চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই দ্রুত ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটিয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস ও ৪৭ রানের দুর্নিবার জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের বিশাল পাহাড়সম রান এবং বোলারদের তীক্ষ্ণ শিকারি মনোভাব মিলিয়ে এই ম্যাচ হয়ে ওঠে একতরফা প্রদর্শনী।
চতুর্থ দিন শুরুতেই আয়ারল্যান্ডকে সামনে রাখতে হয়েছিল অসম্ভব এক পাহাড়সম কাজ। শুরুতে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন দৃঢ়তায় ব্যাটিং করে কিছুটা আশা জাগালেও দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই তার বিদায় আইরিশ শিবিরে ধস নামিয়ে দেয়। এরপর নিচের সারির ব্যাটার ব্যারি ম্যাককার্থি ও গ্রাহাম হিউম কিছু দ্রুত রান তুললেও তা ম্যাচের গতিপথ বদলানোর মতো ছিল না। বাংলাদেশের পরিকল্পিত বোলিংয়ের সামনে তারা দাঁড়াতেই পারেনি।
বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণই ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রধান অস্ত্র। তাইজুল ইসলাম ও মুরাদ (সম্ভবত অভিষিক্ত মুসফিক হাসানকে বোঝানো হয়েছে) মিলে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে একাই ধ্বংস করে দেন আইরিশ ব্যাটিং অর্ডার। বলের টার্ন, বাউন্স এবং ধারাবাহিক লাইন–লেংথে ব্যাটাররা বারবার বিপদে পড়েছে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিশাল স্কোরই ম্যাচের ভিত্তি গড়ে দেয়। টপ–অর্ডার এবং মিডল–অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংসে স্কোর পৌঁছে যায় অপ্রতিরোধ্য উচ্চতায়। এরপর স্পিনারদের দাপুটে পারফরম্যান্স ম্যাচকে একপেশে করে দেয়।
ম্যাচ সারাংশ
| দল | প্রথম ইনিংস | দ্বিতীয় ইনিংস |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ | ৫৮৭/৮ডি | — |
| আয়ারল্যান্ড | ২৮৬ | ২৫৪ |
আয়ারল্যান্ডের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতা তাদের সামনে নতুন করে ধরা দিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ এই জয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করল, ঘরের মাটিতে তারা যে কোনো দলের জন্যই ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।
