ঢাকা, ৯ মার্চ ২০২৫ (বাসস): ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) তৃতীয় রাউন্ডে আজ বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে দর্শকরা প্রত্যক্ষ করলেন এক জমজমাট লড়াই—একদিকে আল-আমিনের অসাধারণ সেঞ্চুরি, অন্যদিকে আবাহনীর ঐতিহ্যবাহী জয়ের ধারা। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে আবাহনী লিমিটেড ৪ উইকেটে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হলো।
আল-আমিনের একাকী লড়াই: দল পেল না সঙ্গী
রূপগঞ্জ টাইগার্সের ব্যাটিং শুরুটা ছিল রীতিমতো ধ্বস নামার মতো। মোট ৭২ রানের মধ্যেই তারা হারায় শীর্ষ চার ব্যাটারকে—পেস ও স্পিন দুই আক্রমণেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দলটি। কোনো ব্যাটারই ২০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি, যখন ক্রিজে আসেন অধিনায়ক আল-আমিন। তিনি তখনই ব্যাট হাতে নেতৃত্বের প্রকৃত উদাহরণ স্থাপন করেন।
বল সামলাতে সামলাতে নিজের ইনিংস গড়ে তোলেন, পরে রীতিমতো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন দুর্দান্ত স্ট্রোক খেলে। ৮৯ বলে ১০৮ রান—যার মধ্যে ছিল ১০টি চার ও ২টি ছক্কা—তাঁর এই ইনিংস কেবল দলের ইনিংসকে রক্ষা করেনি, বরং লড়াইয়ের মতো স্কোরও এনে দেয়। ১৪০ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর তিনি ফয়সাল আহমেদকে নিয়ে ৮২ রানের জুটি গড়ে দলকে ২৬০ রানে নিয়ে যান।
শেষ দিকে ফয়সাল অপরাজিত থাকেন ৪৯ রানে, যা দলের ইনিংসে স্থিতি এনে দেয়। তবে ততক্ষণে আবাহনীর বোলাররা তাদের কাজ সেরে ফেলেছেন—রাকিবুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট, নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন নেন ২টি করে উইকেট।
আবাহনীর জবাব: পরিকল্পিত ইনিংসের নিখুঁত উদাহরণ
২৬১ রানের লক্ষ্য বড় হলেও আবাহনীর ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যের অভাব নেই। ওপেনিংয়ে জিশান আলম (৩৯) ও পারভেজ হোসেন ইমন (৪৭) দলের জন্য একটি স্থিতিশীল সূচনা এনে দেন। তাদের ৭৩ রানের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয় আবাহনীর হাতে।
এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (৩৭) ধীর-স্থির ব্যাটিংয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। যদিও মোমিনুল হক মাত্র ৯ রানে আউট হন, তবে অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ মিথুন (৬০) এবং মোসাদ্দেক হোসেন (৪৭)* শেষ পর্যন্ত অসাধারণ দক্ষতায় ইনিংসটি সম্পন্ন করেন।
শেষ দিকে মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট—৪টি চার ও ২টি ছক্কার মারমুখী ব্যাটিংয়ে তিনি জয় নিশ্চিত করেন ৩৮ বল বাকি থাকতেই।
মোহাম্মদ মিথুন বলেন,
“লক্ষ্যটা সহজ ছিল না, কিন্তু আমরা শুরু থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি। পারভেজ ও জিশানের ওপেনিং ছিল ম্যাচের ভিত্তি, আমরা শুধু সেটি ধরে রেখেছি।”
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো
রূপগঞ্জ টাইগার্স: ৭২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আল-আমিনের সেঞ্চুরি ইনিংস দলকে উদ্ধার করে।
আবাহনীর ইনিংসে: ওপেনারদের জুটি ম্যাচের ভিত্তি তৈরি করে, এরপর শান্ত-মিথুন-মোসাদ্দেক মিলে জয় নিশ্চিত করেন।
মোসাদ্দেকের শেষ দিকের ইনিংস: ৩৮ বলে ৪৭* — নান্দনিক ও কার্যকরী ব্যাটিংয়ের মিশ্রণ।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
| বিভাগ | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| স্থান | বিকেএসপি, সাভার (৩ নম্বর মাঠ) |
| টস | আবাহনী লিমিটেড (ফিল্ডিং নেন) |
| রূপগঞ্জ টাইগার্স ইনিংস | ২৬০ (৪৯.৪ ওভারে) |
| আল-আমিন | ১০৮ (৮৯ বল, ১০ চার, ২ ছক্কা) |
| ফয়সাল আহমেদ | ৪৯* |
| রাকিবুল ইসলাম | ৩ উইকেট |
| আবাহনী ইনিংস | ২৬৩/৬ (৪৬.২ ওভারে) |
| মোহাম্মদ মিথুন | ৬০ (৩টি চার, ১টি ছক্কা) |
| মোসাদ্দেক হোসেন | ৪৭* (৩৮ বল, ৪ চার, ২ ছক্কা) |
| ফলাফল | আবাহনী জয়ী ৪ উইকেটে |
| ম্যাচসেরা | আল-আমিন (রূপগঞ্জ টাইগার্স) |
পয়েন্ট টেবিল ও পরিস্থিতি
এই জয়ের মাধ্যমে আবাহনী লিমিটেড ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ পরাজয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে রূপগঞ্জ টাইগার্স টানা পরাজয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে।
আল-আমিনের সেঞ্চুরি ছিল মানসম্মত, লড়াকু ও অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু আবাহনীর অভিজ্ঞতা, ব্যাটিং গভীরতা এবং ঠাণ্ডা মাথার ম্যাচ-ম্যানেজমেন্ট সেটিকে ছাপিয়ে যায়। মোসাদ্দেক-মিথুনের ম্যাচ শেষ করার দক্ষতা আবারও প্রমাণ করল—এই দল কেবল কাগজে নয়, মাঠেও টাইটেল ফেভারিট।
রূপগঞ্জের কাছে এটি এক দুঃখের পরাজয় হলেও, আল-আমিনের ইনিংস নিঃসন্দেহে ছিল দিনটির শোভনতম শিল্পকর্ম।
আর আবাহনীর জয়—তাদের ঐতিহ্য ও শক্তিরই ধারাবাহিকতা।
