আইসিসির বার্ষিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়মিত সূচির অংশ হিসেবে প্রতি সপ্তাহের শেষে এবং বড় টুর্নামেন্টের পর দলীয় র‌্যাঙ্কিং হালনাগাদ করা হয়। তবে প্রতি বছরের মে মাসের শুরুতে প্রকাশিত বার্ষিক হালনাগাদটি দলগুলোর সামগ্রিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২০২৬ সালের সেই বার্ষিক হালনাগাদে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখিয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল।

আইসিসি শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারী ওয়ানডে দলের সর্বশেষ বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, তিন বছরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এই তালিকায় বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দলটি এই অগ্রগতির মাধ্যমে পাকিস্তানকে পিছনে ফেলেছে।

র‌্যাঙ্কিং প্রণয়নের ক্ষেত্রে আইসিসি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে। ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের ম্যাচগুলোকে শতভাগ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, তার আগের দুই বছরের পারফরম্যান্সকে ৫০ শতাংশ ওজন দিয়ে হিসাব করা হয়েছে। এই সমন্বিত মূল্যায়নের ফলেই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারী ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অস্ট্রেলিয়া তাদের আধিপত্য বজায় রেখে প্রথম স্থানে রয়েছে। তাদের পরে যথাক্রমে ইংল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা নিজেদের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে সপ্তম স্থানে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

নিচে নারী ওয়ানডে দলের শীর্ষ অবস্থানগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

অবস্থানদলরেটিং পয়েন্ট
অস্ট্রেলিয়া১৬৩
ইংল্যান্ড১২৮
ভারত১২৬
দক্ষিণ আফ্রিকা১০০
নিউজিল্যান্ড৯৩
শ্রীলঙ্কা৮৯
বাংলাদেশ৭৩

শীর্ষ দশের বাকি দলগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড যথাক্রমে নবম ও দশম স্থানে রয়েছে।

একইসঙ্গে আইসিসি পুরুষদের টেস্ট দলের বার্ষিক র‌্যাঙ্কিংও প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় অস্ট্রেলিয়া ১৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা ১১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে ভারত, যারা ১০৪ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলেছে। ইংল্যান্ড ১০২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে।

এছাড়া নিউজিল্যান্ড পঞ্চম অবস্থান ধরে রাখলেও শ্রীলঙ্কা এক ধাপ পিছিয়ে সপ্তম স্থানে নেমে গেছে এবং পাকিস্তান উঠে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে যথাক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম স্থানে রয়েছে।

র‌্যাঙ্কিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্তত আটটি টেস্ট না খেলায় আয়ারল্যান্ড তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একইসঙ্গে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে পুনরায় র‌্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে আগামী এক বছরের মধ্যে অন্তত দুটি টেস্ট খেলতে হবে।

আইসিসি জানিয়েছে, আসন্ন ৫ মে টি-টোয়েন্টি এবং ৭ মে পুরুষদের ওয়ানডে দলের বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হবে।

Leave a Comment