টি-টোয়েন্টিতে নতুন নজির ও রশিদের ব্যয়বহুল বোলিং

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা আইপিএলের ২০২৬ আসরে দলীয় ও ব্যক্তিগত রানের গতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে স্বাগতিক কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে। এই ম্যাচে কোনো সেঞ্চুরি বা শতক না হলেও দুই দল মিলিয়ে মোট ৬টি অর্ধশতক বা পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস দেখা গেছে, যা এই সংস্করণের ক্রিকেটে প্রথম ঘটনা। চারশ পঁয়ষট্টি রানের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স ২৯ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে।

ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও অর্ধশতকের বিবরণ

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক কলকাতা নাইট রাইডার্স নির্ধারিত ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বিশাল পুঁজি সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে ফিন অ্যালেন ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করেন। দ্বিতীয় উইকেটে অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী ও ক্যামেরন গ্রিন ১০৮ রানের একটি শক্তিশালী জুটি গড়েন। রঘুবংশী ৪৪ বলে ৮২ রান এবং গ্রিন ২৮ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। এটি গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড। এছাড়া এই ইনিংসে কলকাতা যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২টি ছক্কা হাঁকায়।

জবাবে ২৪৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাট টাইটান্স বেশ ভালো লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ২১৮ রানে থমকে যায়। দলের পক্ষে অধিনায়ক শুভমান গিল ৪৯ বলে সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেন। এছাড়া জস বাটলার ৩৫ বলে ৫৭ রান এবং সাই সুদর্শন ২৮ বলে ৫৩ রান করেন। কলকাতার বোলার সুনিল নারিন ২ উইকেট নেন। গুজরাটের ইনিংসে ৩টি অর্ধশতক হওয়ায় দুই দল মিলিয়ে ম্যাচে মোট ৬টি অর্ধশতকের বিশ্বরেকর্ড তৈরি হয়।

ম্যাচে অর্জিত প্রধান রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের খতিয়ান

কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম গুজরাট টাইটান্সের এই ঐতিহাসিক ম্যাচে যেসব নতুন রেকর্ড ও মাইলফলক তৈরি হয়েছে, তা নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিকরেকর্ডের বিবরণঅর্জিত পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়পূর্ববর্তী রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য
এক ম্যাচে সর্বোচ্চ অর্ধশতক৬টি (অ্যালেন, রঘুবংশী, গ্রিন, গিল, বাটলার ও সুদর্শন)টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি প্রথম ঘটনা।
দ্রুততম ৩০০০ রান (টি-টোয়েন্টি)সাই সুদর্শন (৭৮ ইনিংসে মাইলফলক স্পর্শ)শন মার্শ (৮৫ ইনিংস), ক্রিস গেইল (৮৭ ইনিংস)।
অধিনায়ক হিসেবে ৫০০+ রানশুভমান গিল (পরপর দুই মৌসুমে এই কীর্তি)ডেভিড ওয়ার্নার ও লোকেশ রাহুল সর্বোচ্চ ৩ বার করেছেন।
রশিদের ব্যয়বহুল আইপিএল বোলিংরশিদ খান (৪ ওভারে উইকেটহীন থেকে ৫৭ রান প্রদান)রশিদ খানের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ রান ৫৯।
এক আসরে দলীয় ২০০+ রান২০২৬ আসরে ৬০ ম্যাচে মোট ৫২ বার দুইশত রান২০২৫ আসরের সর্বোচ্চ ৫২ বারের রেকর্ড স্পর্শ (১৪ ম্যাচ বাকি)।
এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ক্যাচ মিসগুজরাট টাইটান্স কর্তৃক ৪টি ক্যাচ হাতছাড়াআইপিএলের আরও ৭টি ম্যাচে সমান ৪টি ক্যাচ মিসের রেকর্ড রয়েছে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও অন্যান্য মাইলফলক

এই ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের আফগান তারকা রশিদ খান বল হাতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি দিন পার করেন। তিনি ৪ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট না পেয়ে ৫৭ রান খরচ করেন, যা আইপিএলে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে বাজে বোলিং পরিসংখ্যান।

অন্যদিকে, গুজরাটের তরুণ ব্যাটসম্যান সাই সুদর্শন এই ম্যাচে ৫৩ রানের ইনিংস খেলার পথে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে কম ইনিংস খেলে ৩ হাজার রান পূর্ণ করার নতুন কীর্তি গড়েন। তিনি মাত্র ৭৮টি ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল শন মার্শের দখলে, যিনি ৮৫টি ইনিংস খেলেছিলেন। এই তালিকায় ডেভন কনওয়ে ও ডি’আরকি শর্ট ৮৬ ইনিংসে এবং ক্রিস গেইল ৮৭ ইনিংসে ৩ হাজার রান করেছিলেন।

গুজরাটের অধিনায়ক শুভমান গিল এই ম্যাচে ৮৫ রান করার মাধ্যমে অধিনায়ক হিসেবে আইপিএলের টানা দুই আসরে ৫০০-এর বেশি রান করার গৌরব অর্জন করেন। অধিনায়ক হিসেবে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিও দুইবার এই কীর্তি গড়েছিলেন। এই তালিকায় ৩ বার করে ৫০০-এর বেশি রান নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার ও লোকেশ রাহুল। তবে গুজরাটের জন্য ফিল্ডিংয়ের দিনটি ছিল বিব্রতকর, কারণ তারা এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪টি ক্যাচ মিস করার যৌথ রেকর্ডে নাম লেখায়।

Leave a Comment