অস্ট্রেলিয়া ভাবনায় বাংলাদেশ দল

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে এখন নতুন লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া সফর। এর আগে জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে একটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হওয়ায় দলের মূল মনোযোগ এখন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ঘিরেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই ‘উইনিং বোনাস’–এর বিধান রয়েছে। বড় সাফল্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বোনাস দেওয়ার নজিরও আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পরও বিসিবি ক্রিকেটারদের বোনাস দিতে চেয়েছিল। তবে এবার ক্রিকেটাররা ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে বোনাস না নিয়ে সেই অর্থ শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সুইমিংপুল নির্মাণ এবং জিম সংস্কারে ব্যয় করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মানসিকতার পরিবর্তনের প্রতিফলন মাঠের পারফরম্যান্সেও দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে স্পোর্টিং উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে নিরাপদ কৌশল হিসেবে ফ্ল্যাট উইকেট ব্যবহার করা হতে পারত। কিন্তু সিলেটেও একই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উইকেটেই খেলে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান কিছু সময় ম্যাচে চাপ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত সিরিজে ২–০ ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা।

বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার মনে করেন, এই সিরিজ জয় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে নতুন বার্তা দিয়েছে। তাঁর মতে, অনেক দল একটি টেস্ট জয়ের পর সিরিজ নিশ্চিত করতে পরবর্তী ম্যাচে ব্যাটিং–সহায়ক উইকেট তৈরি করে। আগে বাংলাদেশও এমন পথ অনুসরণ করত, তবে বর্তমান দল সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সাফল্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবালও। একই সঙ্গে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্ব পালন করা তামিম এই অর্জনের কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের কোচিং স্টাফ, ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগ ও মাঠসংশ্লিষ্ট সবাইকে। তাঁর মতে, এই সাফল্য পুরো দলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।

আগামী আগস্টে ২৩ বছর পর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে দল। বর্তমান স্কোয়াডের কোনো ক্রিকেটারেরই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা নেই, যা সফরটিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন দলকে আরও উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওপেনিং জুটি নিয়ে। তাঁর মতে, ওপেনাররা দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় তিন নম্বর ব্যাটসম্যানকে খুব তাড়াতাড়ি উইকেটে নামতে হচ্ছে, যা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে। শীর্ষ পাঁচে যেতে হলে ওপেনিং জুটির স্থিতিশীলতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ স্মৃতি অবশ্য ইতিবাচক। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের একটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই অভিজ্ঞতা দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিচে বাংলাদেশের আসন্ন সূচি তুলে ধরা হলো—

প্রতিপক্ষসিরিজের ধরনসময়ভেন্যু
জিম্বাবুয়ে১ টেস্ট, ৩ ওয়ানডেজুলাইজিম্বাবুয়ে
অস্ট্রেলিয়া২ টেস্টআগস্টঅস্ট্রেলিয়া

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টকে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছে। চোট বা ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন না হলে সম্ভাব্য সেরা দল নিয়েই মাঠে নামতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

হাবিবুল বাশারের বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম। তাঁর মতে, সিরিজ জয়ের দাবি না করলেও বর্তমান দল অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে। ঘরের মাঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার পর এবার ভিন্ন কন্ডিশনেও একই ধারাবাহিকতা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ দল।

Leave a Comment