ঠিক অভিভাবকের মতো: অন্তরালে ঝাড়খণ্ড অনূর্ধ্ব-১৯ টিমকে “জয়মন্ত্র” ধোনির

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনি আর বিশেষ শিরোনাম বা খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন না। বছরে দু’মাসের আইপিএল ব্যতীত সাধারণ সময়গুলোতে তিনি নীরবে থাকেন, এবং তাঁর দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে আসে না। ‘থালা’র ভক্তরা এই সময়টুকুই তাঁর খেলার জ্যোতি দেখতে পান, এবং তারই আগাম আরাধনায় মাত হয়ে ওঠে। বছরের বাকি দশ মাসে, ধোনির কার্যক্রম বা তিনি ঠিক কি করছেন, তা সাধারণ মানুষ জানতে পারে না। মাঝে মাঝে কোনও অনুষ্ঠানে গিয়ে দু’একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তিনি দিতে পারেন, আর তাতেই সীমাবদ্ধ থাকে খবরের শিরোনাম।

কিন্তু যা সকলের অজানা, তা হলো ধোনি সম্পূর্ণ অন্তরালে থেকে কীভাবে ঝাড়খণ্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন। তিনি তাদের সঙ্গে রীতিমতো পেপ-টক শেয়ার করেন, জয়মন্ত্র দেন। আর এটি কোনো ঢাকঢোল বা আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে নয়, বরং একেবারেই অনাড়ম্বরে, শান্ত এবং প্রভাবশালী উপস্থিতিতে।

আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে কোচবিহার ট্রফিতে খেলতে নামবে ঝাড়খণ্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তাদের প্রথম ম্যাচ হবে সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে। জানা গেছে, ধোনির মিনিট চল্লিশেকের সেশনে ক্রিকেটাররা এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে শুরুতে বাক্যহারা হয়ে যান। স্বাভাবিকভাবেই—সামনে যে বসে আছেন দু’বারের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক!

শুনতে পাওয়া গেছে, ক্রিকেটারদের নিশ্চুপ দেখতে পেয়ে ধোনি মজা করে বলেছেন, “যদি কোনও প্রশ্ন না থাকে, আমি চলে যাব। তাই কিছু জানতে চাইলে বা কিছু বলতে চাইলে, নির্দ্বিধায় বলো।”

ধোনি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের দুটি মূল মন্ত্র দিয়েছেন:

১) মাইন্ডগেমের গুরুত্ব: শুধুমাত্র স্কিল নিয়ে খাটাখাটনি করলে চলবে না। ক্রিকেট মূলত মানসিক খেলা। যার মানসিক শক্তি বেশি, তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ধোনি ঝাড়খণ্ডের জুনিয়র নির্বাচক অরিন্দম ঘোষের কথা টেনেছেন। অরিন্দম কিপার হিসেবে প্রযুক্তিগতভাবে ভালো হলেও মানসিকভাবে পিছিয়ে ছিলেন। ধোনির মতে, মানসিক শক্তি ছাড়া স্কিল থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেটে উন্নতি সম্ভব নয়।

২) ভালো শুরুকে বড় অর্জনে রূপান্তর করা: ৩০–৪০ রান করলে তৃপ্ত হয়ে পড়া যাবে না। ক্রিকেটাররা ভাববেন না যে ইতিমধ্যেই বড় কিছু অর্জন হয়েছে। একটি ভালো শুরু পেলে সেটিকে বড় রানে রূপান্তর করতে হবে।

ঝাড়খণ্ড ক্রিকেট সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এত বড় তারকা হলেও ধোনি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাটিতে বসে ক্লাস দিয়েছেন, কোনো চেয়ার বা টেবিল ছাড়াই। এটি এক কথায় অনবদ্য এবং অনন্য। প্রকৃতপক্ষে, ধোনি কখনও মহাতারকাদের সাধারণ নিয়মে চলেননি, বরং তারই জন্য তিনি প্রেরণার এক অবিচ্ছেদ্য উৎস।

Leave a Comment