বিসিবির কাছে জাহানারার অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন সোমবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি দলের ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। বিসিবি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, যা দীর্ঘসময় ধরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই জাহানারার অভিযোগের বিষয়ে আইনি অগ্রগতি ঘটে। হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার রুল জারি করেন। রুলে বিসিবিকে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, জাহানারার অভিযোগের বিষয়ে বিসিবি কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সে বিষয়েও আদালতকে বিস্তারিত অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিসিবির এক পরিচালক যুগান্তর বলেন, “স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ তদন্তের স্বার্থে হয়তো কমিটির কাজ কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়েছে। তবে তারা যথাযথভাবে জাহানারার অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন বোর্ডে জমা দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে এটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে পাঠানো হবে।” তিনি আরও জানান, “তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনা হবে, যাতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিষয়টি জানতে পারেন।”

জাহানারার অভিযোগ প্রথম প্রকাশিত হয় গত বছরের নভেম্বরে। তখন তিনি জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার, নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামসহ দলের ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের পর বিসিবি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমিটির কার্যক্রম ও সময়সীমা সংক্রান্ত তথ্য নিম্নলিখিতভাবে整理 করা যেতে পারে:

তারিখঘটনামন্তব্য
২০২৫ সালের নভেম্বরজাহানারা আলম অভিযোগ দায়েরসাবেক ম্যানেজার ও দলের ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে
২০২৫ সালের ডিসেম্বরবিসিবি তদন্ত কমিটি গঠনপাঁচ সদস্যের স্বাধীন কমিটি
২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারিপ্রাথমিক রিপোর্ট জমার সময়সীমাকমিটি দুইবার সময় বৃদ্ধি
২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারিরিপোর্ট বিসিবিতে জমাডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিহাইকোর্ট রুলবিসিবিকে প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ

বিসিবি জানায়, অভিযোগের তদন্তে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি সাক্ষ্যগ্রহণ, দলীয় নথি পর্যালোচনা এবং প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
এই ঘটনার পর নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও কোচিং-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসে বিসিবি আরও উদ্যোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

Leave a Comment