জন্মদিন উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। কিন্তু সেই আনন্দ আর আসেনি। মাত্র একদিন পরই ৩৯ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল আফগানিস্তানের সাবেক তারকা বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরানের। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই অকাল প্রয়াণে আফগানিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
শাপুর জাদরানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এক শোকবার্তায় বোর্ড জানায়, দেশের ক্রিকেটের একজন নিবেদিতপ্রাণ সাবেক ক্রিকেটারকে হারানো তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বোর্ড তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আফগান ক্রিকেটে তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের ক্রিকেট যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার কঠিন সংগ্রামে ব্যস্ত, তখন জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন শাপুর জাদরান। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামোগত সংকট এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার অভাব—এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও যে প্রজন্ম দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে শুরু করেছিল, তিনি ছিলেন সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াকু মানসিকতা দিয়ে তিনি আফগানিস্তানের ক্রিকেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাঁহাতি এই পেসার নতুন বলে গতি ও সুইংয়ের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে ফেলতে পারতেন। একদিনের আন্তর্জাতিক এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক—উভয় সংস্করণেই তিনি দেশের হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়া, আক্রমণাত্মক বোলিং এবং দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বোলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে তার অবদান শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যে দলটি প্রথমবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তোলে, শাপুর জাদরান ছিলেন সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আফগান ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত করতে যে প্রজন্ম অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে, তাদের মধ্যে তার নাম সবসময়ই সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানকে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দলে পরিণত করার পেছনে যেসব ক্রিকেটারের অবদান সবচেয়ে বেশি, শাপুর জাদরান তাদের অন্যতম। মাঠে তার আগ্রাসী মনোভাব প্রতিপক্ষকে চাপে রাখত, আবার সতীর্থদের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করত। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে তিনি তরুণদের অনুপ্রাণিত করতেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা দেখাতেন।
জীবনের শেষ সময়ে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করলেও ক্রিকেটে তার অবদান কখনো বিস্মৃত হবে না। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লড়াই করা, প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের পাশে থাকা এবং আফগানিস্তানের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে নিরলস ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুর খবরে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার, ক্রিকেট প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং অসংখ্য সমর্থক শোক প্রকাশ করেছেন।
জন্মদিনের ঠিক আগের এই বেদনাদায়ক বিদায় শুধু একজন সাবেক ক্রিকেটারের মৃত্যুই নয়, আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তিও বটে। তবে তার লড়াই, নিষ্ঠা এবং দেশের ক্রিকেটের জন্য রেখে যাওয়া অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
![জন্মদিনের আগেই নিভে গেল শাপুর জাদরানের জীবনপ্রদীপ 1 জন্মদিনের আগেই নিভে গেল শাপুর জাদরানের জীবনপ্রদীপ Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/07/জন্মদিনের-আগেই-নিভে-গেল-শাপুর-জাদরানের-জীবনপ্রদীপ.png)