রেনশো ঝড়ে অস্ট্রেলিয়ার বড় স্কোর

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। প্রথম ছয় ওভারের পাওয়ারপ্লেতেই স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের শীর্ষ ব্যাটিং অর্ডার। নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশ দ্রুত প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয়।

ইনিংসের শুরুতে নাসুম আহমেদ ও নাহিদ রানা গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। এরপর মোস্তাফিজুর রহমান পাওয়ারপ্লের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শকে আউট করলে ছয় ওভারে স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট। তখন ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল এবং মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হবে।

কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় চতুর্থ উইকেট জুটি। ম্যাট রেনশো ও টিম ডেভিড ধীরে নয়, বরং আক্রমণাত্মক মানসিকতায় ব্যাটিং শুরু করেন। বিশেষ করে স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে তাদের পাল্টা আঘাত ম্যাচের গতি বদলে দেয়। রিশাদের এক ওভারেই রেনশো টানা তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন। মাত্র উনত্রিশ বলে তিনি অর্ধশতক পূর্ণ করেন।

অন্যদিকে টিম ডেভিডও সমান আগ্রাসী ব্যাটিং করে রান বাড়াতে থাকেন। তিনি বাংলাদেশের ফিল্ডিং ও বোলিং পরিকল্পনাকে বারবার ভেঙে দেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগত পঁয়তাল্লিশ রানে আউট হন, ততক্ষণে অস্ট্রেলিয়া বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে ফেলে।

রেনশো এক প্রান্তে স্থির থেকে ইনিংসকে এগিয়ে নেন এবং শেষ পর্যন্ত দারুণ ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অপরাজিত থাকেন। তিনি বাহান্ন বল খেলে ঊননব্বই রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল একাধিক চার ও ছক্কার মার। শেষদিকে দ্রুত রান তোলায় অস্ট্রেলিয়া বিশ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে একশো ছিয়ানব্বই রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়।

বাংলাদেশ শুরুতে ভালো বল করলেও মাঝের ওভারগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। বিশেষ করে স্পিনারদের ওপর অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের আক্রমণে রানরেট দ্রুত বেড়ে যায়। ফিল্ডিংয়েও কিছু ভুল সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় চাপ আরও বাড়ে।

ইনিংস পরিসংখ্যান

দলরানউইকেটওভারসর্বোচ্চ স্কোর
অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দল১৯৬২০ম্যাট রেনশো অপরাজিত ৮৯
বাংলাদেশ জাতীয় দললক্ষ্য ১৯৭

জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন একশো সাতানব্বই রান। এই লক্ষ্য তাড়া করতে হলে ওপেনিং জুটিকে দায়িত্বশীল শুরু এনে দিতে হবে। পাশাপাশি মধ্যক্রমের ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা এবং শেষ দিকে কার্যকর ফিনিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ অভিজ্ঞ ও বৈচিত্র্যময়, যা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন করে তুলবে। ফলে ম্যাচটি এখন উত্তেজনাপূর্ণ রান তাড়ার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রতিটি ওভারই নির্ধারণ করতে পারে জয়-পরাজয়ের ভাগ্য।

Leave a Comment