রানার ঝড়ে পাকিস্তান বিধ্বস্ত

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনীতে পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। পরে স্বচ্ছন্দ ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ১১৫ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ৮ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নাহিদ রানা। দ্রুতগতির এই পেসার সাত ওভারের বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ২৪ রান খরচায় তুলে নেন পাঁচটি উইকেট। এটি তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচটিও হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

ম্যাচের শুরুতে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নামলেও শুরুটা ছিল সতর্ক। প্রথম ৯ ওভার বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দশম ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তিনি ওপেনার শাহিবজাদা ফারহানকে আউট করে জুটি ভাঙেন। এরপর যেন একাই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন।

ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে শামিল হোসেনকে ফেরান নাহিদ। পরের শিকার ওপেনার মাজ সাদাকাত। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দুর্দান্ত আউটসুইং ডেলিভারিতে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। তাঁর পঞ্চম শিকার হন সালমান আগা। টানা পাঁচ ওভারে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং ভেঙে দেন এই তরুণ পেসার।

নাহিদের স্পেলে পাকিস্তান দ্রুত ধসে পড়লে অন্য বোলাররাও সুযোগ কাজে লাগান। মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি উইকেট নেন, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান নেন একটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ, আর ২৭ রান করেন শাহিবজাদা ফারহান।

নাহিদ রানা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া ১৭তম বোলার হিসেবে নাম লেখালেন। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর পরে চারবার করে এই কীর্তি আছে সাকিব আল হাসান ও আবদুর রাজ্জাকের।

নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—

বিষয়পরিসংখ্যান
পাকিস্তানের ইনিংস৩০.৪ ওভারে ১১৪ রান
বাংলাদেশের ইনিংস১৫.১ ওভারে ১১৫/২
ম্যাচের ফলবাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়
ম্যাচসেরানাহিদ রানা
নাহিদের বোলিং৭ ওভার, ২৪ রান, ৫ উইকেট
সর্বোচ্চ রান (পাকিস্তান)ফাহিম আশরাফ – ৩৭
সর্বোচ্চ রান (বাংলাদেশ)তানজিদ হাসান তামিম – ৬৭*

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৮২ রানের জুটি। শান্ত ২৭ রান করে আউট হলেও তানজিদ অপরাজিত থাকেন ৬৭ রানে। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কা।

শেষ পর্যন্ত ইফতারের আগেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। হাতে তখনও ছিল ২০৯ বল। বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে সিরিজে দুর্দান্ত সূচনা করল টাইগাররা।

Leave a Comment