বিশাখাপত্তনমের ডক্টর ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডি এসিএ-ভিডিসিএ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডব দেখালেন শিবম দুবে। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করলেও, দিনশেষে তাঁর সেই বিধ্বংসী ইনিংস ম্লান হয়ে গেছে দলের বড় ব্যবধানে হারের কারণে। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২১৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ১৬৫ রানে অলআউট হয়ে ৫০ রানে পরাজিত হয়েছে। তবে এই হারের পরেও পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আগেই ট্রফি নিশ্চিত করে রেখেছে স্বাগতিকরা।
দুবের ব্যাটিং তাণ্ডব ও সোধির দুঃস্বপ্ন
ম্যাচের এক পর্যায়ে ইশ সোধির ওপর দিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ঝড় বইয়ে দেন শিবম দুবে। ওভারের প্রথম বলে দুই রান নেওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ বলে তিনি বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দেন। ওভারের স্কোরকার্ডটি ছিল অনেকটা এমন: ২, ৪, ৬, ৪, ৬, ৬। এক ওভারেই ২৮ রান সংগ্রহ করে দুবে তাঁর বিধ্বংসী মেজাজের পরিচয় দেন। ১৫ বলে ফিফটি ছুঁয়ে তিনি ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন।
ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি ফিফটির সংক্ষিপ্ত তালিকা:
| ক্রিকেটার | বলের সংখ্যা | প্রতিপক্ষ ও সাল |
| যুবরাজ সিং | ১২ | ইংল্যান্ড (২০০৭) |
| অভিষেক শর্মা | ১৪ | নিউজিল্যান্ড (২০২৬) |
| শিবম দুবে | ১৫ | নিউজিল্যান্ড (২০২৬) |
ব্যাটিং বিপর্যয় ও দুর্ভাগ্যজনক সমাপ্তি
রান তাড়া করতে নেমে ভারত শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে। গত ম্যাচে ১৪ বলে ফিফটি করা অভিষেক শর্মা এবার প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও ব্যক্তিগত ৪ রানে বিদায় নিলে মাত্র ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ভারত। মিডল অর্ডারে সঞ্জু স্যামসনের ১৫ বলে ২৪ এবং রিংকু সিংয়ের ৩০ বলে ৩৯ রানের ইনিংস ভারতকে আশার আলো দেখাচ্ছিল। এরপর ছয় নম্বরে নামা শিবম দুবে ২৩ বলে ৬৫ রানের (৩টি চার ও ৭টি ছক্কা) বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে ভারতকে জয়ের কক্ষপথে ফিরিয়েছিলেন।
তবে দুবের ইনিংসটির সমাপ্তি ছিল অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ১৫তম ওভারের শেষ বলে হর্ষিত রানার সোজাসুজি মারা একটি শট বোলার ম্যাট হেনরির আঙুল ছুঁয়ে স্টাম্পে আঘাত করে। ওই সময় দুবে নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে লাইনের বাইরে থাকায় রানআউটের শিকার হন। তাঁর বিদায়ের সময় ভারতের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৪৫। এরপর মাত্র ২০ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
কিউইদের ব্যাটিং ও সিরিজ পরিস্থিতি
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও টিম সেইফার্ট ভারতীয় বোলারদের শাসন করে উদ্বোধনী জুটিতেই ১০০ রান তুলে ফেলেন। সেইফার্টের ৩৬ বলে ৬২ এবং কনওয়ের ৪৪ রানের পর ড্যারিল মিচেলের ১৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসে কিউইরা ২১৫ রানের পাহাড় গড়ে। ভারতের পক্ষে অর্শদীপ সিং ও কুলদীপ যাদব দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
সংক্ষিপ্ত ফলাফল:
নিউজিল্যান্ড: ২১৫/৭ (২০ ওভার)
ভারত: ১৬৫/১০ (১৮.৩ ওভার)
ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৫০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: টিম সেইফার্ট।
সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন নেহাতই আনুষ্ঠানিকতা হলেও, কিউইদের জন্য এটি ছিল হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর স্বস্তির জয়। অন্যদিকে, ভারতীয় দলের জন্য দুবে ও অভিষেকের এই বিধ্বংসী ফর্ম আসন্ন বিশ্ব আসরের আগে বড় এক ইতিবাচক সংকেত।
![দুবের রেকর্ডগড়া ফিফটি সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের কাছে পর্যুদস্ত ভারত 1 দুবের রেকর্ডগড়া ফিফটি সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের কাছে পর্যুদস্ত ভারত Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/01/দুবের-রেকর্ডগড়া-ফিফটি-সত্ত্বেও-নিউজিল্যান্ডের-কাছে-পর্যুদস্ত-ভারত.jpg)