মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বৃষ্টি-বিঘ্নিত লড়াইয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভার কমে আসা এই ম্যাচে স্বাগতিকরা ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয়। ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৯০ বলে ১০৩ রান।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও দ্রুতই ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইনিংস শুরু করেন এবং প্রথম দুই ওভারে দল কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৭ রান সংগ্রহ করে। সাইফ ১০ বলে ১৬ রান করার পর ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে টাইমিং মিস করেন, যার ফলে ২১ রানে প্রথম উইকেট হারায় দল।
এরপর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৩৫ রানে ফিরে যান অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং চার নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমন। শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে অধিনায়ক লিটন দাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি ১৭ বলে ২৩ রান করেন, তবে দলীয় স্কোর বড় করার প্রয়াসে আউট হয়ে গেলে চাপ আরও বেড়ে যায়।
মধ্যক্রমে তাওহীদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ২৪ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। তবে অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দল বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। মোট ৮ জন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ওভার সংখ্যা কমে এলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ডের বোলাররা শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের পেসার শরীফুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার ভেঙে দেন। তিনি ৩ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। তার গতির সামনে টিকতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানরা, যারা দলীয় ২৫ রানের মধ্যেই তিনটি উইকেট হারায়।
এরপর দলীয় ৩৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড, যখন নিক কেলিকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান। এতে করে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতেও চাপের মুখে পড়ে সফরকারীরা।
এই ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, আর দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। ফলে এই ম্যাচে জয় পেলে বাংলাদেশ সিরিজ নিশ্চিত করতে পারত, আর নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি ছিল সিরিজ সমতায় ফেরার সুযোগ।
নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বাংলাদেশ ইনিংস | ১০২ অলআউট (১৪.২ ওভার) |
| সর্বোচ্চ রান | তাওহীদ হৃদয় – ৩৩ (২৪) |
| লিটন দাস | ২৩ (১৭) |
| সাইফ হাসান | ১৬ (১০) |
| লক্ষ্য | ১০৩ রান (৯০ বল) |
| শরীফুল ইসলাম | ৩-১৯ (৩ ওভার) |
| নিউজিল্যান্ড টপ অর্ডার | ২৫ রানে ৩ উইকেট |
সার্বিকভাবে, ম্যাচটি বৃষ্টির প্রভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং শুরু থেকেই নাটকীয় মোড় নেয়।
![শরীফুলের আঘাতে চাপে নিউজিল্যান্ড, ব্যাটিং ধসে বাংলাদেশ 1 শরীফুলের আঘাতে চাপে নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং ধসে বাংলাদেশ Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/05/শরীফুলের-আঘাতে-চাপে-নিউজিল্যান্ড-ব্যাটিং-ধসে-বাংলাদেশ.png)