বগুড়ায় ঈদের নামাজ শেষে দেশবাসীকে মুশফিকের শুভেচ্ছা

মুসলমানদের বার্ষিক ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং আনন্দের দুটি দিন হলো ঈদ। যার অন্যতম একটি পবিত্র ঈদুল আজহা আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে যখনই সুযোগ পান এবং দেশে অবস্থান করেন, তখনই সাধারণ মানুষের মতো ছুটে যান নিজের প্রিয় জন্মভূমি বগুড়াতে। সেখানেই তিনি প্রতি বছর নিজ পরিবারের সকল সদস্যের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ঈদের অনাবিল আনন্দ ভাগাভাগি করে থাকেন।

ঈদের নামাজ আদায় ও শুভেচ্ছা বিনিময়

অন্যান্য বছরের মতো এবারের ঈদুল আজহাতেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী ধরমপুর-মাটিডালি নাজিম উদ্দিন জিলাদার ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন এবং নামাজ আদায় করেন ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। ঈদের নামাজ আদায় করা শেষে এই তারকা ক্রিকেটার ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। মুশফিকুর রহিম ও তাঁর সম্মানিত পিতা মাহবুব হামিদ একই সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই ঈদগাহ মাঠে ঈদের পবিত্র নামাজ আদায় সম্পন্ন করেন।

নিচে একটি সুবিন্যস্ত টেবিলের মাধ্যমে মুশফিকুর রহিমের ঈদের নামাজ ও তাঁর পরিবারের বক্তব্যের মূল বিবরণ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

ঈদের নামাজের স্থান ও শহরনামাজ আদায়কারী প্রধান সদস্যগণদেশবাসীর প্রতি মুশফিকের প্রধান বার্তাপরিবারের আফসোসের মূল কারণ
নাজিম উদ্দিন জিলাদার ঈদগাহ ময়দান, বগুড়ামুশফিকুর রহিম ও পিতা মাহবুব হামিদসাবধানতা অবলম্বন এবং অসহায়দের মাঝে আনন্দ ভাগ করানাতি মায়ানের শারীরিক অসুস্থতা ও জ্বর

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে মুশফিকুর রহিমের বক্তব্য

ঈদের জামাত এবং নামাজ শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আন্তরিক শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন মুশফিকুর রহিম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমি সর্বপ্রথম আমার প্রিয় এলাকাবাসী এবং সমগ্র দেশবাসী সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা সবাই যার যার পরিবারের সাথে সুস্থভাবে এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করবেন। এর পাশাপাশি আপনাদের পাড়া-প্রতিবেশী যারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষ আছেন— কোরবানি ঈদের প্রকৃত আনন্দ ও ত্যাগের মহিমা যেন তাদের সবাইকে সাথে নিয়ে সমভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়, সেই চেষ্টা করবেন।’

পিতার আনন্দ ও নাতির জন্য বিশেষ আফসোস

মুশফিকুর রহিমের নামাজ আদায় শেষে তাঁর পিতা মাহবুব হামিদ গণমাধ্যমের কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে একাধারে আনন্দ ও নাতিকে নিয়ে সামান্য আফসোস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘নিজের কর্মব্যস্ত ছেলের সঙ্গে এভাবে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে পারাটা এমনিতেই অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয়। মুশফিককে তো সহজে আমরা কাছে পাই না, একমাত্র এই ঈদের ছুটি ছাড়া তাকে আমরা নিজেদের মাঝে খুব একটা কাছে পাওয়ার সুযোগ পাই না।’

পরে নিজের নাতি এবং মুশফিকের পুত্র মায়ানের ঈদগাহ ময়দানে আসতে না পারার প্রকৃত কারণ উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে কেবল ছোট্ট নাতিটার জন্য একটু আফসোস লাগছে। ছেলেটার গায়ে আজ সকাল থেকে কিছুটা জ্বর এসেছে, যার কারণে অসুস্থতার জন্য তাকে আজ ঈদের মাঠে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। মায়ান যদি সুস্থ শরীরে মাঠে আসতে পারত, তাহলে আমরা তিন প্রজন্ম একসঙ্গে গত বছরের মতো এবারও জামাতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজটা আদায় করতে পারতাম।’ সব মিলিয়ে কিছুটা অসুস্থতার শঙ্কা থাকলেও পারিবারিক আবহে মুশফিকের ঈদ উদযাপনে আনন্দের কমতি ছিল না।

Leave a Comment