ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাটকীয়তা এবং আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা সমান্তরালে চলেছে। দিনের শেষ ভাগে মোহাম্মদ রিজওয়ানের আউটের পরপরই প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে আম্পায়াররা খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হন। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি ঘোষণা করা হয়। খেলা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত ৯০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩৪৯ রান। সফরকারীরা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৬৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
রিজওয়ান ও সালমানের লড়াকু জুটি
পাকিস্তানের ইনিংসের এক পর্যায়ে ২৩০ রানে ৫ উইকেট পড়ে গেলে স্বাগতিক বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসে। তবে ষষ্ঠ উইকেটে সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের অনবদ্য ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দেয়। তারা দুজনেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে সফরকারীদের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি নিয়ে যান। সালমান আলী আগা ৭৮ বলে তার ক্যারিয়ারের ১১তম টেস্ট অর্ধশতক পূর্ণ করেন। অন্যদিকে, মোহাম্মদ রিজওয়ান কিছুটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে ৬৮ বলে ১৩তম অর্ধশতকের দেখা পান। এই দুই ব্যাটার ১৫৭ বলে ১১৯ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন।
অবশেষে ইনিংসের ৯০তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন। তাইজুলের একটি বল সীমানার ওপর দিয়ে ওড়াতে গিয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ান টাইমিং গড়বড় করে ফেলেন এবং মাহমুদুল হাসান জয়ের তালুবন্দি হন। আউট হওয়ার আগে রিজওয়ান ৭৯ বলে ৫৯ রান করেন।
দিনের বিভিন্ন পর্যায়ের পরিসংখ্যান ও ঘটনাপ্রবাহ
মিরপুর টেস্টের এই রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির বিবর্তন এবং বিভিন্ন সেশনের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| পর্যায় বা সেশন | পাকিস্তানের রান/উইকেট | মূল ঘটনা ও অবদানকারী |
| দ্বিতীয় দিন শেষে | ১ উইকেটে ১৭৯ | আজান আওয়াইস (৮৫*), ইমাম-উল-হক (৪৫) |
| তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন | ৫ উইকেটে ২৫১ | তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী মিরাজের ২টি করে উইকেট |
| চা বিরতির আগে (বৃষ্টির সময়) | ৬ উইকেটে ৩৪৯ | সালমান আলী আগা (অপরাজিত), মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯) |
| ব্যক্তিগত মাইলফলক | – | আজান আওয়াইসের অভিষেক শতক, তাসকিনের ৫০ উইকেট |
বাংলাদেশের প্রথম সেশনের সাফল্য ও তাসকিনের মাইলফলক
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটি পুরোপুরি বাংলাদেশের দখলে ছিল। মাত্র ২৫ ওভার বল করে ৭২ রান খরচায় ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দিনের শুরুতেই সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস এবং অধিনায়ক শান মাসুদকে (৯) সাজঘরে পাঠিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন তাসকিন আহমেদ। উল্লেখ্য, আজান আওয়াইসকে আউট করার মাধ্যমে তাসকিন টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। আজান আওয়াইস অভিষেক টেস্টে শতক হাঁকানো পাকিস্তানের ১৪তম ব্যাটার হিসেবে ১৫৩ বলে তার শতক পূর্ণ করেছিলেন।
তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর স্পিন আক্রমণে ধার বাড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি অভিজ্ঞ সৌদ শাকিলকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলার পর আব্দুল্লাহ ফজলকেও আউট করেন। শাকিল রিভিউ গ্রহণ করলেও টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করত।
দ্বিতীয় দিনের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট
এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান সংগ্রহ করে। ৩৯তম জন্মদিনে মুশফিকুর রহিম রেকর্ড গড়া ৭১ রান করেন। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ১০৬ রান যোগ করে। যদিও ইমাম-উল-হক ৪৫ রানে আউট হন, তবে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল দিন শেষে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় ক্যাচ মিস করেন। পাকিস্তানের পক্ষে প্রথম ইনিংসে মোহাম্মদ আব্বাস ৯২ রান খরচায় ৫টি উইকেট লাভ করেন।
বর্তমানে মিরপুর টেস্ট এক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আকাশ পরিষ্কার হলে এবং পুনরায় খেলা শুরু হলে বাংলাদেশ চাইবে পাকিস্তানের অবশিষ্ট ৪টি উইকেট দ্রুত তুলে নিয়ে লিড বজায় রাখতে। অন্যদিকে, সালমান আলী আগার ওপর নির্ভর করবে পাকিস্তানের ইনিংসকে কতদূর টেনে নেওয়া সম্ভব।
