ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপের দল হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের আসর থেকে তাদের আগ্রাসী ব্যাটিং শৈলী বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই দলটির দখলে বর্তমানে আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের প্রথম চারটি স্থানই রয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ রানের পাহাড়সম ইনিংসটি এখনও তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গতকাল মঙ্গলবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে এক নজিরবিহীন ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে হায়দরাবাদ। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে দলীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের। গুজরাটের ১৬৮ রানের জবাবে মাত্র ৮৬ রানে গুটিয়ে গিয়ে হায়দরাবাদ ৮২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেছে।
ম্যাচের গতিপথ ও গুজরাটের ইনিংস
আহমেদাবাদে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা গুজরাট টাইটান্সের শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। মাত্র ২৬ রানের ব্যবধানে তারা দলের দুই প্রধান স্তম্ভ অধিনায়ক শুভমান গিল (৫) এবং জস বাটলারের (৭) উইকেট হারিয়ে ফেলে। এরপর নিশান্ত সিন্ধু ১৪ বলে ২২ রানের একটি ছোট ইনিংস খেলে বিদায় নেন। তবে ওপেনার সাই সুদর্শন এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দল একটি চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায়। সুদর্শন ৬১ রান এবং সুন্দর ৫০ রান করেন, যা দলকে ৫ উইকেটে ১৬৮ রানের অবস্থানে পৌঁছে দেয়। হায়দরাবাদের হয়ে প্রফুল হিঞ্জ ও সাকিব হুসেইন ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
হায়দরাবাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান
| বিষয় | হায়দরাবাদের তথ্য |
| দলীয় সংগ্রহ | ৮৬ রান (অলআউট) |
| ব্যবহৃত ওভার | ১৪.৫ ওভার |
| সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান | ১৯ (প্যাট কামিন্স) |
| পূর্ববর্তী সর্বনিম্ন দলীয় রান | ৯৬ রান (বনাম মুম্বাই, ২০১৯) |
| পরাজয়ের ব্যবধান | ৮২ রান |
হায়দরাবাদের ব্যাটিং ধস ও রেকর্ডসমূহ
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। অস্ট্রেলীয় তারকা ট্রাভিস হেড কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। অভিষেক শর্মা ৬ রানে বিদায় নিলে চাপ আরও ঘনীভূত হয়। ইশান কিষাণ, হেনরিক ক্লাসেনের মতো বিধ্বংসী ব্যাটাররা আহমেদাবাদের কঠিন পিচে সুবিধা করতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান আসে আট নম্বরে নামা অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের ব্যাট থেকে। মাত্র ১৪.৫ ওভারে ৮৬ রানে অলআউট হওয়া হায়দরাবাদের এটিই আইপিএল ইতিহাসের সর্বনিম্ন সংগ্রহ। এর আগে ২০১৯ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ৯৬ রানে অলআউট হওয়াটি ছিল তাদের সর্বনিম্ন রেকর্ড।
গুজরাটের পক্ষে বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন কাগিসো রাবাদা ও জেসন হোল্ডার, যারা উভয়েই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। এই জয়ের মাধ্যমে গুজরাট টাইটান্সও তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়েছে।
হায়দরাবাদের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের তালিকা
| প্রতিপক্ষ | ব্যবধান (রান) | বছর |
| গুজরাট টাইটান্স | ৮২ রান | ২০২৬ |
| কলকাতা নাইট রাইডার্স | ৮০ রান | ২০২৫ |
| মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স | ৪০ রান | ২০১৯ |
পিচের প্রভাব ও অধিনায়কের বক্তব্য
ম্যাচ শেষে গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক শুভমান গিল জানান, আহমেদাবাদের এই পিচে ব্যাটিং করা মোটেই সহজ ছিল না। ১৬৮ রান তোলার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে বল হাতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারলে এই রান জয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে হায়দরাবাদের প্রধান কোচ ও কর্মকর্তাদের জন্য এই বিপর্যয় একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। কারণ যে দলটির ব্যাটিং সামর্থ্য বিশ্বের যেকোনো বোলিং আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তাদের এমন শোচনীয় আত্মসমর্পণ প্রত্যাশার বাইরে ছিল। নিজেদের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডের পাশাপাশি হারের ব্যবধানেও (৮২ রান) হায়দরাবাদ নতুন নেতিবাচক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২৫ সালে কলকাতার কাছে ৮০ রানে হারা ছিল তাদের পূর্ববর্তী বড় পরাজয়। আগামী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন কামিন্স বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
