রূপকথা লেখা হলো না রিপন মণ্ডল ও আবদুল গাফফার সাকলাইনের। শেষ পর্যন্ত সুপার ওভারের হতাশায় থামল বাংলাদেশ ‘এ’ দলের আকাঙ্ক্ষা। দোহায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের শিরোপা লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল পাকিস্তান শাহিনস, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে।
১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ ‘এ’ যেন এক ভয়াবহ পতনের সাক্ষী। ৩৬ রানে দৃঢ় শুরুর পর হাবিবুর রহমানের উইকেট পতনেই শুরু ধস। মাত্র ১৭ রানে হারায় ৬ উইকেট, স্কোরবোর্ড তখন ৫৩/৭। অভিজ্ঞতা, চাপ মোকাবিলা এবং ব্যাটিং গভীরতার ঘাটতি—সব দুর্বলতাই একে একে প্রকাশ পায় ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।
তবে এরপরই শুরু হয় রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন। দুই পেসার রিপন মণ্ডল ও সাকলাইন শেষ ব্যাটার হয়েও গড়েন অকল্পনীয় লড়াই। পাকিস্তান ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়া রিপনের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ১১ রান, আর সাকলাইন খেলেন ১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। অদম্য জেদে ১৯তম ওভারে তোলেন ২০ রান, যদিও শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ৭ রান তুলতে পারেননি। শেষ বলে নেয়া এক রান ম্যাচকে নিয়ে যায় সুপার ওভারে, যেখানে তারা আর নিজেদের সেরাটুকু দিতে পারেননি।
সুপার ওভারে ৬ রানে অলআউট হওয়ার পর রিপনের করা ওভারের লক্ষ্য ছিল মাত্র ৭। সাদ মাসুদ ও মাজ সাদাকাত চার বলেই সেই লক্ষ্য অর্জন করে ট্রফি নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের জন্য।
বাংলাদেশ ‘এ’-র বোলারদের সাফল্যও তাই ঢাকা পড়ে যায়। রিপন ৩ উইকেট এবং রাকিবুল ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ১২৫ রানে গুটিয়ে দেন। বিশেষ করে সাদ মাসুদের ৩৮ রানের ইনিংসই পাকিস্তানকে প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ এনে দেয়।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল শিরোপার দরজা পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসার গল্প—যেখানে লড়াই ছিল, আশা ছিল, ছিল প্রতিভার ঝলক; কিন্তু শেষ ধাপে অভিজ্ঞতার ঘাটতি আর চাপ সামলানোর ব্যর্থতাই থামিয়ে দিল স্বপ্নপূরণের পথ।
