মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান টেস্ট ম্যাচটি একটি রোমাঞ্চকর চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ম্যাচের পঞ্চম তথা শেষ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৬৮ রান। বিপরীতে, বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা। চতুর্থ দিন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ম্যাচটি অমীমাংসিত বা ড্র হওয়ার সম্ভাবনা বেশি মনে হলেও পঞ্চম দিনের মধ্যভাগ নাগাদ খেলার দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
ম্যাচের বর্তমান অবস্থা ও সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই চাপের মুখে পড়েছে। দলীয় ৬৮ রানের মধ্যেই সফরকারীরা তাদের টপ অর্ডারের ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে হারিয়েছে। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তান ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮২ রান। জয়ের জন্য তাদের এখনও ১৮৬ রান প্রয়োজন, অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার আর মাত্র ৭টি উইকেট।
ম্যাচের স্কোরকার্ড একনজরে
| ইনিংস | দল | রান সংখ্যা | প্রধান অবদানকারী |
| প্রথম ইনিংস | বাংলাদেশ | ৪১৩ | মুমিনুল হক ও অন্যান্য |
| প্রথম ইনিংস | পাকিস্তান | ৩৮৬ | আজান আওয়াইস (শতক) |
| দ্বিতীয় ইনিংস | বাংলাদেশ | ২৪০/৯ (ঘোষিত) | নাজমুল হোসেন শান্ত (৮৭) |
| দ্বিতীয় ইনিংস | পাকিস্তান | ৮২/৩ (চলমান) | ১৮৬ রান প্রয়োজন |
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ও সাহসী সিদ্ধান্ত
পঞ্চম দিনের শুরুতে বাংলাদেশ দল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যক্তিগত ৮৭ রানে আউট হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মধ্যম ও নিম্ন সারির ব্যাটিং ক্রম। তবে ৯ উইকেট হারানোর পর ইনিংস ঘোষণা করার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক শান্ত। মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে তিনি বোলারদের জন্য সুযোগ তৈরি করেন। তার এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত দ্রুত ফলপ্রসূ হয়। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তাঁর বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ২ রানে বিদায় নেন ওপেনার ইমাম উল হক। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৬ রান।
বিরতি পরবর্তী বোলিং আক্রমণ
বিরতির পর খেলা শুরু হলে পাকিস্তান পুনরায় বিপর্যয়ে পড়ে। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত শতক হাঁকানো আজান আওয়াইসকে সাজঘরে ফেরান অফ-স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর পেস বোলিংয়ে তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা আক্রমণে আসেন। যদিও তিনি শুরুর দিকে কিছুটা খরুচে ছিলেন এবং হ্যাটট্রিক চার হজম করেন, তবে নিজের তৃতীয় ওভারেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। তিনি পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে আউট করে সফরকারীদের বড়সড় ধাক্কা দেন।
দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে উল্লেখ্যযোগ্য ব্যাটিং করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (৮৭) এবং মুমিনুল হক (৫৬)। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ২২, লিটন দাস ১১ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে হাসান আলি ও নোমান আলি ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
মিরপুর টেস্টের বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, শেষ সেশনে বাংলাদেশ যদি তাদের স্পিন ও পেস আক্রমণের ধার বজায় রাখতে পারে, তবে একটি ঐতিহাসিক জয় পাওয়া অসম্ভব নয়। তবে পাকিস্তানের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ এবং উইকেট টিকে থাকার লড়াই ম্যাচের ফলাফল যেকোনো দিকেই নিয়ে যেতে পারে। ক্রিকেট ভক্তদের দৃষ্টি এখন মিরপুরের ঘূর্ণি উইকেটের ওপর, যেখানে প্রতিটি বলই নতুন উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।
