আম্পায়ার নিয়োগ । ক্রিকেট খেলার আইন কানুন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় আম্পায়ার নিয়োগ। ক্রিকেট খেলার মূল চালিকাশক্তি হল আম্পায়ার। একটি ম্যাচে খেলা সুন্দরভাবে, আইনসম্মতভাবে এবং ন্যায্যভাবে চলার জন্য আম্পায়ারের ভূমিকা অপরিসীম।

আম্পায়ার নিয়োগ

 

আম্পায়ার নিয়োগ

 

৩ নং নিয়ম

  • টসের আগে খেলা পরিচালনার জন্য দুইজন আম্পায়ার নিয়োগ করতে হবে।

  • তারা উইকেটের দু’দিকে অবস্থান নিয়ে, আইন-সম্মতভাবে খেলা পরিচালনা করবেন।

  • খেলার মধ্যেও কোন কারণে আম্পায়ার পরিবর্তন করতে হলে তা শুধুমাত্র দুই দলের অধিনায়কের সম্মতি নিয়ে সম্ভব।

 

আম্পায়ারের দায়িত্ব

  1. খেলার নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা:

    • ব্যাটসম্যান, বোলার, ফিল্ডার এবং স্কোরার সকলকে নিয়ম অনুসারে খেলতে সহায়তা করা।

    • রান, আউট এবং ওভার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া।

  2. মাঠ পর্যবেক্ষণ:

    • পিচের অবস্থা, আবহাওয়া এবং অন্যান্য পরিবেশগত দিক যাচাই করা।

    • নিরাপত্তা এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

  3. ফেরার সিদ্ধান্ত:

    • বিভিন্ন পরিস্থিতিতে স্টাম্পড, এলবিডব্লিউ, রান আউট, হিট দ্য বল বা অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ডের মতো আউটের সিদ্ধান্ত নেওয়া।

 

আম্পায়ার নিয়োগ

 

দৈনন্দিন প্রস্তুতি

  • প্রতিদিন খেলা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে আম্পায়ারদের মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে।

  • উপস্থিতি মাঠের কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

  • বড় ম্যাচে দেখা যায়, একজন লোক কাগজ কলম নিয়ে স্কোরার হিসেবে বসে থাকে।

  • স্কোরার ও আম্পায়ারের সমন্বয়:

    • ব্যাটসম্যানের রানের ইশারা, ওভার শেষ বা আউটের সিদ্ধান্ত স্কোরারকে জানানো হয়।

    • স্কোরার সেই তথ্য স্কোরশীটে নথিভুক্ত করে।

  • আসলে, আম্পায়ার ছাড়া ক্রিকেটের বড় ম্যাচ খেলা অসম্ভব।

 

 

আম্পায়ারের গুরুত্ব

  • ক্রিকেট একটি দলীয় খেলা, যেখানে দুইটি দল থাকে, প্রতি দল ১১ জন খেলোয়াড়ের।

  • ব্যাট ও বলের মধ্য দিয়ে খেলা চালানো হয়।

  • আম্পায়াররা নিশ্চিত করে, খেলা ন্যায্য এবং স্বচ্ছভাবে চলছে।

  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, যেমন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড, আম্পায়ারের ভূমিকা অপরিহার্য।

 

 

ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

  • ক্রিকেটের উদ্ভব হয় ইংল্যান্ডে

  • পরবর্তীতে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোতে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

  • ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ে স্বেচ্ছায় টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও, ২০১১ সালে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসে।

  • প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুইজন আম্পায়ারের পাশাপাশি একজন তৃতীয় আম্পায়ার বা রেফারি দায়িত্ব পালন করেন।

 

আম্পায়ার হলেন ক্রিকেটের নিয়ম রক্ষক ও খেলার সুশৃঙ্খলতা নিশ্চিতকারী। তিনি শুধু আইন প্রয়োগ করেন না, বরং খেলার গতি, নিরাপত্তা এবং ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখেন। একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার মান ও ফলাফল নির্ভর করে আম্পায়ারের সততা, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর।

Leave a Comment