ভারতের ব্যাটসম্যান শ্রেয়াস আইয়ারকে আজ সিডনির হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও তিনি এখনও দেশে ফিরছেন না। আরও কিছুদিন সিডনিতেই চিকিৎসা নিতে হবে ভারতের হয়ে ১৪ টেস্ট, ৭৩ ওয়ানডে ও ৫১ টি–টোয়েন্টি খেলা এই ক্রিকেটারকে।
গত ২৫ অক্টোবর সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ক্যাচ নিতে গিয়ে গুরুতর চোট পান ৩০ বছর বয়সী আইয়ার। অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ ধরতে ঝাঁপ দেওয়ার পরই ব্যথায় কাতরাতে থাকেন তিনি। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর ফিজিওর সহায়তায় মাঠ ছাড়েন এবং আর ফিল্ডিংয়ে ফেরেননি।
অস্ট্রেলিয়ার ২৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ৯ উইকেটে জেতে, তাই ব্যাট করতে নামার প্রয়োজন হয়নি আইয়ারের। পরে স্ক্যানের রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁর প্লীহায় আঘাত লেগেছে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিডনির এক হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। চোটের গুরুতর অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে ক্রিকেট–বিশ্ব।
২৯ অক্টোবর বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এক বিবৃতিতে জানান, আইয়ারের অবস্থা স্থিতিশীল। আজ সকালে বোর্ডের নতুন বিবৃতিতে জানানো হয়, তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন।
সেই বিবৃতিতে দেবজিৎ সাইকিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘চোটটি দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছিল এবং ছোট একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন স্থিতিশীল এবং সেরে ওঠার পথে। সিডনি ও ভারতের চিকিৎসকরা তাঁর উন্নতিতে সন্তুষ্ট, তাই আজ তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।’
সিডনিতে চিকিৎসা দিয়েছেন ড. কোরৌশ হাঘিঘি ও তাঁর দল, আর ভারত থেকে সহযোগিতা করেছেন ড. দীনশ পার্দিওয়ালা। বিসিসিআই জানিয়েছে, ‘পরবর্তী চিকিৎসার জন্য শ্রেয়াস সিডনিতেই থাকবেন। বিমানযাত্রার উপযোগী হলেই দেশে ফিরবেন।’
আইয়ার কবে পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে ফিরবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অন্তত দুই মাস তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন সংস্করণের সিরিজ খেলবে ভারত। এরপর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরে টি–টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারত ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে ২–১ ব্যবধানে, আর টি–টোয়েন্টি সিরিজেও এখন ১–০ তে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
