করুন