মিরপুরে শরীফুলের জোড়া আঘাত: হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে লড়ছে বাংলাদেশ

ঢাকা: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লড়ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। মিরপুরের শের-এ-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানের একটি লড়াকু ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পুঁজি সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকেরা।

২৭৫ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করে সফরকারী তথা ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে জশ ইংলিস ও তার সঙ্গী দলের পক্ষে দ্রুত ৪০ রান সংগ্রহ করেন। তবে এই উড়ন্ত সূচনার পরেই মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে আকস্মিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার।

শরীফুলের জোড়া উইকেটের আঘাত

বাংলাদেশ দলের পেসার শরীফুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম ব্রেকথ্রু পায় টাইগাররা। শরীফুলের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জশ ইংলিস। আউট হওয়ার আগে তিনি মাত্র ১২ বলের মুখোমুখি হয়ে ৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে দ্রুতগতিতে ২১ রান সংগ্রহ করেন।

এই উইকেটের রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও আঘাত হানেন শরীফুল। ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং করতে নামা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ম্যাট রেনশ তার মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। কোনো রান না করেই রেনশ বিদায় নিলে মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি কিছুটা থমকে যায়।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের বিবরণ

এর আগে, রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তবে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিক দল। আগের ম্যাচে ৪২ রানের ইনিংস খেলা ওপেনার সৌম্য সরকার এদিন মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

প্রাথমিক এই ধাক্কা সামাল দিতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি বাঁধেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় উইকেটে তারা দুজনে স্কোরবোর্ডে ৫১ রান যোগ করেন। এরপর ব্যক্তিগত ১৯ রান করে তানজিদ হাসান তামিম আউট হলে এই জুটির অবসান ঘটে। উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ৫০ বল খেলে মাত্র ২৪ রান করে বিদায় নেন।

লিটন ও হৃদয়ের প্রতিরোধ এবং মোসাদ্দেকের ফিনিশিং

মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। এই দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান চতুর্থ উইকেটে ১০৯ বলে ৯৫ রানের একটি চমৎকার ও কার্যকরী পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। তবে দলীয় ১৫৩ রানে ব্যক্তিগত ৫৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট (আহত হয়ে মাঠ ছাড়া) হয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৭৮ বলে ৪টি চার এবং ২টি ছক্কার মার মারেন।

লিটন মাঠ ছাড়ার পর তাওহীদ হৃদয় উইকেটে আসা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন। তারা দুজনে পঞ্চম উইকেটে ৮১ বলে ৯০ রানের আরেকটি লড়াকু জুটি উপহার দেন। দলীয় ২৪৬ রানের মাথায় চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তাওহীদ হৃদয়। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে তিনি ৮৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৫১ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫১ রান করে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৭৪ রান।

টেবিল ১: বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ব্যাটসম্যানের নামরানের সংখ্যাবলের সংখ্যাবাউন্ডারি ও ছক্কাআউটের ধরন / স্ট্যাটাস
সৌম্য সরকারপ্রথম ওভারেই আউট
তানজিদ হাসান তামিম১৯শান্তর সাথে ৫১ রানের জুটি শেষে আউট
নাজমুল হোসেন শান্ত২৪৫০ক্যাচ/বোল্ড হয়ে আউট
লিটন কুমার দাস৫৮৭৮৪টি চার, ২টি ছক্কারিটায়ার্ড হার্ট (আহত)
তাওহীদ হৃদয়৮৩৮৮৮টি চারদলীয় ২৪৬ রানে আউট
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত৫১*৫১৫টি চার, ১টি ছক্কাঅপরাজিত

টেবিল ২: ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বোলিং পরিসংখ্যান

ঘটনার বিবরণসংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় / দলঅর্জিত পরিসংখ্যানম্যাচের ওপর প্রভাব
টস ও প্রথম ইনিংসবাংলাদেশ২৭৪/৫ (৫০ ওভার)অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৭৫ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ
অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটিজশ ইংলিস ও পার্টনার৪০ রানদ্রুতগতিতে উড়ন্ত সূচনা
প্রথম উইকেটের পতনজশ ইংলিস (আউট: শরীফুল)২১ রান (১২ বল)৪০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙন
দ্বিতীয় উইকেটের পতনম্যাট রেনশ (আউট: শরীফুল)০ রান (২ বল)৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট পতন

Leave a Comment