হৃদয়-মোসাদ্দেক জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭৫

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতকের ওপর ভর করে স্বাগতিক বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৭৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে সিরিজ নিশ্চিত করে নেওয়ায় এই ম্যাচে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে, তবে ইনিংসজুড়ে ওঠানামার মধ্যেও ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় দলটি লড়াকু পুঁজি গড়তে সক্ষম হয়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভালো হয়নি। ইনিংসের প্রথম দিকেই সৌম্য সরকার মাত্র ২ রানে ফিরে গেলে চাপের মুখে পড়ে দল। এরপর তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা স্থিতি আনার চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তানজিদ ১৯ এবং শান্ত ২৪ রানে আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংস আবারও চাপে পড়ে যায়।

এই অবস্থায় ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। তাদের জুটিতে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। লিটন দাস প্রথমে ৪৮ রান করে মাঠ ছাড়লেও চোট কাটিয়ে আবার ফিরে এসে ইনিংস শেষ করেন ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে। অন্যদিকে তাওহিদ হৃদয় ছিলেন সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। তিনি ৮৩ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেললেও সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়ে আউট হন।

মধ্য ও শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত দলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখেন। তিনি দায়িত্বশীল অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে লিটনের ফিরে আসা ইনিংসের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়ে ওঠে।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে ম্যাট রেনশ এবং জাভিয়ের বার্টলেট দুটি করে উইকেট নেন। বেন ডোয়ারসুইশ নেন একটি উইকেট। তবে তারা বাংলাদেশের মিডল অর্ডার জুটিকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারেননি, যার ফলে শেষ দিকে বাংলাদেশের স্কোর ২৭৪ রানে পৌঁছে যায়।

বাংলাদেশের ইনিংসের সারসংক্ষেপ

ব্যাটসম্যানরানমন্তব্য
সৌম্য সরকারদ্রুত আউট
তানজিদ হাসান১৯শুরু ভালো হলেও স্থায়িত্ব নেই
নাজমুল হোসেন শান্ত২৪সেট হয়েও বড় ইনিংস হয়নি
লিটন দাস৫৮*চোট কাটিয়ে ফিরে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস
তাওহিদ হৃদয়৮৩ইনিংসের সর্বোচ্চ ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং
মোসাদ্দেক হোসেন৫৬*কার্যকর ফিনিশিং ইনিংস

সব মিলিয়ে, ইনিংসের শুরুতে দ্রুত উইকেট হারালেও শেষের দিকে লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এখন লক্ষ্য ২৭৫ রান, যা জয়ের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হলেও অপ্রতিরোধ্য নয়।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্য এই লক্ষ্য তাড়া করা সহজ হবে না, বিশেষ করে মিরপুরের ধীর ও স্পিন সহায়ক পিচে। বাংলাদেশের বোলাররা সিরিজের শেষ ম্যাচে পূর্ণ আধিপত্য দেখানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে, আর অস্ট্রেলিয়া চাইবে সম্মান বাঁচিয়ে সিরিজ শেষ করতে।

Leave a Comment