আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে টাইগাররা?

আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে টাইগাররা [ Will Tigers whitewash Afghans ] ??

আজ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার হাতছানি। এখন পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরমেটেই প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। তবে, টেস্ট এবং টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের তুলনায় ওয়ানডে ক্রিকেটেই এখন পর্যন্ত ধবলধোলাই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড , উইন্ডিজের মতো বড় বড় টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর বিপক্ষে এখন পর্যন্ত হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

তবে, এবার প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। এর আগেও, দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে, সেবার সিরিজ ২-১ এ জিতলেও আফগানদের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পায়নি তারা।

আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে টাইগাররা?

টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর মধ্যে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সবচেয়ে বেশি হোয়াইটওয়াশ করেছে জিম্বাবুয়েকে। জিম্বাবুয়েকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি, মোট ৬ বার হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এছাড়াও, উইন্ডিজ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মোট ২ বার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকেও একবার হোয়াইটওয়াশ করার সুখস্মৃতি আছে টাইগারদের।

আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে টাইগাররা?
উইন্ডিজকে ২০০৯ সালে হোয়াইটওয়াশ করার পর বাংলাদেশ দল

উইন্ডিজঃ

জিম্বাবুয়ে ছাড়া, সর্বপ্রথম কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে, উইন্ডিজের ঘরের মাটিতেই এই কীর্তি গড়ে টাইগার বাহিনী। সেবার, সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে এই ক্যারিবিয়ান ওয়ানডে সিরিজ জয় করে তারা। সে সিরিজের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজকে ৫২ রানে হারায় বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৩ উইকেটে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। ঠিক তেমনি, সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতেও ৩ উইকেটে জিতে প্রথমবারের মতো উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।

২০২১ সালে, উইন্ডিজকে আবারো হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তবে, সেটি ছিলো ঘরের মাটিতে। উইন্ডিজের বিপক্ষে সে সিরিজে উইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দল আসলেও সিরিজটি আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগের আওতাধীন হওয়াতে ওয়ানডে সুপার লিগে নিজেদের স্থান পাকাপোক্ত করে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যনাডঃ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মোট দুইবার ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০১০ সালে , প্রথমাবারের মতো নিউজিল্যান্ডকে ঘরের মাটিতে ৪-০ তে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। সেবার, সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং অসাধারণ অধিনায়কত্বে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। সে সিরিজের প্রত্যেক ম্যাচেই অসাধারণ ক্রিকেটের প্রদর্শন করে বাংলাদেশ।

আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে টাইগাররা?
২০১৩ সালে, নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পর

২০১০ সালের সে সিরিজের প্রথম ম্যাচে, নিউজিল্যান্ডকে ৯ রানে হারায় বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান সে ম্যাচে অর্ধশত রানের পাশাপাশি বল হাতেও ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যাক্ত হয়। তবে, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। সে ম্যাচে, প্রথমে বোলিং করে নিউজিল্যান্ডকে ১৭৩ রানেই অলআউট করে বাংলাদেশ।

সে ম্যাচে, পুরো বাংলাদেশ দলের বোলারদের টিম অ্যাফোর্টেই নিউজিল্যান্ডকে খুব কম রানের মধ্যেই আটকে ফেলে বাংলাদেশ। ১৭৪ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েস এবং শাহরিয়ার নাফিসের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে খুব সহজেই ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে, টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে, অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরিতে ২৩২ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। এরপর, বল হাতেও ৩ উইকেট পায় অধিনায়ক সাকিব। যার কারণে, সে ম্যাচেও ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। এ ম্যাচের মাধ্যমেই সিরিজ নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। সিরিজের পঞ্চম ওয়ানডেতে, লো স্কোরিং ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩ রানে হারিয়ে ৪-০ তে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।

২০১০ সালের পর, ২০১৩ সালে ঘরের মাটিতে সিরিজে আবারো নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। কিন্তু, সেবার দলের সবথেকে বড় তারকা সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৪৩ রানে এবং দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৪০ রানে হারায় বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ এবং নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।

আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে টাইগাররা?
২০১৫ সালে, পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর

পাকিস্তানঃ

২০১৫ সালে, ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের জোড়া সেঞ্চুরি এবং ১টি হাফ সেঞ্চুরির কারণে সে সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। এছাড়া, সে সিরিজে ওপেনিংয়ে ব্যাট করে সেঞ্চুরি হাকান সৌম্য সরকার।

এখন , বাংলাদেশের সামনে আরেকটি সুযোগ রয়েছে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার। তবে, প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯২ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে, সবচেয়ে সফল ব্যাটার ছিলেন লিটন দাস। বরাবরের মতো, এবারো ব্যার্থ ছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সিরিজের বাকি ২ ম্যাচের মতো এবারও আফগান বোলার ফারুকির বলে আউট হন তামিম। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগারদ বোলারদের উপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার প্রসঙ্গ।

আরও পড়ুন:

আফগানদের বিপক্ষে কেমন হবে একাদশ? ৩ নম্বরে ব্যাট করবেন কে?

মন্তব্য করুন