ওয়ালটনের ব্যাটে ফাইনালে খেলার আশা বাচিয়ে রাখলো চট্টগ্রাম; কুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত বরিশালের

ওয়ালটনের ব্যাটে ফাইনালে খেলার আশা বাচিয়ে রাখলো চট্টগ্রাম; কুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত বরিশালের !!!

দলের প্রয়োজনে এবারের আসরে চট্টগ্রামের হয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেন চ্যাডউইক ওয়ালটন। চট্টগ্রামের হয়ে ৪৪ বলে ৮৯ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন ওয়ালটন। ওয়ালটনের ৮৯ রানের সেই অসাধারণ ইনিংসে ছিলো ৭টি চার এবং ৭টি ছয়ের মার। চট্টগ্রামের হয়ে, ওয়ালটনের সে অসাধারণ ইনিংসে একের পর এক বাউন্ডারি যেনো তার দলকে একটি বড় ইনিংসের দিকে পথে পরিচালিত করছিলো। ওয়ালটনের সে অনবদ্য ইনিংসের কারনে, ১৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় চট্টগ্রাম যা, তাদের ফাইনালে খেলার আশা বাচিয়ে রাখে।

ওয়ালটনের ব্যাটে ফাইনালে খেলার আশা বাচিয়ে রাখলো চট্টগ্রাম; কুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত বরিশালের
টসের সময়, খুলনা এবং চট্টগ্রামের দুই অধিনায়ক

মিরপুরে, টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স । দলীয় ১২ রানেই ওপেনিং ব্যাটার জাকির হাসানকে হারায় তারা। এরপর, দলীয় ১৬ রানে চট্টগ্রাম অধিনায়ক আফিফ হোসেন আউট হলে , ক্রিজে নামেন ব্যাটার চ্যাডউইক ওয়ালটন। এরপর, কিনার লুইসকে নিয়ে সাময়িক চাপ সামলানোর মতো একটি ৩৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ওয়ালটন।

তবে , দলীয় ৫৪ এবং ৬৫ রানের মধ্যে দুই ব্যাটার লুইস এবং  শামীমকে হারিয়ে আবারো, ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। এরপর, মিরাজের ধৈর্য্যশীল ব্যাটিং এবং উইকেটের অপর প্রান্তে ওয়ালটন ঝড়ের কারণে ১৮৯ রানের পুঁজি পায় চট্টগ্রাম।

[ ওয়ালটনের ব্যাটে ফাইনালে খেলার আশা বাচিয়ে রাখলো চট্টগ্রাম; কুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত বরিশালের ]

১৯০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ আক্রমণাত্মকভাবেই করে খুলনা টাইগার্স। তবে, দলীয় ২১ রানেই আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান মাহেদী হাসানের উইকেট হারায় খুলনা। ওয়ান ডাউনে, ব্যাট করতে আসা সৌম্যও এদিন ব্যার্থ হন। দলীয় ৪৩ রানে ব্যক্তিগত ১ রানে আউট হন তিনি। এরপর, অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে সঙ্গে নিয়ে এক আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পসরা সাজান আগে ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ন।

ব্যাট হাতে মিরাজ এবং ওয়ালটন
ব্যাট হাতে মিরাজ এবং ওয়ালটন

একের পর এক আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পসরা সাজিয়ে ভক্তকূলকে টি টোয়েন্টি ব্র্যান্ডের ক্রিকেট উপহার দেন দুজনেই। যতক্ষণ পর্যন্ত মুশফিক এবং ফ্লেচার কুমিল্লার হয়ে ব্যাটিং করছিলেন , ততোক্ষণ ম্যাচটি হাতের মুঠোয়েই মনে হচ্ছিল খুলনার। কিন্তু, দ্বাদশ ওভারের প্রথম বলে খুলনা শিবিরে আঘাত হেনে মুশফিকুর রহিমকে বিদায় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সাজঘরের ফেরার আগে, ১ চার এবং ৪ ছয়ের মারে  ২৯ বলে ৪৩ রান করেন মুশফিকুর রহীম। এরপর, খুলনার হয়ে ব্যাট করতে নামেন ব্যাটার ইয়াসীর আলী রাব্বি।

ফ্লেচারকে সাথে নিয়ে তিনি গড়েন ৬৫ রানের আরেক আক্রমণাত্মক জুটি। ২৪ বলে ৪৫ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ইয়াসির আউট হন দলীয় ১৭২ রানে। ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত ম্যাচে টিকে ছিলো খুলনা। তবে শেষ ওভারে চট্টগ্রাম বোলার মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং নৈপূণ্যে ব্যাক্তিগত ৮০ রানে অপরাজিত থেকেও ম্যাচ জেতাতে ব্যার্থ হন ফ্লেচার। চট্টগ্রাম ম্যাচটি জিতে নেয় ৭ রানে।

দিনের আরেক ম্যাচে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ১০ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করলো সাকিবের ফরচুন বরিশাল। টস হেরে ব্যাট করতে নামে ফরচুন বরিশাল। আগের মতো, এবারো বরিশালের হয়ে ব্যাট হাতে ভরসার প্রতীক হলেন ওপেনিং ব্যাটার মুনিম শাহরিয়ার। শুরুতে, ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইলকে নিয়ে গড়লেন ৫৮ রানের এক উদ্বোধনী জুটি। দলীয় ৫৮ রানে পেসার শহীদুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফেরেন ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইল।

উইকেট পাওয়ার পর বরিশাল বোলারদের উচ্ছ্বাস
উইকেট পাওয়ার পর বরিশাল বোলারদের উচ্ছ্বাস

নিজের স্বভাবসুলভ ইনিংস না খেলতে পারলেও উইকেটের অপর প্রান্ত থেকে দ্রুত গতিতে রান তোলা মুনিম শাহারিয়ারকে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন। দলীয় ৮৪ রানে বাহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মুনিম।

আউট হওয়ার আগে তিনি খেলেন ৩০ বলে ৪৪ রানের এক ইনিংস। এরপর, দলীয় ৮৬ রানে আউট হন পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ফর্মে থাকা সাকিব আল হাসান। দলীয় ৮৪ থেকে ৯৪ রানের মধ্যে মোট ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে এক ভয়ানক ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় বরিশাল। ব্যাটারদের আশা যাওয়ার মিছিলে ১৪৩ রানের টোটাল পায় বরিশাল।

১৪৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে , শুরুটা বেশ ধীরস্থিরভাবে করে কুমিল্লার দুই ওপেনার লিটন দাস এবং মাহমুদুল হাসান জয়। দলীয় ৬২ রানে যখন মাহমুদুল হাসান জয়রূপে কুমিল্লার প্রথম উইকেটের পতন ঘটে । এরপর একে একে অধিনায়ক ইমরুল কায়েস এবং লিটন দাসের উইকেটের পতন হলে , চাপে পড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

উইকেট পাওয়ার পর বরিশাল বোলার শফিকুল ইসলামের উচ্ছ্বাস
উইকেট পাওয়ার পর বরিশাল বোলার ,শফিকুল ইসলামের উচ্ছ্বাস

অন ফর্ম ব্যাটার মইন আলী এবং ফাফ ডু প্লেসিস দ্রুত গতিতে রান তুলে কুমিল্লাকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকলেও দলীয় ১০৪ রানে মঈন আলীর উইকেটের পতন ঘটলে রানের গতি আবারো ধীর হয় কুমিল্লার।

এরপর , ইনিংসের ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে ফ্যাফ ডু প্লেসিসের উইকেটের পতন ঘটলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে কুমিল্লা। মেহেদী হাসান রানার ইকোনোমিকাল বোলিং স্পেল শেষ পর্যন্ত বরিশালকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করে। ৩ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয়ার সুবাদে ম্যাচ সেরা হন বোলার মেহেদী হাসান রানা।

 

আরও পড়ুনঃ

“ওয়ালটনের ব্যাটে ফাইনালে খেলার আশা বাচিয়ে রাখলো চট্টগ্রাম; কুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত বরিশালের”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন