আইপিএলে জোফরা আর্চারের দীর্ঘতম ওভারের বিব্রতকর রেকর্ড

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে বোলিংয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর রেকর্ডের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চার। গত শনিবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইনিংসের প্রথম ওভারটি সম্পন্ন করতে আর্চারকে ১১টি ডেলিভারি করতে হয়েছে। এটি আইপিএলের ১৭ বছরের ইতিহাসে এক ওভারে করা সর্বোচ্চ সংখ্যক বলের যৌথ রেকর্ড। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই ওভারে আর্চার মোট ১৮ রান খরচ করেন, যার মধ্যে ৯ রানই এসেছে অতিরিক্ত খাত থেকে।

ওভারের বিশদ বিবরণ ও ম্যাচ পরিস্থিতি

রাজস্থান রয়্যালসের বোলিং ইনিংস শুরু করতে এসে প্রথম বল থেকেই খেই হারিয়ে ফেলেন এই গতিতারকা। গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটার সাই সুদর্শন আর্চারের প্রথম ডেলিভারিতেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। এরপর আর্চার তার লাইন ও লেন্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ১১ বলের সেই দীর্ঘ ওভারে তিনি ৫টি ওয়াইড এবং ১টি নো বল করেন। প্রথম ওভারের সেই ধাক্কা তিনি পুরো ম্যাচে আর সামলে উঠতে পারেননি।

নিচে ম্যাচে জোফরা আর্চারের বোলিং পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:

বোলিং পরিসংখ্যানতথ্য
মোট ওভার
প্রথম ওভারের বল সংখ্যা১১
অতিরিক্ত রান (প্রথম ওভার)৯ (৫টি ওয়াইড, ১টি নো বল)
মোট খরচকৃত রান৪৬
উইকেট প্রাপ্তি
ওভার প্রতি গড় রান১৫.৩৩

আইপিএলের ইতিহাসে ১১ বলের ওভারের রেকর্ড

আইপিএলে এক ওভারে ১১টি ডেলিভারি করার নজির এর আগে থাকলেও আর্চারের ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ কারণে ভিন্ন। তিনি আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি বোলার হিসেবে এই তিতকুটে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন। এর আগে এই তালিকায় থাকা বাকি সাতজন বোলারই ছিলেন ভারতীয়। এ ছাড়া আর্চারই প্রথম বোলার যিনি ম্যাচের একেবারে প্রথম ওভারেই এমন রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে যারা ১১ বলের ওভার করেছেন, তারা ইনিংসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে এই ভুল করেছিলেন।

আইপিএলে ১১ বলের ওভার করা বোলারদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

বোলারের নামবছরদল
মোহাম্মদ সিরাজ২০২৩রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর
তুষার দেশপান্ডে২০২৩চেন্নাই সুপার কিংস
শার্দুল ঠাকুর২০২৫
সন্দিপ শর্মা২০২৫
হার্দিক পান্ডিয়া২০২৫মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
আর্শদিপ সিং২০২৬পাঞ্জাব কিংস
জোফরা আর্চার২০২৬রাজস্থান রয়্যালস

ম্যাচের ফলাফল ও সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

আর্চারের বোলিং বিপর্যয়ের দিনে গুজরাট টাইটান্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের পক্ষে অধিনায়ক শুভমান গিল ৪৪ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এবং সাই সুদর্শন করেন ৫৫ রান।

২৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। দলের পক্ষে রবীন্দ্র জাদেজা ৩৮ এবং তরুণ বৈভব সূর্যবংশী ৩৬ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৬.৩ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয়ে যায় রাজস্থান। ফলে গুজরাট টাইটান্স ৭৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। রাজস্থানের এই হারের পেছনে ইনিংসের শুরুতে আর্চারের সেই অতিরিক্ত রান সম্বলিত দীর্ঘ ওভারটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে আইপিএলের উন্নত ফ্লাডলাইটের নিচে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জের মধ্যে আর্চারের এমন ফর্মহীনতা রাজস্থান শিবিরের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment