ফেরাটা সুখকর হলো না বিজয়ের

দীর্ঘ ৮ বছর পর আবার টেস্ট জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন এনামুল হক বিজয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিরতে পেরেছেন তিনি। সম্প্রতি, ব্যাট হাতে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে খারাপ সময় পার করা মুমিনুল হকের জায়গায় সেন্ট লুসিয়া টেস্টে বাংলাদেশ দল বিজয়কে সুযোগ দিয়েছে।

তবে প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি। দুই ইনিংসেই নিজের ব্যাটিংয়ে আক্ষেপের জন্ম দিয়েছেন বিজয়, যা ভক্তকূলের মনেও এক মিশ্র অনুভূতি তৈরি করেছে।

প্রথম ইনিংসের খেলা

সেন্ট লুসিয়ায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৬৮ রানের মাথায় ব্যাটার তামিম ইকবাল আউট হলে, ব্যাটিং ক্রিজে নামেন বিজয়। তিনি তখন নাজমুল হোসেন শান্তের সঙ্গে এক জুটি গড়েন এবং ৩৫ রানের সংযোজন ঘটান। শুরু থেকেই বিজয়ের ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য করা যায় ধীর, সতর্ক ও সাবলীল মানসিকতা।

প্রথম ইনিংসের ধীর গতির ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিলো, বিজয় একটি বড় ইনিংস খেলতে চলেছেন। কিন্তু, দূর্ভাগ্যক্রমে ধন-অভিসময়ে তা সম্ভব হয়নি। দলীয় ১০৫ রানে, অ্যান্ডারসন ফিলিপসের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্কোর ২৩ রানে তিনি ফেরেন প্যাভিলিয়নে। মূলত, আম্পায়ারের কলেই নিজের উইকেট হারাতে হলো বিজয়কে।

এটি বিজয়ের আন্তর্জাতিক ফেরা শুরুতেই দলের জন্য হতাশাজনক মুহূর্ত হয়ে রইল।

দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা

দ্বিতীয় ইনিংসে, দলীয় মাত্র ২২ রানের মাথায় মাহমুদুল হাসান জয় আউট হলে আবারও মাঠে নামেন বিজয়। সমর্থকরা আশা করেছিলেন বিজয় এবার বড় ইনিংস খেলবেন এবং দলের পক্ষে প্রতিশোধমূলক এক জুটি গড়ে তুলবেন।

কিন্তু, দ্বিতীয় ইনিংসেও বিজয় নিজেকে প্রত্যাশার উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারেননি। কেমার রোচের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে তিনি ফেরেন প্যাভিলিয়নে। রিপ্লেতে দেখা যায়, এই উইকেটও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে চলে যায়। ফলে সমর্থকরা পুনরায় আক্ষেপে শেষ হয়।

ফেরার পর বিজয়ের করণীয়

এবার দেখার বিষয়, রঙিন জার্সির ক্রিকেটে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন বিজয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে যে তার সামর্থ্য এবং ধৈর্য যথেষ্ট। আন্তর্জাতিক টেস্টে নিজের জায়গা পাকা করতে হলে এখন ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তা অপরিহার্য।

বিজয়ের জন্য এই অভিজ্ঞতা হতে পারে শিক্ষা এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও বেশি প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ।

বিজয়ের আন্তর্জাতিক ফেরাটা যদিও সুখকর হলো না, তবে তার ট্যালেন্ট ও ধৈর্য দেশের ক্রিকেটের জন্য আশা জাগিয়েছে। আগামি ম্যাচগুলোতে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ থাকছে, এবং সফলতার স্বাদ নিতে পারলেই হবে তার সত্যিকারের প্রতিশোধ।

Leave a Comment