ঢাকা লিগে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন আলিস আল ইসলামের

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন স্পিনার Aliss Al Islam। দীর্ঘ সময় ইনজুরি, বোলিং অ্যাকশন সংক্রান্ত জটিলতা এবং অনিয়মিত খেলার ধাক্কা সামলে তিনি বর্তমানে চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নজর কাড়ছেন। এবারের আসরে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলছেন এই স্পিনার এবং এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে আলিস আল ইসলামের নাম প্রথম আলোচনায় আসে Bangladesh Premier League (BPL)–এ তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। তরুণ বয়সেই রহস্যঘেরা স্পিন এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে তিনি সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি পান। ব্যাটসম্যানদের জন্য অস্বস্তিকর বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিংয়ের কারণে শুরুতেই তিনি আলোচনায় আসেন এবং ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুতই নিজের জায়গা করে নেন।

তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই বড় ধাক্কা আসে তার জন্য। বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে তাকে সাময়িকভাবে ছিটকে যেতে হয়। এই সিদ্ধান্তের পর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের অ্যাকশন সংশোধন করে পুনরায় বোলিংয়ের অনুমোদন পান তিনি। এরপর আবারও ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন আলিস।

পরবর্তীতে বিপিএলে ফের ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি আবারও আলোচনায় আসেন। ধারাবাহিক সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের টি–টোয়েন্টি স্কোয়াডে ডাক পান। তবে জাতীয় দলে ডাক পেলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার। এর মধ্যেই ইনজুরির কারণে তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়।

গত বছর নতুন করে চোটে পড়ায় প্রায় এক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন এই স্পিনার। ফলে তার ক্যারিয়ারের গতি আবারও থমকে যায়। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে সবশেষ বিপিএল দিয়েই তিনি মাঠে ফেরেন এবং সেখানেই আবারও কার্যকর বোলিং করে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন।

বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা তিনি ধরে রেখেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও। চলমান আসরে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে ১৯ উইকেট নিয়েছেন আলিস আল ইসলাম। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে অবস্থান করছেন। তার বোলিংয়ে রয়েছে নিয়ন্ত্রণ, বৈচিত্র্য এবং নিয়মিত উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা, যা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করেছে।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। এখানে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি উদীয়মান খেলোয়াড়রাও নিয়মিত অংশ নেন। ফলে এই টুর্নামেন্ট পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে জাতীয় দলে ফেরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমান উইকেটশিকারির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন Alauddin Babu। ঢাকা লিওপার্ডসের এই মিডিয়াম পেসার ছয় ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন। একই সংখ্যক ১৫ উইকেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন Abdul Gaffar Saklain, যিনি সাত ম্যাচ খেলেছেন।

চতুর্থ স্থানে রয়েছেন Mahfuzur Rahman Rabby। আবাহনীর এই স্পিনার সাত ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছেন। পঞ্চম স্থানে আছেন Mrityunjoy Chowdhury, যিনি মোহামেডানের হয়ে মাত্র চার ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকার করেছেন।

চলমান আসরে আলিস আল ইসলামের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ব্যাটিং লাইনআপের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণেও তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। ইনজুরি, অ্যাকশন জটিলতা এবং বিরতির পর ঘরোয়া ক্রিকেটে তার এই প্রত্যাবর্তন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment