আইপিএলে বিসিসিআই-এর নতুন প্রটোকল: মাঠে ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলমান আসরে শৃঙ্খলারক্ষা এবং নিরাপত্তাজনিত প্রটোকল আরও জোরদার করেছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। বোর্ডের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে খেলোয়াড়, ম্যাচ অফিশিয়াল, ধারাভাষ্যকার এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা মাঠের ভেতর কোনো ধরনের ব্যক্তিগত ভিডিও বা ভ্লগ (Vlog) ধারণ করতে পারবেন না। মূলত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ‘প্লেয়ার অ্যান্ড ম্যাচ অফিশিয়াল এরিয়া’ (পিএমওএ) সংলগ্ন স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পরিধি ও আইনি কঠোরতা

বিসিসিআই-এর নতুন এই নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আইপিএল বা বোর্ডের সাথে যুক্ত যেকোনো ব্যক্তি মাঠের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত কোনো কন্টেন্ট তৈরি করলে তাঁকে আইনি নোটিশের সম্মুখীন হতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল বর্তমান খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বরং সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ধারাভাষ্যকার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা বিসিসিআই বা আইপিএলের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরিহিত থাকবেন, তাঁরা কোনো অবস্থাতেই মাঠের ভেতরে মোবাইল বা ক্যামেরা ব্যবহার করে চিত্রধারণ করতে পারবেন না। এই কড়াকড়ি খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনুমোদিত ডিজিটাল কন্টেন্ট টিম ছাড়া অন্য কেউ পিএমওএ বা ডাগআউটের মতো সংবেদনশীল এলাকায় ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবে না।

সাম্প্রতিক বিতর্ক ও জিরো টলারেন্স নীতি

আইপিএলের এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে বেশ কিছু সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। পাঞ্জাব কিংসের পেসার আরশদীপ সিংকে সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ভ্লগিং কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিসিসিআই। এর পরদিনই এই আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এছাড়া রাজস্থান রয়্যালসের স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের বিমানে ধূমপান সংক্রান্ত ভিডিও বিতর্ক খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ন্ত্রণে বোর্ডকে আরও কঠোর হতে বাধ্য করেছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, এবারের আসরে বেশ কয়েকজন ধারাভাষ্যকার এবং সম্প্রচারকারী ইতিমধ্যেই এই নিয়ম লঙ্ঘন করে তিরস্কৃত হয়েছেন। এক ম্যাচে ডাগআউটের কাছে বসে এক সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও করতে দেখা গেলে বিসিসিআই-এর দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ) তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বাণিজ্যিক সুরক্ষা

বিসিসিআই বর্তমানে খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ‘রিল সংস্কৃতি’ বা অতিমাত্রায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন। পিএমওএ বা ডাগআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে ভিডিও ধারণ করলে দলের কৌশলগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা দুর্নীতি দমন ইউনিটের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

বোর্ডের এই নতুন নীতির পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে:

  • নিরাপত্তা ও ফোকাস: ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়দের মনঃসংযোগ বজায় রাখা এবং ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের গোপনীয়তা রক্ষা করা।

  • বাণিজ্যিক স্বার্থ: আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্বের বাণিজ্যিক মূল্য ও স্বত্বাধিকারীদের অধিকার সংরক্ষণ করা। লাইভ স্ট্রিমিং বা ব্যক্তিগত ভিডিওর মাধ্যমে ড্রেসিংরুমের দৃশ্য বাইরে চলে আসলে তা আইপিএলের কঠোর নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক বলয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

Leave a Comment