বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় পরিবর্তন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পুরুষ জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। আসন্ন ২০২৬ মৌসুম থেকে কেন্দ্রীয় চুক্তির সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে পরিচিত ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। বিসিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, তিন সংস্করণে নিয়মিত খেলার মতো পর্যাপ্ত ক্রিকেটার না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কেবল আর্থিক কাঠামোর পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনার নতুন বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করছে।

বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটি ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তির একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেছে। প্রাথমিকভাবে ২৭ জন ক্রিকেটারকে এই চুক্তির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও তালিকাটি ও নতুন বেতন কাঠামো এখনও বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়, তবে নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে আসন্ন মৌসুমে আর ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি থাকছে না।

২০২৫ সালে বিসিবি তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনে। আগে যেখানে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি—এই তিন সংস্করণভিত্তিক আলাদা গ্রেডিং ছিল, সেখানে তা বাতিল করে একক কাঠামোয় পাঁচটি স্তর চালু করা হয়: এ প্লাস, এ, বি, সি ও ডি। এ প্লাস ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছিল সেই সব ক্রিকেটারকে, যারা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিন সংস্করণেই নিয়মিত খেলতেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমান বাংলাদেশ দলে এমন কোনো ক্রিকেটার নেই, যিনি ধারাবাহিকভাবে সব সংস্করণে খেলছেন।

বিসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ প্লাস ক্যাটাগরি বাদ দেওয়া কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নয়। বরং এটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন ফরম্যাটভিত্তিক বিশেষায়ন ও খেলোয়াড়দের কর্মভার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে আগের মতো তিন সংস্করণে নিয়মিত খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমে আসাটাই স্বাভাবিক।

এই নতুন তালিকায় প্রজন্মগত পরিবর্তনের ছাপও স্পষ্ট। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণার পর এবার আর তালিকায় নেই। তবে গত বছরের চুক্তিভুক্ত ২১ জন ক্রিকেটার এবারও জায়গা ধরে রেখেছেন, যা দল নির্বাচনে ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়।

একই সঙ্গে ছয়জন নতুন ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বোর্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকটি পরিষ্কার হয়। নতুনদের মধ্যে রয়েছেন সীমিত ওভারের সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও পারভেজ হোসেন ইমন। পাশাপাশি আছেন সাইফ হাসান, অফ স্পিনার নাঈম হাসান, বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম এবং পেসার হাসান মুরাদ। এই সংযোজন বিসিবির মূল খেলোয়াড়ভিত্তি বিস্তৃত করার কৌশলকেই তুলে ধরে।

চুক্তির তালিকায় নিয়মিতভাবে রয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকসহ অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বিত একটি দল।

কেন্দ্রীয় চুক্তির সারসংক্ষেপ (প্রস্তাবিত)

বিষয়তথ্য
মোট খেলোয়াড়২৭ জন
এ প্লাস ক্যাটাগরি২০২৬ সালে বাতিল
চুক্তির স্তরএ, বি, সি, ডি
নতুন অন্তর্ভুক্ত৬ জন
আগের বছর থেকে বহাল২১ জন
উল্লেখযোগ্য বাদমাহমুদুল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত)

চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এই নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি কাঠামো বাংলাদেশের দল নির্বাচন, খেলোয়াড় রোটেশন ও কর্মভার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন ধীরে ধীরে

Leave a Comment