সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক শন উইলিয়ামসের মাদকাসক্তির স্বীকারোক্তি, জাতীয় দল থেকে চিরবিদায়

সাবেক জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট অধিনায়ক শন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, মাদকাসক্তির কারণেই তিনি সাম্প্রতিক কিছু ম্যাচে খেলতে পারেননি। এই স্বীকারোক্তির পর তাঁকে আর কখনো জাতীয় দলে বিবেচনা করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড (ZC)।

বোর্ড মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, সেপ্টেম্বর মাসে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ঠিক আগমুহূর্তে উইলিয়ামস হঠাৎ করেই দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট তদন্ত শুরু করলে, সেখানে উইলিয়ামস জানান যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছেন এবং নিজ উদ্যোগে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন।

বোর্ডের ধারণা, সম্ভাব্য ড্রাগ টেস্টের আশঙ্কায়ই হয়তো ওই টুর্নামেন্টে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন উইলিয়ামস। সেই টুর্নামেন্টেই আয়োজক দেশ হিসেবে জিম্বাবুয়ে আট দলের আফ্রিকান প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী বছর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

ZC কোনো বিস্তারিত জানায়নি, উইলিয়ামস ঠিক কোন মাদক গ্রহণ করেছিলেন। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাঁর আগে থেকেই শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বারবার অনুপস্থিত থাকার মতো সমস্যা ছিল। তবুও তাঁকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসা করেছে বোর্ড।

৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটারকে আর কখনো জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করা হবে না এবং তাঁর চুক্তিও চলতি বছরের শেষে শেষ হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট।

শন উইলিয়ামস ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন এবং দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের হয়ে খেলেছেন ২৪টি টেস্ট, ১৬৪টি ওয়ানডে ও ৮৫টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ। তাঁর সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস ১৫৪ রান, যা করেছিলেন গত ডিসেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

এর আগেও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটে এমন কেলেঙ্কারি ঘটেছিল। ২০২২ সালে আরেক সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর প্রকাশ করেছিলেন, কোকেন ব্যবহারের কারণে তিনি ম্যাচ–ফিক্সারদের দ্বারা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছিলেন। যদিও টেলর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন, তিনি স্বীকার করেন যে ভারতের এক সফরে তিনি ফিক্সারদের কাছ থেকে ১৫,০০০ মার্কিন ডলার গ্রহণ করেছিলেন।

পরে তাঁকে ক্রিকেটের দুর্নীতি–বিরোধী আইন ভঙ্গ এবং কোকেন–জাত পদার্থ পরীক্ষায় পজিটিভ আসার জন্য তিন বছর ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ৩৯ বছর বয়সী টেলর চলতি বছরের আগস্টে জাতীয় দলে ফেরেন।

Leave a Comment