জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক পেস বোলিং কোচ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার কোর্টনি ওয়ালশকে পূর্ণকালীন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি)। গত ২৩ জুন বোর্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ালশের নাম ঘোষণা করা হয়।
চলতি বছরের শুরুতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে দলের বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন ওয়ালশ। টুর্নামেন্টে তার অধীনে জিম্বাবুয়ের বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নেয় আফ্রিকার এই দেশটি। একই সাথে সুপার এইটে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাও নিশ্চিত করেছে তারা। বিশ্বকাপে ওয়ালশের এমন চমত্কার ও দূরদর্শী পরিকল্পনার সফলতার পরেই জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড তাকে দীর্ঘমেয়াদে দলের সাথে রেখে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয়।
ওয়ালশের সমৃদ্ধ কোচিং ক্যারিয়ার
ক্রিকেট বিশ্বে ওয়ালশের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান প্রশ্নাতীত। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং ক্যারিয়ারেও তিনি রেখেছেন সফলতার স্বাক্ষর। ২০১৬ থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি বাংলাদেশের পেস বহরকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান এবং আবু জায়েদ রাহীদের মতো বোলারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিণত করতে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। বাংলাদেশের অধ্যায় শেষ করে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলান। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের সাথে তার যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ে নারী দলের টেকনিক্যাল পরামর্শক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তারও আগে নিজের মাতৃভূমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের মেন্টর ও কোচিং স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি।
অপরিবর্তিত থাকছে মূল কোচিং প্যানেল
ওয়ালশকে যুক্ত করা হলেও প্রধান কোচ জাস্টিন স্যামন্সের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কোচিং স্টাফের ওপর আস্থা রাখছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড। দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে বহাল থাকছেন ডিয়ন ইব্রাহিম। খেলোয়াড়দের ফিল্ডিং ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংয়ের ঘাটতি দূর করার পুরোনো মিশন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন স্টুয়ার্ট মাতসিকেনিয়েরি।
তবে টিম ম্যানেজমেন্টে কিছুটা নতুনত্ব আনা হয়েছে। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের দল ‘ঈগলস’-এর ম্যানেজার হিসেবে সফল সাবেক অলরাউন্ডার চামু চিভাবাভাকে এবার মূল জাতীয় দলে আনা হয়েছে। তিনি সিনিয়র দলের ম্যানেজার দিলীপ চৌহানের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন। ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি এবং পাইপলাইন শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই এই সাবেক অধিনায়ককে নতুন দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব সাবেক অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরার কাঁধেই রাখা হয়েছে।
মাঠের সাফল্য ও নতুন শুরু
বর্তমানে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে জিম্বাবুয়ে। নতুন টেস্ট অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার হাত ধরে ইতোমধ্যেই উড়ন্ত সূচনা করেছে স্বাগতিকরা। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচে তারা বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। মাঠের এই দুর্দান্ত জয় এবং মাঠের বাইরে কোর্টনি ওয়ালশের মতো কিংবদন্তিকে কোচিং প্যানেলে যুক্ত করা—সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্ত বার্তা দিচ্ছে। ওয়ালশের অভিজ্ঞতা জিম্বাবুয়ের তরুণ পেস বোলিং আক্রমণকে আরও ধারালো করে তুলবে, এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেট অনুরাগী ও বিশ্লেষকদের।
