বাইশ বছর পর আবার মিরপুরে পা রাখলেন তিনি। পরিচিত সেই গেট, পুরনো প্যাভিলিয়ন, একসময়কার সাউন্ড সিস্টেমের জায়গা—সব কিছুই যেন স্মৃতি হয়ে ফিরে এলো গায়ক আসিফ আকবরের মনে। এক সময় সংগীতের মঞ্চ কাঁপানো ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ গানের শিল্পী এখন দাঁড়িয়ে আছেন ক্রিকেট প্রশাসনের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আসিফ আকবর। তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের দায়িত্ব। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর প্রথম দিনই তিনি গিয়েছিলেন মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন,
“এখানে শেষ এসেছিলাম ২০০৩ সালে। তখন বুলবুল ভাই, ফারুক ভাই, নান্নু ভাইদের মাঠে দেখতাম। আমি তখনও স্কুলে পড়ি। আজ তাঁদের সঙ্গে একই বোর্ডে কাজ করব—এটা আমার জন্য বড় সৌভাগ্য।”
বিসিবির নতুন কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সহসভাপতি হিসেবে আছেন ফারুক আহমেদ ও মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন। খালেদ মাসুদ পাইলট এখন হাই-পারফরম্যান্স ইউনিটের চেয়ারম্যান, আর নারী ক্রিকেটের দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। সাবেক ক্রিকেটারদের এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন গায়ক আসিফ আকবর।
এই পরিবর্তনকে দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বলেই দেখছেন তিনি। আসিফের ভাষায়,
“এখন বোর্ডে ক্রিকেটাররা এসেছে—রাজ্জাক, পাইলট ভাই আছেন। ক্রিকেটাররা বোর্ডে থাকলে ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝা যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে যায়। আমি বিশ্বাস করি, এর ফলে আমাদের ক্রিকেটে নতুন এক জোয়ার আসবে।”
তবে শুধু বোর্ড পরিবর্তন নয়, আসিফের স্বপ্ন আরও দূরগামী। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটকেই তিনি মনে করেন দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।
“বাচ্চারাই দেশের ভবিষ্যৎ। গানের জীবনে যেমন তরুণদের সঙ্গে কাজ করেছি, এখানেও তেমনভাবেই কাজ করতে চাই। তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে থাকলে নিজেরও তারুণ্য ধরে রাখা যায়,” বলেন তিনি।
ভারতের ক্রিকেট কাঠামোর উদাহরণ টেনে আসিফ আরও যোগ করেন,
“ভারতের পাইপলাইন অনেক শক্তিশালী। একটা জায়গার জন্য চার-পাঁচজন খেলোয়াড় প্রস্তুত থাকে। আমাদেরও এমন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে হবে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই সেটার শুরু হতে পারে।”
