পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙলেন পেসার তাসকিন আহমেদ

সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী পাকিস্তানের মধ্যকার চলতি সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম দিন পেস ও স্পিন দুই বিভাগেই পাকিস্তানি বোলাররা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের বেশ ভুগিয়েছিলেন। ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলাররা এই উইকেট থেকে কেমন সুবিধা পাবেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথম দিনের শেষ বিকেলে পাকিস্তান মাত্র ৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান সংগ্রহ করেছিল। তবে আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছেন গতিময় পেসার তাসকিন আহমেদ। সকালের সেশনের শুরুতেই তাঁর জোড়া আঘাতে ব্যাকফুটে চলে গেছে সফরকারী দল।

সকালের সেশনে তাসকিনের জোড়া আঘাত

আজ ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে সকালের সেশন থেকেই সফরকারী পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরার লক্ষ্য নিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেন্থে বোলিং করার কারণে বাংলাদেশি বোলারদের উইকেট পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। দিনের দ্বিতীয় ওভারের এবং নিজের স্পেলের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদ সাজঘরে ফেরান পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে।

মিরপুর টেস্টে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে দুই ইনিংসেই অর্ধশতক হাঁকানো এই ২৩ বছর বয়সী তরুণ ওপেনার তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন। উইকেটরক্ষক লিটন দাস তাঁর বাম দিকে চমৎকারভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ফলে ব্যক্তিগত ৯ রান করেই আব্দুল্লাহ ফজলকে বিদায় নিতে হয়। পাকিস্তানের দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে।

এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নিজের পরের ওভারে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তাঁর শিকার হন পাকিস্তানের আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস। তাসকিনের করা বলটি পিচে পড়ে কিছুটা দেরিতে সুইং করলে আজান আওয়াইস রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টা করেন, কিন্তু বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার মুমিনুল হকের হাতে সহজ ক্যাচ হিসেবে চলে যায়। অভিষেক টেস্টেই শতক হাঁকানো আজান আওয়াইস এবার মাত্র ১৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান প্রাথমিক চাপে পড়ে।

টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলতি টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসের দলীয় সংগ্রহ ও বোলারদের পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

দলের নাম ও ইনিংসমোট সংগৃহীত রানউইকেটের পতনপ্রধান অবদানকারী (রান ও উইকেট)
বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস)২৭৮১০ (অলআউট)লিটন দাস (১২৬ রান), খুররম শেহজাদ (৪ উইকেট)
পাকিস্তান (প্রথম ইনিংস – চলমান)২৩ (দ্বিতীয় দিনের শুরু)আজান আওয়াইস (১৩ রান), তাসকিন আহমেদ (২ উইকেট)

প্রথম দিনের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট ও লিটনের সেঞ্চুরি

এর আগে সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। সফরকারী বোলারদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা দ্রুত উইকেট হারালে স্কোরবোর্ডে সম্মানজনক রান তোলা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়। সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে একাই টেনে তোলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান লিটন দাস। তিনি পাকিস্তানি বোলারদের সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে ১২৬ রানের একটি লড়াকু এবং চমৎকার শতক উপহার দেন।

লিটন দাসের এই শতকের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ২৭৮ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। পাকিস্তানের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন খুররম শেহজাদ, তিনি একাই ৪টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামিয়েছিলেন। তবে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তোলার পর দ্বিতীয় দিনে তাসকিনের এই জোড়া আঘাত বাংলাদেশকে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে এনেছে।

Leave a Comment