ডোপ পরীক্ষায় অনুপস্থিত দুই ভারতীয় ক্রিকেটার পড়েছেন বিপাকে

ভারতের জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা দুই জন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার যশস্বী জয়সওয়াল ও শেফালি ভার্মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দিয়েছে, কারণ তারা নির্ধারিত ডোপ পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই দুই ক্রিকেটার সংস্থার রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যেখানে থাকা ক্রীড়াবিদদের নিয়মিতভাবে নির্ধারিত সময় ও স্থানে ডোপ পরীক্ষার জন্য উপস্থিত থাকতে হয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে নারী ক্রিকেটার শেফালি ভার্মার বাসায় ডোপ কন্ট্রোল কর্মকর্তারা নমুনা সংগ্রহের জন্য যান, কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পুরুষ ক্রিকেটার যশস্বী জয়সওয়ালের কাছ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা তাকে উপস্থিত পাননি।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে “পরীক্ষায় অনুপস্থিত” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুলে থাকা ক্রীড়াবিদদের প্রতিনিয়ত তাদের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংস্থাকে জানাতে হয়, যাতে যেকোনো সময় হঠাৎ ডোপ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। নির্ধারিত ঠিকানা ও সময়ে ক্রীড়াবিদকে না পাওয়া গেলে সেটি নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয় এবং একে “মিসড টেস্ট” বা পরীক্ষায় অনুপস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দুই ক্রিকেটারকে শেষবারের মতো সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময়রেখা নিচে উপস্থাপন করা হলো—

তারিখঘটনা
গত বছরের ৭ নভেম্বরশেফালি ভার্মার বাসায় ডোপ পরীক্ষার জন্য গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরযশস্বী জয়সওয়ালের কাছে নমুনা সংগ্রহে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ প্রদান করা হয়, কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি
পরবর্তী ধাপ“পরীক্ষায় অনুপস্থিত” হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং চূড়ান্ত ব্যাখ্যার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ

রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুল ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ক্রীড়াবিদদের স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এই ব্যবস্থায় থাকা খেলোয়াড়দের জন্য অবস্থান জানানো বাধ্যতামূলক, যাতে যেকোনো সময় হঠাৎ পরীক্ষার মাধ্যমে নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা যায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই ক্রিকেটারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরবর্তী পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে বলে জানা গেছে।

Leave a Comment