বাটলার–ব্রুক ঝড়ে ভারতের হোয়াইটওয়াশ

ইংল্যান্ড সফরের শেষ টি-টোয়েন্টিটিও ভারতের জন্য হয়ে রইল তিক্ত অভিজ্ঞতা। সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচের সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে ৫৬ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত না হলে ব্যবধান আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। ফলে টানা দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের জন্য এই সফর আত্মবিশ্লেষণের বড় উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের মৌসুমে “ইংল্যান্ড ৪-০ ভারত” ফলটি অনেকের কাছে প্রথম দেখায় ফুটবলের স্কোরলাইন মনে হতে পারে। বাস্তবে এটি ক্রিকেটের ফল, যেখানে পাঁচ ম্যাচের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড প্রায় প্রতিটি বিভাগেই ভারতকে ছাপিয়ে গেছে। ব্যাটিং, বোলিং এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই ছিল স্বাগতিকদের স্পষ্ট আধিপত্য।

সিরিজের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচ জিতে আগেই শিরোপা নিশ্চিত করেছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ ম্যাচে আত্মতুষ্টির কোনো ছাপ দেখা যায়নি। বরং নিজেদের ছন্দ ধরে রেখে আরও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট উপহার দেয় ইংলিশরা।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু সেই চাপ খুব দ্রুতই সামলে নেন জস বাটলার ও অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ভারতের বোলারদের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেন তারা। বাটলার ছিলেন বিধ্বংসী ছন্দে। মাঠের চারদিকে সমান স্বাচ্ছন্দ্যে শট খেলতে খেলতে তিনি ১৩১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। অন্য প্রান্তে হ্যারি ব্রুক খেলেন দায়িত্বশীল অথচ ইতিবাচক ক্রিকেট। তিনি ৯৫ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত দলের ভরসা হয়ে থাকেন।

চতুর্থ উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ২৩৩ রানের জুটি শুধু ম্যাচের চিত্রই পাল্টে দেয়নি, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যেকোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডও গড়ে। এই জুটির সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংল্যান্ড। ভারতের হয়ে শিবম দুবে দুটি উইকেট নিলেও অন্য বোলাররা ধারাবাহিকভাবে রান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। বিশেষ করে মধ্য ও শেষের ওভারগুলোতে ইংল্যান্ড সহজেই রান তুলেছে।

২৫৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। প্রয়োজনীয় রানরেট দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ব্যাটারদের ঝুঁকি নিতে হয়। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। ঈশান কিষান ৫৬ এবং তিলক ভার্মা ৫৩ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় তাদের ইনিংস দলকে জয়ের পথে নিতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০১ রান তুলেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।

ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন স্যাম কারান। তিনি ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের রান তাড়ার আশা অনেকটাই নিভিয়ে দেন। অন্য বোলাররাও নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথে বল করে ভারতীয় ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগ সীমিত রাখেন। পুরো ইনিংসেই ফিল্ডিং ও বোলিং পরিকল্পনায় ইংল্যান্ড ছিল অনেক বেশি সংগঠিত।

এই সিরিজ জয়কে অনেকেই কয়েক মাস আগের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের হতাশার প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখছেন। চলতি বছরের মার্চে সেই ম্যাচে ভারতের করা ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ইংল্যান্ড মাত্র ৭ রানের জন্য হেরে বিদায় নিয়েছিল। এবার একই প্রতিপক্ষকে টানা চার ম্যাচে হারিয়ে তারা নিজেদের সামর্থ্য, গভীরতা এবং মানসিক দৃঢ়তার শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি টানা দ্বিতীয় হতাশাজনক দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এর আগে আয়ারল্যান্ডের কাছেও তারা ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। ফলে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা, ডেথ ওভারে বোলিং, ম্যাচ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা এবং দল নির্বাচনের কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় দ্রুত এসব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই এখন ভারতের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড: ২৫৭/৩ (২০ ওভার)
জস বাটলার ১৩১, হ্যারি ব্রুক অপরাজিত ৯৫; শিবম দুবে ২/২২।

ভারত: ২০১/৮ (২০ ওভার)
ঈশান কিষান ৫৬, তিলক ভার্মা ৫৩; স্যাম কারান ৩/৩৬।

ফল: ইংল্যান্ড ৫৬ রানে জয়ী। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ইংল্যান্ড জিতেছে ৪-০ ব্যবধানে।

মন্তব্য করুন