আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকা অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বে বতসোয়ানার পেসার নাবিল মাস্টার ইতিহাস গড়েছেন। মালির বিপক্ষে মাত্র ২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে কম রান খরচায় ন্যূনতম ৬ উইকেট নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। একই দিনে রুয়ান্ডার ওপেনার হামজা খান খেলেছেন ১৬৪ রানের অপরাজিত এক বিধ্বংসী ইনিংস, যা সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
বতসোয়ানার রাজধানী গ্যাবোরনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নাবিল মাস্টার মাত্র ২.৪ ওভার বল করে এই কীর্তি গড়েন। তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ২ রান, ৬ উইকেট এবং ১ মেডেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ন্যূনতম ৬ উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে এত কম রান আগে কেউ দেননি।
এর আগে এই ধরনের সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের রেকর্ড ছিল সিঙ্গাপুরের লেগ স্পিনার হার্শা ভারদ্বাজের দখলে। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৪ ওভারে ২ মেডেনসহ ৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। নাবিল সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন।
নাবিল মাস্টারের রেকর্ড বোলিং
| পরিসংখ্যান | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিপক্ষ | মালি |
| ভেন্যু | গ্যাবোরন |
| বোলিং | ২.৪ ওভার |
| রান | ২ |
| উইকেট | ৬ |
| মেডেন | ১ |
| ম্যাচ ফল | বতসোয়ানার ১০ উইকেট জয় |
২০১৯ সালে বতসোয়ানার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল নাবিল মাস্টারের। সে বছর দুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেও তিনি পান মাত্র ১ উইকেট। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর গত শনিবার আবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমে ২ উইকেট নেন। অর্থাৎ, প্রথম তিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ শেষে তাঁর উইকেটসংখ্যা ছিল মাত্র ৩। কিন্তু পরের ম্যাচেই তিনি বতসোয়ানার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ৬ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
মালির ইনিংসে ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আসেন নাবিল। প্রথম ওভারটি মেডেন দিয়ে শুরু করেন তিনি। তখন পর্যন্ত মালির স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৮ রান। অষ্টম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে প্রথম বলেই উইকেট নেন। ওই ওভারে আরও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে মালির ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। পরে দশম ওভারে আরও ৩ উইকেট নিয়ে তিনি মালির ইনিংস শেষ করেন ২৫ রানে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নাবিলের নেওয়া ৬টি উইকেটই এসেছে জোড়ায় জোড়ায় টানা দুই বলে। অষ্টম ওভারের প্রথম দুই বলে তিনি দুটি উইকেট নেন। একই ওভারের শেষ বলেও উইকেট শিকারের পর দশম ওভারের প্রথম বলেই আবার উইকেট তুলে নেন। এরপর ওই ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলেও উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন। মালি ৯.৪ ওভারে ২৫ রানে অলআউট হয়। জবাবে বতসোয়ানা মাত্র ২.২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে।
একই দিনে গ্যাবোরনে অনুষ্ঠিত আরেক ম্যাচে রুয়ান্ডা ও আইভরি কোস্ট মুখোমুখি হয়। প্রথমে ব্যাট করে রুয়ান্ডা ২ উইকেটে ২৮৮ রান তোলে। ওপেনার হামজা খান ৬৫ বলে অপরাজিত ১৬৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কার মার।
হামজা খানের রেকর্ড ইনিংস
| পরিসংখ্যান | তথ্য |
|---|---|
| ব্যাটসম্যান | হামজা খান |
| দল | রুয়ান্ডা |
| প্রতিপক্ষ | আইভরি কোস্ট |
| রান | ১৬৪* |
| বল | ৬৫ |
| দলীয় সংগ্রহ | ২৮৮/২ |
| ম্যাচ ফল | রুয়ান্ডার ২৭১ রানের জয় |
সহযোগী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এর আগে রেকর্ডটি ছিল স্পেনের মোহাম্মদ ইহসানের দখলে। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৬৩ বলে ১৬০ রান করেছিলেন।
টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত করলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হামজার ১৬৪ রান এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ, যিনি ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭২ রান করেছিলেন।
২৮৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আইভরি কোস্ট মাত্র ১৫.২ ওভারে ১৭ রানে অলআউট হয়। ফলে রুয়ান্ডা ম্যাচটি জিতে নেয় ২৭১ রানের বিশাল ব্যবধানে।
![নাবিলের বিশ্ব রেকর্ড, হামজার ১৬৪ রানের ঝড় 1 নাবিলের বিশ্ব রেকর্ড হামজার ১৬৪ রানের ঝড় Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/05/নাবিলের-বিশ্ব-রেকর্ড-হামজার-১৬৪-রানের-ঝড়.png)