পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে টাইগার শিবিরে চলছে নিবিড় প্রস্তুতি। তবে এবারের প্রস্তুতিতে বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটার মুমিনুল হক। দলের ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটারকে এবার পুরোদস্তুর একজন কার্যকর স্পিনার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন কোচ সোহেল ইসলাম। ইনডোরের নেটে মূল বোলারদের পাশাপাশি মুমিনুল হককে দীর্ঘ সময় বোলিং অনুশীলন করতে দেখা গেছে। মূলত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কৌশলী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মুমিনুলকে বল হাতে বাড়তি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিকল্প স্পিনার হিসেবে মুমিনুলের গুরুত্ব
টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা সময় ফিল্ডিং ও বোলিং করার কারণে প্রধান স্পিনাররা অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের মতো নিয়মিত স্পিনারদের বিশ্রাম দিতে বা বোলিং প্রান্ত পরিবর্তন করতে একজন কার্যকর অনিয়মিত বোলারের প্রয়োজন হয়। কোচ সোহেল ইসলামের মতে, দেশের মাটিতে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে খেললে মুমিনুল হক দলের জন্য তৃতীয় স্পিনারের বিকল্প হিসেবে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অনুশীলনের মাধ্যমে তার বোলিংয়ের লাইন ও লেংথ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে অধিনায়ক প্রয়োজনে তাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যবহার করতে পারেন।
মুমিনুল হকের টেস্ট বোলিং পরিসংখ্যান
মুমিনুল হক তার দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে বল হাতেও সফল হয়েছেন। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়গুলোতে তার বাঁহাতি স্পিন নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। নিচে মুমিনুল হকের টেস্ট বোলিংয়ের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
| মোট টেস্ট ম্যাচ | ৭৫ |
| বোলিং করা ইনিংস সংখ্যা | ৫১ |
| মোট বোলিং করা ওভার | ১৬২.১ |
| অর্জিত উইকেট সংখ্যা | ১১ |
| ব্যক্তিগত সেরা বোলিং | ৩/৪ (সিলেট, ২০২৩) |
| নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাফল্য | মাউন্ট মঙ্গানুই (২ উইকেট) ও সিলেট (৩ উইকেট) |
বিসিবির কোচ ও মুমিনুলের বক্তব্য
কোচ সোহেল ইসলাম জানান, মুমিনুলের বোলিংয়ে উইকেট নেওয়ার এক সহজাত ক্ষমতা রয়েছে। নিয়মিত অনুশীলন না করলে লাল বলে হঠাৎ বোলিং করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে। তবে গত দুই মাসের কঠোর পরিশ্রমে মুমিনুল এখন বেশ ভালো ছন্দে রয়েছেন। কোচ বিশ্বাস করেন, মুমিনুল যদি ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বোলিংয়ে নিয়মিত হতেন, তবে তার উইকেটের সংখ্যা অনায়াসেই ৫০ থেকে ৬০ হতে পারত।
এই নতুন ভূমিকা প্রসঙ্গে মুমিনুল হক জানান, দলের প্রয়োজনে তিনি যেকোনো দায়িত্ব পালনে আগ্রহী। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেন যে স্পিনারদের ক্লান্তি দূর করতে বা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট শিকারের মাধ্যমে ‘ব্রেকথ্রু’ এনে দিতে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তার মতে, দলে এক বা দুইজন অনিয়মিত বোলার থাকলে অধিনায়কের জন্য বোলিং রোটেট করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
প্রস্তুতিতে কোচের পর্যবেক্ষণ
অনুশীলন চলাকালীন জাতীয় দলের স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদও মুমিনুলের বোলিং দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের সাবেক এই কিংবদন্তি লেগ স্পিনার চান মুমিনুল যেন ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তার বোলিং চর্চাও নিয়মিত চালিয়ে যান। এর আগে নিজের উইকেট বা বোলিং পরিসংখ্যান নিয়ে খুব একটা সচেতন না থাকলেও, এখন থেকে মুমিনুল তার বোলিং পারফরম্যান্সের দিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ব্যাটিং অনুশীলন শেষ করে প্রতিদিন নিয়ম করে বোলারদের নেটে গিয়ে বোলিং কৌশল ঝালিয়ে নিচ্ছেন এই বাঁহাতি ক্রিকেটার। এই একাগ্রতা বজায় থাকলে আসন্ন সিরিজে মুমিনুল হককে নতুন এক অলরাউন্ডার সত্তায় দেখার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
