আম্পায়ারের কাজ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় আম্পায়ারের কাজ।

আম্পায়ারের কাজ

৪৫ নং নিয়ম

আম্পায়াররা টস হবার আগেই বিশেষ শর্তগুলি (যদি থাকে ) জেনে নেবেন, এবং খেলার ধারার জন্য দু’পক্ষের অধিনায়কের সঙ্গে একমত হবেন। উইকেট ঠিক পোতা হয়েছে কিনা, পিচ ঠিক আছে কিনা, এবং সময় নির্ধারণের জন্যে ঘড়ি ঠিক করে নেবেন।

দ্রষ্টব্য

(ক) বিশেষ শর্ত বলতে, খেলার সময়, লাঞ্চ এবং টি-এর সময় প্রভৃতি বোঝায় ৷ তবে শর্তগুলো আইনের সীমানার মধ্যে থাকবে ।

(খ) অধিনায়করা খেলার সময় কোন্ ঘড়ি অনুযায়ী কাজ চলবে, তা জানতে চাইতে পারেন, অর্থাৎ অধিনায়কদের জানার অধিকার আছে ।

বিশেষ মতামত

একদিনের অথবা অর্ধদিনের খেলা হলে, নির্ধারিত সময় কিংবা ওভার হিসেবে ইনিংস হলে, আম্পায়াররা সে বিষয় জেনে নেবেন, এবং অধিনায়কদের পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেবেন।

৪৬নং নিয়ম

খেলার আগে এবং খেলা চলার সময় আম্পায়াররা নজর রাখবেন যে, খেলার ধারা এবং ব্যাট, বল প্রভৃতি খেলার জিনিসগুলো আইন- সম্মতভাবে কোটা ঠিক ও কোন্‌টা বেঠিক, এবং কোন্‌টা নীতি অনুযায়ী বা ফেয়ার ও কোন্‌টা নীতি বিগর্হিত বা আনফেয়ার খেলা, তার নির্ধারক একমাত্র তাঁরাই। তাঁদের উপর দায়িত্ব ন্যস্ত হলে খেলার মাঠের উপযুক্ততা, আবহাওয়া, আলো ( মেঘের জন্যে কিংবা বিকেলে অন্ধকার হলে ) এবং সর্বোপরি খেলার ফলাফল ঠিক করাও আম্পায়ারদের উপর নির্ভর করবে।

খেলার সমস্ত কিছু সন্দেহের অবসান ঘটাবেন তাঁরা। প্রত্যেক ইনিংস-এর পর আম্পায়াররা দিক পরিবর্তন করবেন। আম্পায়ারদের মধ্যে মতানৈক্য হলে, যে অবস্থায় ব্যাপারটি রয়েছে বা ঘটেছে সেই অবস্থাই চলবে বা থাকবে ।

দ্রষ্টব্য

( ক ) আম্পায়াররা তাঁদের সুবিধে মতো স্থানে দাড়াবেন, যেখান থেকে খেলার খুটি-নাটি সবকিছু ভালোভাবে দেখা যাবে। বোলারের দিককার আম্পায়ার এমন জায়গায় দাড়াবেন না, যাতে বোলারের দৌড়ে এসে বল করতে অসুবিধা হয়, কিংবা ব্যাটসম্যানের দৃষ্টি আম্পায়ারের উপর পড়ে। লেগের দিকে না দাঁড়িয়ে লেগ আম্পায়ার যদি অফের দিকে দাড়ান, তাহলে তাঁকে ফিল্ডিং পক্ষের অধিনায়কের মত নিতে হবে, এবং ব্যাটসম্যানকে সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল করে দিতে হবে ।

(খ) আম্পায়াররা কোন সময়ই তাঁদের নির্দেশের জন্যে খেলোয়াড়দের কিংবা দর্শকদের মতামতের উপর করবেন না।

(গ) সিগন্যাল দিয়ে আম্পায়ার নির্দেশ দেবেন, আর যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে খেলোয়াড়দের দেখানোর জন্যে সিগন্যাল দেবার সময় সিগন্যালের কথাটাও ঘোষণা করে বলবেন।

 

(ঘ) ফেয়ার এবং আনফেয়ার খেলা

( ১ ) আবেদন ব্যতিরেকেও আম্পায়াররা আনফেয়ার খেলায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন। আইনানুযায়ী খেলায় হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন না দেখলে, তাঁরা খেলায় হস্তক্ষেপ করবেন না কোনমতেই।

( ২ ) খেলার সময় যদি কোন খেলোয়াড় আম্পায়ারকে নিয়ে এবং তাঁর মতামত নিয়ে টিটকিরী দিতে থাকেন বা সমালোচনা করেন বা নির্দেশ পালন না করেন, প্রথমে সেই দলের অধিনায়ককে ব্যাপারটিতে হস্তক্ষেপ করার জন্যে অনুরোধ করবেন, তাতেও যদি কোন ফল না হয়, তখন তিনি ব্যাপারটা সেই টীমের কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করবেন ।

( ৩ ) বলটি ধরার সুবিধার জন্য বোলার মাটিতে বল ঠুকে বলের সেলাই লিফট (তুলে ফেল। ) করাতে পারেন না, করলে যদি দরকার হয় তাহলে আম্পায়ার বল পালটিয়ে দেবেন, এবং অধিনায়ককে এই আনফেয়ার পন্থা অনুসরণ করতে নিষেধ করবেন। বোলার রজন, মোম প্রভৃতি কিংবা তেল বলের পালিশ বাড়াবার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে বল ভিজে গেলে বোলার তোয়ালে দিয়ে বা কাঠের গুঁড়ো দিয়ে ঘষতে পারবেন, বা মুছে নিতে পারবেন ।

(৪) ফিল্ডিং পক্ষের কোন খেলোয়াড় যাতে খেলার সময় স্ট্রাইকারকে কোন আওয়াজ করে কিংবা অঙ্গভঙ্গী করে বিরক্ত না করেন, সেদিকে নজর রাখবেন ।

(৫) বোলারের সুবিধার্থে যদি কোন খেলোয়াড়ের পিচ খারাপ করার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে আম্পায়ার সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন এবং পিচ রক্ষা করবেন, অর্থাৎ পিচ খারাপ করতে দেবেন না ।

(৬) যদি ফাস্ট বোলার ইচ্ছে করে ব্যাটসম্যানকে লক্ষ্য করে শর্ট পিচ বল দিতে থাকে, এবং ব্যাটসম্যান যদি সোজাসুজি ঠিক তাঁর উইকেটে থাকেন, তাহলে সেই সময় খেলাকে ফেয়ার গেম বলা চলতে পারে না অর্থাৎ ফেয়ার বোলিং হচ্ছে না। তখন বোলারের দিককার আম্পায়ার নিম্নলিখিত ব্যবস্থা অবলম্বন করতে পারেন ।

(অ) বোলারকে ঐ ধরনের পারেন । বল করতে নিষেধ করতে

(আ) বোলার সেকথা না শুনলে, সেই দলের অধিনায়ককে ও অপর আম্পায়ারকে ঐ বিষয় জানাবেন।

(ই) তাতেও অর্থাৎ অধিনায়কের কথায়ও যদি কাজ না হয়, তাহলে প্রথমে ডেড বল এবং পরে ঐ বোলারকে আর বল করতে না দেবার জন্যে সেই অধিনায়ককে নির্দেশ দেবেন এবং অধিনায়ক সেই ইনিংসে বোলারকে তৎক্ষণাৎ বল করা বন্ধ করে দেবেন। ঐ বোলার আর বল করতে পারবে না, এবং পরের বিরতিতেই ব্যাটিং পক্ষের অধিনায়ককে ব্যাপারটা জানাবেন যে বোলারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সে ঐ একই ইনিংসে আর বল করতে পারবে না !

(৭) যদি বোলার তার রান আপের সীমানায় ফিরে যাবার সময় ব্যাটসম্যানরা চুরি করে রান নিতে চেষ্টা করেন, তাহলে সেটাও আনফেয়ার ; কারণ বলটা তখন ‘ডেড বল’ থাকে। বোলার বলটি যে কোন দিকের উইকেটে না ছোড়েন ( রান আউট করার জন্য ) তা হলে ব্যাটসম্যানরা পরস্পরকে ক্রস করলেই আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ঘোষণা করবেন এবং উভয় ব্যাটসম্যানই পূর্ববর্তী নিজ নিজ উইকেটে ফিরে যাবেন ।

(৮) ফিল্ডিং পক্ষের কোন খেলোয়াড় দলাই মলাই বা স্নান করার জন্যে মাঠ ত্যাগ করতে পারবে না।

(ঙ) মাঠ, আবহাওয়া এবং আলো

খেলা আরম্ভ হওয়ার আগে থেকে, অর্থাৎ খেলার শর্ত সম্পর্কে যদি ঠিক করা না থাকে, তাহলে খেলা চলার সময় ( খেলার মধ্যে হলে ব্যাটসম্যানদ্বয় তাঁদের ক্যাপ্টেনের হয়ে বলতে পারেন ) মাঠের উপযুক্ততা, আবহাওয়া অথবা আলোর ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নিতে পারেন। মতানৈক্য দেখা দিলে আম্পায়ারদের মতামতকে মেনে নিতে হবে, এবং আম্পায়াররা সে ক্ষেত্রে ঠিক ভা বিচার করবেন।

খেলা একমাত্র তখনই বন্ধ হতে পারে, যখন অবস্থা এমন খারাপ যে খেলা চালান অসঙ্গত ও বিপজ্জনক। যেমন— মাঠে জল দাড়িয়ে গেলে কিংবা এমনই ভিজে বা পিছল যে ব্যাটসম্যান এবং বোলারের দাড়াতেই অসুবিধা হচ্ছে, কিংবা ফিল্ডাররা বল ধরার জন্যে ছোটাছুটি করতে পারছেন না; কিন্তু শুধু ঘাস ভিজে থাকলে এবং বল স্লিপ করলে খেলা বন্ধ হবে না ।

খেলা বন্ধের পর অধিনায়ক অথবা আম্পায়াররা, যদি তাঁদেরউপর দায়িত্ব থাকে, সঙ্গে কোন খেলোয়াড় না নিয়ে মাঠ পরিদর্শনে আসবেন, এরপর অবস্থার পরিবর্তন ঘটলেই মাঠে আসবেন, এবং তা না হলেও, অর্থাৎ অবস্থার পরিবর্তন না ঘটলেও নির্ধারিত সময় অন্তর তাঁরা মাঠ পরিদর্শনে আসবেন। খেলা চালান সম্ভব মনে হলেই তাঁরা খেলা আরম্ভ করবার জন্যে অধিনায়কদের ও খেলোয়াড়দের বলবেন ।

 

আম্পায়ারের কাজ

 

অতিরিক্ত মতামত

(১) নতুন ব্যাটসম্যান খেলতে আসলে ওভারের আর ক’টা বল আছে আম্পায়ারকে তা জানাতে হবে না। তবে জিজ্ঞেস করলে নিশ্চয়ই বলবেন।

(২) খেলা শেষ বা কোন বিরতির আগের ওভারকে আম্পায়ার ‘লাস্ট ওভার’ বলবেন না ।

(৩) একদিনের খেলায় প্রত্যেক পক্ষের ইনিংস সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আম্পায়ার দিক পরিবর্তন করবেন না ।

(৪) উইকেট-রক্ষক বাদে অন্য কোন ফিল্ডসম্যান গ্লাভস, ব্যাণ্ডেজ অথবা হাতে প্লাস্টার লাগিয়ে মাঠে নামতে পারবেন না । তবে অধিনায়ক যদি বিশেষ প্রয়োজনে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আম্পায়ার সে বিষয়ে কিছু বলবেন না ।

Leave a Comment