ঢাকা, ৯ মার্চ, ২০২৫ (বাসস): দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসরের ফাইনালে এক ঐতিহাসিক সংঘর্ষ—ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড। রোমাঞ্চে ভরা এই ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, যা টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতার আলোকে সাহসী ও কৌশলগত একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মরুর দুপুরে ফাইনালের আবহ
দুবাইয়ের রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেল, দর্শকাসনে ইতোমধ্যেই ভারতীয় পতাকার নীল তরঙ্গ আর কিউই সমর্থকদের কালো-রূপালি পতাকার ঢেউ—দুটি দলের ঐতিহ্য, আবেগ ও ইতিহাস যেন মিলেমিশে গেছে মরুর গরম হাওয়ায়।
গ্যালারি ভরপুর, আকাশে আতশবাজির প্রস্তুতি, আর পিচের ওপর দৃষ্টি সবার—এটাই ২০২৫ সালের অন্যতম প্রতীক্ষিত ম্যাচ।
নিউজিল্যান্ডের টস সিদ্ধান্ত: “প্রথমে রান বোর্ডে তুলতে চাই”
টস জিতে স্যান্টনার বলেন,
“দুবাইয়ের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো মনে হচ্ছে। প্রথমে বড় রান তুলতে পারলে স্পিনারদের সাহায্যে আমরা চাপে ফেলতে পারব ভারতকে।”
কিউইরা এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একাধিকবার প্রথমে ব্যাট করে বড় স্কোর দাঁড় করিয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের ৫০ রানের জয়ে সেই ফর্ম স্পষ্ট হয়েছে।
তবে আজ তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলো — ইনজুরির কারণে পেসার ম্যাট হেনরি দলে নেই, তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তরুণ নাথান স্মিথ, যিনি এর আগে কেবল দুটি ওয়ানডে খেলেছেন।
ভারত: তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে অপরিবর্তিত একাদশ
ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা টস হেরে নির্বিকার—তার চোখে আত্মবিশ্বাস।
“আমাদের জন্য ব্যাটিং-বোলিং দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ নিয়ে নেমেছি এবং সাম্প্রতিক ফর্ম আমাদের দারুণ আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।”
ভারত এবারও একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর থেকে তাদের টিম কম্বিনেশন কার্যত নিখুঁত—রোহিতের নেতৃত্ব, কোহলির অভিজ্ঞতা, রাহুলের স্থিরতা ও হার্দিক-জাদেজার অলরাউন্ড দক্ষতা মিলে দলটিকে করেছে ভয়ংকরভাবে ভারসাম্যপূর্ণ।
ইতিহাসের আয়নায় ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড
ওয়ানডে ইতিহাসে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১১৯ বার—যার মধ্যে ভারত জিতেছে ৬১ ম্যাচে, আর নিউজিল্যান্ডের জয় ৫০টি।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসেও ভারত এগিয়ে—দুইবার (২০০২ ও ২০১৩) শিরোপা জিতেছে তারা, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড একবার (২০০০ সালে) শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল।
তবে বড় টুর্নামেন্টে কিউইদের বিপক্ষে ভারতের স্মৃতি একেবারে সুখকর নয়—২০১৯ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডই থামিয়েছিল কোহলিদের স্বপ্নযাত্রা।
তাই আজকের ফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং “অতীতের হিসাব চুকানো”র এক সুযোগও বটে।
দলীয় ভারসাম্য ও মূল খেলোয়াড়দের নজর
ভারত
রোহিত শর্মা: টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। বড় ম্যাচে তার নেতৃত্ব ও ব্যাটিং-দৃঢ়তা ভারতের মূল ভরসা।
বিরাট কোহলি: ফাইনাল মানেই কোহলি—যিনি কখনো মঞ্চকে ভয় পান না।
হার্দিক পান্ডিয়া ও রবীন্দ্র জাদেজা: ব্যাটে-বলে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন।
মোহাম্মদ সামি ও কুলদীপ যাদব: উইকেটশিকারী দুই অস্ত্র, যাদের উপর নির্ভর করবে ভারতীয় বোলিং ইউনিটের ভাগ্য।
⚫ নিউজিল্যান্ড
রাচিন রবীন্দ্র: তরুণ কিন্তু ভয়ংকর—টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে আছেন।
কেন উইলিয়ামসন: অভিজ্ঞতা, স্থিরতা ও কৌশল—কিউই ব্যাটিংয়ের প্রাণভোমরা।
স্যান্টনার ও ব্রেসওয়েল: স্পিনে চাপে রাখতে চান ভারতীয় মিডল অর্ডারকে।
কাইল জেমিসন ও ও’রুর্ক: পেসে নতুন বলে আঘাতের লক্ষ্য, মরুভূমির উইকেটে সুইং খুঁজে ফেরবেন।
একাদশসমূহ
ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, অক্ষর প্যাটেল, লোকেশ রাহুল (উইকেটরক্ষক), হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, মোহাম্মদ সামি, কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), উইল ইয়ং, রাচিন রবীন্দ্র, কেন উইলিয়ামসন, টম লাথাম, ড্যারিল মিচেল, মাইকেল ব্রেসওয়েল, গ্লেন ফিলিপস, নাথান স্মিথ, কাইল জেমিসন, উইল ও’রুর্ক।
ম্যাচ পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার প্রভাব
দুবাইয়ে আজ তাপমাত্রা ৩২°C এর কাছাকাছি, তবে হালকা বালুময় বাতাস ও শিশিরহীন আবহ ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসেও বোলারদের সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৭০–২৮০ এর উপরে রান তুললে ফাইনালে সেটি হতে পারে লড়াইযোগ্য স্কোর।
এক নজরে: ম্যাচের প্রেক্ষাপট
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট | আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ |
| ভেন্যু | দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম |
| ফাইনাল | ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড |
| টস ফলাফল | নিউজিল্যান্ড টস জিতে ব্যাটিং নিল |
| পিচ অবস্থা | শুকনো, ব্যাটিং উপযোগী, স্পিনারদের সহায়তা থাকবে |
| দেখার মতো খেলোয়াড়রা | রোহিত শর্মা, রাচিন রবীন্দ্র, কুলদীপ যাদব, স্যান্টনার |
| আবহাওয়া | পরিষ্কার আকাশ, তাপমাত্রা ৩২°C |
দুবাইয়ের এই মরুমঞ্চে আজ নির্ধারিত হবে বিশ্বের সেরা ওয়ানডে দল।
ভারতের জন্য এটি টানা তৃতীয় ফাইনাল—আর নিউজিল্যান্ডের জন্য ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ।
দুটি দলই ফাইনালে নামছে জয়ের তীব্র তাড়না নিয়ে, তবে শেষ পর্যন্ত যে দলটি চাপ সামলে শান্ত থাকতে পারবে, তারাই লিখবে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।
ক্রিকেটপ্রেমীরা তাই আজ অপেক্ষায় — “কে জিতবে মরুর মুকুট?”
